সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ক্যালিফোর্নিয়া : ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোর (Palo Alto) অন্যতম অভিজাত এলাকা ক্রেসেন্ট পার্ক (Crescent Park), যেখানে গাছপালায় ঢাকা বিলাসবহুল বাড়িগুলির সারি, আর বাস করেন ধনী আইনজীবী, প্রভাবশালী উদ্যোক্তা ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। বহু দশক ধরে শান্ত, সৌহার্দ্যময় পরিবেশে ভরা এই পাড়া আজ প্রায় অশান্ত হয়ে উঠেছে এক ব্যক্তির কারণে, মেটা (Meta)-র কর্ণধার মার্ক জ়ুকারবার্গ (Mark Zuckerberg)।
প্রায় ১৪ বছর আগে এখানে আসেন জ়ুকারবার্গ। সেই থেকে এলাকায় তাঁর ‘উপস্থিতি’ নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ তাঁকে সরাসরি দেখা যায় খুবই কম। কিন্তু তাঁর বিলাসী ও সুরক্ষিত জীবনযাত্রার ধাক্কা যেন ক্রমশ গ্রাস করছে পাড়ার পুরনো শান্তি। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একের পর এক প্রতিবেশী নাকি বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন, কারও কারও রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে নির্মাণকাজ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অতিরিক্ত কড়াকড়ি। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ, ক্রেসেন্ট পার্কের এজউড ড্রাইভ (Edgewood Drive) এবং হ্যামিল্টন অ্যাভিনিউ (Hamilton Avenue)-এ জ়ুকেরবার্গের রয়েছে মোট ১১টি বাড়ি, এগুলির জন্য তিনি খরচ করেছেন প্রায় ১১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৯৬৪ কোটি টাকা)। কোনও কোনও বাড়ি কিনতে মালিককে দিতে হয়েছে বাজারদরের দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ দাম, যেমন ১৪.৫ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয় এক বাড়ি। এরপর অনেক পুরনো বাসিন্দা পাড়াছাড়া হয়েছেন।
তবে সব বাড়িতেই যে জাকারবার্গ থাকেন, তা নয়। পাঁচটি বিলাসবহুল আবাস মিলে গড়ে উঠেছে একটি বিশাল কম্পাউন্ড, যেখানে মূল বাড়ি ছাড়াও রয়েছে অতিথিশালা, সবুজ বাগান, পিকলবল কোর্ট, সুইমিং পুল, এমনকী তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানের (Priscilla Chan) সাত ফুট উঁচু মূর্তি। উঁচু বেড়ায় ঘেরা পুরো প্রাঙ্গণে বাইরের লোকের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব। ফলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিত্যদিনের সৌজন্যমূলক সম্পর্কও এখানে অনুপস্থিত।

অন্যদিকে, ফাঁকা পড়ে থাকা একটি বাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে বিনোদন ও পার্টির জন্য, আরেকটিতে চলছে একটি বেসরকারি স্কুল যেখানে ১৪ জন শিশু পড়ে। কিন্তু শহরের আইন অনুযায়ী এই পাড়ায় স্কুল চালানোর অনুমতি নেই। তবুও কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, অভিযোগ প্রতিবেশীদের।সবচেয়ে বড় অসন্তোষের কারণ আট বছর ধরে চলা একটি বেসমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প। ৭,০০০ বর্গফুট বিস্তৃত ওই বেসমেন্টের জন্য দিনরাত মালবোঝাই ট্রাকের আসা-যাওয়া, ভারী যন্ত্রপাতির আওয়াজ, হাতুড়ির ঠকঠক, সব মিলিয়ে পরিবেশ যেন ক্রমশ অসহনীয়। সঙ্গে রয়েছে সিসিটিভি নজরদারি, যা শুধু জ়ুকেরবার্গের বাড়িই নয়, প্রতিবেশীদের সম্পত্তিও ক্যামেরাবন্দী করছে বলে অভিযোগ। এ ছাড়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের প্রশ্নোত্তর ও ছবি তোলার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
যদিও জ়ুকারবার্গের মুখপাত্র অ্যারন ম্যাকলিয়ার (Aaron McLear) দাবি করেছেন, ‘‘মার্ক, প্রিসিলা ও তাঁদের সন্তানরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্কে থাকতে চান। নিরাপত্তার কারণে কিছু নিয়ম মানতে হয়, যা এড়ানো সম্ভব নয়। তাঁরা এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।’’ তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ভিন্ন। প্রতিবেশী মাইকেল কিয়েশ্নিক (Michael Kieschnick), যিনি ৩০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন, বলেন, ‘‘আমাদের বাড়ি তিন দিক থেকে জ়ুকেরবার্গের সম্পত্তি দিয়ে ঘেরা। চড়া দামে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু আমি যেতে চাই না। ধনকুবেররা সব জায়গায় নিজেদের নিয়ম চাপিয়ে দেন, আর জ়ুকারবার্গ-চ্যান দম্পতি তার ব্যতিক্রম নন। শুধু পার্থক্য, তাঁরা আমাদের প্রতিবেশী।’’
২০১৬ সালে শহরের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী বোর্ড জ়ুকারবার্গের কম্পাউন্ড নির্মাণের প্রস্তাব নাকচ করেছিল। কিন্তু তিনি ধীরে ধীরে বাড়ি কিনে নিজস্ব রাজত্ব গড়ে তুলছেন, এমনই ধারণা প্রতিবেশীদের। স্কুল থেকে শুরু করে সার্বক্ষণিক নির্মাণকাজ, সব মিলিয়ে একসময় শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ ক্রেসেন্ট পার্ক আজ যেন এক অভিজাত ‘ক্লান্তির পাড়া’।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Elon Musk vs Mukesh Ambani | স্টারলিঙ্কের আগেই মাঠে মুকেশ আম্বানি




