CPIM China Visit | চিনের আমন্ত্রণে বেজিং সফরে সিপিএম শীর্ষ নেতৃত্ব

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : চিনের কমিউনিস্ট পার্টি (CPC) এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিআই(এম) (CPIM) -এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্ক বিদ্যমান। সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এ বার চিন সফরে গেলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি (M.A. Baby) -এর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এক প্রতিনিধিদল সোমবার গভীর রাতে বেজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এক সপ্তাহব্যাপী এই সফরে দু’দেশের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক ও উন্নয়ন নীতি নিয়ে মতবিনিময় হওয়ার কথা। সিপিএমের এই সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং চিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার নতুন অধ্যায়ও হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এই সফরে এম এ বেবির সঙ্গে রয়েছেন সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Mohammed Salim), ত্রিপুরার রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী (Jitendra Choudhury), পলিটব্যুরোর সদস্য আর অরুণ কুমার (R. Arun Kumar), কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী কে হেমলতা (K. Hemalata) এবং সি এস সুজাতা (C.S. Sujatha)। ছয়জনের এই প্রতিনিধিদল চিনে গিয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।সিপিএম নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, এই সফরে মূলত চিন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত নীতির আদানপ্রদান করা হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বাণিজ্যনীতি এবং শ্রমিক আন্দোলন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দু’দেশের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথ খুলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, চিনের কমিউনিস্ট পার্টি এই ধরনের সফরের মাধ্যমে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে, অন্যদিকে সিপিএমও এ ধরনের সফরে নিজেদের আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদার করতে চাইছে। বিশেষত, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সিপিএমের সংগঠনের শক্তি যেভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে, সেখানে চিন সফরের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে তারা।পশ্চিমবঙ্গ সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এ প্রসঙ্গে বলেন, “কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, এটা এক ধরনের শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতাও। উন্নয়নের নীতি, জনগণের জীবনের সঙ্গে যুক্ত ইস্যু, এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আমরা চিনের পার্টি থেকে শিক্ষা নেব। একইভাবে আমরাও আমাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব।”

ত্রিপুরার রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীও সফরের গুরুত্ব নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “কমিউনিস্ট আন্দোলন সর্বদা আন্তর্জাতিকতাবাদী। চিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া আমাদের আন্দোলনকে আরও সমৃদ্ধ করবে। একইসঙ্গে শ্রমিক, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের জন্য লড়াইয়ে কীভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময় হবে।”

উল্লেখ্য, এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিপিএম নেতৃত্বের এই সফর চিন-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক বছরে সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বামপন্থী নেতৃত্বের এই সফর চিনের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। অন্যদিকে, দেশীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েও আলোচনার অন্ত নেই। কারণ, ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে সিপিএম বর্তমানে অনেকটাই কোণঠাসা। তাদের এই আন্তর্জাতিক সফর কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তবে আরেক অংশের মতে, এই সফর শুধুমাত্র প্রতীকী নয়, বরং সংগঠনের ভিত শক্ত করার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এম এ বেবি সফরের আগে সাংবাদিকদের বলেন, “চিন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সম্পর্ক বহুদিনের। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং উন্নয়ন নীতি নিয়ে আলোচনা করার জন্যই আমাদের এই সফর। আমরা বিশ্বাস করি, এটি আমাদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।”

বিশেষ সূত্রের খবর, চিন সফরের সময় সিপিএম নেতারা চিনের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন, যেখানে তারা স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প এবং সামাজিক কাঠামোও পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁদের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দলের মধ্যে আরও যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাম রাজনীতির ইতিহাসে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর চিন এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী কমিউনিস্ট শাসিত দেশ। সেই দেশে গিয়ে সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে চিনা নেতাদের মতবিনিময় নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সফরের বাস্তবিক প্রভাব কতটা হবে, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে আপাতত রাজনৈতিক মহল নজর রাখছে বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকগুলির দিকে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Minakshi Mukherjee, DYFI | নতুন দায়িত্বে ধ্রুব, মুখপত্রে সরোজ: যুব সংগঠন থেকে বিদায় নিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন