Coal Gasification India, BCGCL MCL project | লক্ষ্মণপুরে কয়লা থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট প্রকল্প, ২৫,০০০ কোটি টাকার চুক্তিতে বড় পদক্ষেপ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের জ্বালানি ও রাসায়নিক শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। কয়লা গ্যাসিফিকেশন (Coal Gasification) প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হল ভারত কোল গ্যাসিফিকেশন অ্যান্ড কেমিক্যালস লিমিটেড (Bharat Coal Gasification and Chemicals Limited বা BCGCL) এবং মহানদী কোলফিল্ডস লিমিটেড (Mahanadi Coalfields Limited বা MCL)-এর মধ্যে। ওড়িশার (Odisha) লক্ষ্মণপুরে (Lakhanpur) প্রস্তাবিত ‘কয়লা থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট’ প্রকল্পের জন্য জমি লিজ সংক্রান্ত এই চুক্তি দেশের শিল্পক্ষেত্রে এক বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি -এর (G Kishan Reddy) উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২০০০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি ভারতের প্রথম কয়লা গ্যাসিফিকেশন প্রকল্প যেখানে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা তৈরি করেছে ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (Bharat Heavy Electricals Limited বা BHEL)।

আরও পড়ুন : Coal Ministry Chintan Shivir | কয়লা খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা: শক্তি নিরাপত্তা থেকে টেকসই উন্নয়নে জোর কেন্দ্রের

এই প্রকল্পটি প্রায় ৩৫০ একর জমির উপর গড়ে উঠবে, যা এমসিএল (MCL)-এর অধীনে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত সংস্কারের ফলে কয়লাভিত্তিক জমি শিল্প প্রকল্পে ব্যবহার করার পথ সহজ হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে এবং কয়লা নির্ভর শিল্পের পরিসর বাড়ছে। সরকারের তরফে এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। কয়লা গ্যাসিফিকেশনকে উৎসাহ দিতে প্রায় ১,৩৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা মোট ৮,৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করেছে, যাতে এই খাতে একাধিক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। অনুষ্ঠানে জি কিষাণ রেড্ডি তাঁর বক্তব্যে বলেন, (G Kishan Reddy) বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আত্মনির্ভর ভারত (Atmanirbhar Bharat) গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কয়লা খাতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের কাছে প্রচুর কয়লার ভাণ্ডার রয়েছে, তাই শুধু জ্বালানি হিসেবে নয়, শিল্প উৎপাদনে এর বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।’ উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ ধরা হয়েছে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ শুরু হয়ে গেছে। এলএসটিকে (LSTK) প্যাকেজের মধ্যে এলএসটিকে-১ এবং এলএসটিকে-২ দেওয়া হয়েছে বিএইচইএল (BHEL) -কে, এবং এলএসটিকে-৩ ও এলএসটিকে-৪ পেয়েছে লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (Larsen & Toubro – L&T)। একইসঙ্গে প্রকল্প এলাকার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং গাছের হিসাবনিকাশের কাজও চলছে।

কয়লা মন্ত্রকের সচিব বিক্রম দেব দত্ত (Vikram Dev Dutt) এই চুক্তিকে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি, এবং এই প্রকল্প সেই লক্ষ্যেই একটি বড় পদক্ষেপ।’ প্রশাসনিক দিক থেকেও এই প্রকল্প অনেকটাই প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লেটার অফ অ্যাওয়ার্ড (LOA) এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এটি আমদানি নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক, যা মূলত সার এবং বিস্ফোরক শিল্পে ব্যবহৃত হয়। দেশেই এর উৎপাদন বাড়লে বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজন কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

অনুষ্ঠানের দিন বিএসিজিসিএল (BCGCL)-এর একটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মে প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য, আপডেট এবং টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে, যা স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করবে। লক্ষ্মণপুর প্রকল্পটি শুধু একটি শিল্প উদ্যোগ নয়, বরং এটি ভারতের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নীতিগত সংস্কার এবং আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে, যেখানে সরবরাহ শৃঙ্খল এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, সেখানে এই ধরনের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উল্লেখ্য, ভারতের শিল্পায়নের ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে এই প্রকল্প একটি নতুন দিশা দেখাচ্ছে। কয়লার মতো প্রচলিত সম্পদকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করার এই প্রয়াস দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : February 2026 Coal Production India | ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ কয়লা উৎপাদনে ১৮.৫১% বৃদ্ধি: ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক খনিতে জোরদার গতি, জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভরসা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন