CCI antitrust cases 2025, Competition Commission of India reforms | বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে কড়া নজর: ২০২৫ সালে ৫৪টি অ্যান্টি-ট্রাস্ট মামলা, ১৪৯টি মার্জার নথিভুক্ত করল সিসিআই

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি: ভারতের কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক পরিসরে ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে প্রতিযোগিতা কমিশন অফ ইন্ডিয়া বা সিসিআই (Competition Commission of India বা CCI)। ২০২৫ ক্যালেন্ডার বছরে কমিশন মোট ৫৪টি অ্যান্টি-কম্পিটিটিভ বা অ্যান্টি-ট্রাস্ট সংক্রান্ত মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং একই সময়ে ১৪৯টি মার্জার ও অধিগ্রহণ (Mergers & Acquisitions- M&A) সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করেছে। কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের (Ministry of Corporate Affairs) অধীনে প্রতিযোগিতা আইন সংস্কার ও সংশোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে এই তথ্য সংসদের নিম্নকক্ষে জানানো হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সিসিআই ৩৮টি অ্যান্টি-ট্রাস্ট মামলায় চূড়ান্ত আদেশ দিয়েছে এবং ১৪৬টি মার্জার নোটিস নিষ্পত্তি করেছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, দেশের কর্পোরেট লেনদেন এবং বাজার কাঠামোয় প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়গুলি কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতেই এই পদক্ষেপগুলি কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে।

আরও পড়ুন : Vaibhav Suryabanshi | ১৪ বছরেই ঐতিহাসিক চূড়ায় বৈভব সূর্যবংশী, বিদায়ী ম্যাচে ঝড় তুলে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপকে বলল বিদায়

প্রতিযোগিতা আইনকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে কেন্দ্র সরকার ২০২৩ সালে প্রতিযোগিতা (সংশোধনী) আইন বা Competition (Amendment) Act, 2023 প্রণয়ন করে, যা ১১ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে সংসদে পাশ হয়। এই সংশোধনী আইনের আওতায় একাধিক নতুন নিয়ম ও বিধি বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে জরিমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনে জরিমানা হিসাব করা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার বৈশ্বিক টার্নওভারের ভিত্তিতে, যা আগে শুধুমাত্র দেশীয় টার্নওভারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এর ফলে বহুজাতিক সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রভাব আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সংস্কারের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সিসিআই ২০২৪ সালে ‘সিসিআই (মনেটারি পেনাল্টি নির্ধারণ) নির্দেশিকা’ বা CCI (Determination of Monetary Penalty) Guidelines, 2024 জারি করেছে। এই নির্দেশিকায় জরিমানা নির্ধারণের বিস্তারিত পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও স্বচ্ছ ও যুক্তিনির্ভর হয়।

প্রতিযোগিতা মামলার নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করতে সংশোধনী আইনে একাধিক ভবিষ্যতমুখী সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল মার্জার ও অধিগ্রহণের অনুমোদনের সময়সীমা ২১০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫০ দিনে আনা। পাশাপাশি ‘সেটেলমেন্ট ও কমিটমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ চালু করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়। এই ব্যবস্থার ফলে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা কমবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এছাড়াও ‘গ্রিন চ্যানেল’ রুটকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে মার্জার নোটিস দাখিলের সঙ্গে সঙ্গেই অনুমোদন পাওয়া যায় বলে ধরে নেওয়া হয়। ফলে সময় সাশ্রয় হয় এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হয়।

এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence বা AI) এবং প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত একটি বিস্তৃত বাজার সমীক্ষাও করেছে সিসিআই। এই সমীক্ষার লক্ষ্য ছিল এআই ব্যবস্থার বাজার কাঠামো, অংশীদার, ডেটা ও দক্ষ জনবলের প্রাপ্যতা, মূল্য শৃঙ্খল এবং প্রতিযোগিতার মানদণ্ড বোঝা। পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা, ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং ভারতসহ অন্যান্য বড় অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক কাঠামোর তুলনামূলক মূল্যায়ন করা হয়েছে। সমীক্ষায় একাধিক উদ্বেগজনক দিক উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ ও ডেটা-দক্ষতার সীমিত প্রাপ্যতার কারণে এআই ভ্যালু চেইনে বাজার কেন্দ্রীভবনের ঝুঁকি, ইকোসিস্টেম লক-ইন ও প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনের উচ্চ খরচ, এআই-চালিত প্রাইসিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অ্যালগোরিদমিক কার্টেল বা সমন্বিত মূল্য নির্ধারণের সম্ভাবনা, এবং ভোক্তা ডেটা ব্যবহার করে মূল্য বৈষম্য।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিসিআই একাধিক সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির দ্বারা এআই সিস্টেমের স্ব-মূল্যায়ন বা সেল্ফ অডিট, তথ্যের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও তথ্য বৈষম্য কমানো, সিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচি জোরদার করা, সরকারি নীতিগত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। এই সমস্ত তথ্য আজ লোকসভায় একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা (Harsh Malhotra)। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে আইন ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Arjun Kapoor mother birthday post, Malaika Arora reaction | মায়ের জন্মদিনে অর্জুন কাপুরের আবেগঘন স্বীকারোক্তি, পোস্ট দেখেই যে প্রতিক্রিয়া দিলেন মালাইকা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন