Budget 2026 tourism India | রেলের গতি থেকে ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ, পর্যটন মানচিত্র বদলাতে ২০২৬-২৭ বাজেটে কেন্দ্রের বড় রূপরেখা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ভ্রমণ শুধু অবসর যাপনের বিষয় নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণেরও শক্তিশালী হাতিয়ার। এই ভাবনাকে সামনে রেখেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে পর্যটন ও হোটেল শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিল কেন্দ্রীয় সরকার। রবিবার সংসদে বাজেট (Budget) পেশ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ (Nirmala Sitharaman) জানিয়ে দেন, আগামী দিনে ভারতের পর্যটন পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক, সংযুক্ত এবং আন্তর্জাতিক মানের করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। সংযোগ ব্যবস্থা, রেলপথ, ঐতিহ্যবাহী স্থান, আধ্যাত্মিক কেন্দ্র এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে এক সুতোয় বেঁধে দেশের ভ্রমণ মানচিত্রকে নতুন ভাবে সাজানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে হলে পর্যটনের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থানের পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সারনাথ (Sarnath), হস্তিনাপুর (Hastinapur) -এর মতো প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শহর রয়েছে। এই স্থানগুলিতে যাতায়াত, দর্শনার্থী সুবিধা, তথ্যকেন্দ্র এবং আধুনিক পরিষেবা গড়ে তোলার মাধ্যমে হেরিটেজ পর্যটনকে আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র।

বাজেট ২০২৬-২৭-এ পর্যটন উন্নয়নে বড় ঘোষণা। হাই-স্পিড রেল, হেরিটেজ ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্রকে গুরুত্ব দিল কেন্দ্র।
নির্মলা সীতারামন। বাজেট ২০২৬। ছবি : সংগৃহীত 

সরকারি সূত্রে খবর, শুধু স্মারক সংরক্ষণ নয়, পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে আকর্ষণীয় করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রাচীন নগরী, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলিকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন ভাবে উপস্থাপন করা হবে। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে ১০ হাজার নতুন ট্যুরিস্ট গাইড নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন নির্মলা সীতারামণ (Nirmala Sitharaman)। প্রশিক্ষিত এই গাইডরা ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থানীয় কাহিনি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরবেন। পাশাপাশি, এই সমস্ত তথ্য সুশৃঙ্খল ভাবে নথিবদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকে।আধ্যাত্মিক পর্যটনের ক্ষেত্রেও আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে বাজেট। দেশের বহু স্থানে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব থাকলেও পরিকাঠামোর অভাবে পর্যটন পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। সেই সব জায়গায় উন্নত রাস্তা, আবাসন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিষেবা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রের ধারণা, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকে একত্রে এগিয়ে নিয়ে গেলে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই ভারতের সফট পাওয়ারও বাড়বে।

আরও পড়ুন : Elon Musk Ryanair Poll | স্টারলিংক বিতর্কে নতুন মোড়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘রায়ানএয়ার কিনে নেওয়া উচিত কি না’ : ভোটাভুটি খুলে দিলেন ইলন মাস্ক

পর্যটনকে আরও গতিশীল করতে রেল পরিকাঠামোর উপর বিশেষ জোর দিয়েছে বাজেট ২০২৬-২৭। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডর তৈরি করা হবে। এই দ্রুতগামী রেলপথ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর, শিল্পাঞ্চল এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে আরও মজবুত ভাবে যুক্ত করবে। দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা কম সময়ে, কম ঝঞ্ঝাটে এবং আরও আরামদায়ক হবে বলে দাবি সরকারের। প্রস্তাবিত সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডর হল, মুম্বই (Mumbai) ও পুণে (Pune), পুণে ও হায়দরাবাদ (Hyderabad), হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরু (Bengaluru), হায়দরাবাদ ও চেন্নাই (Chennai), চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু, বেঙ্গালুরু ও বেনারস (Varanasi) এবং বেনারস ও শিলিগুড়ি (Siliguri)। এই করিডরগুলির মাধ্যমে পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য পাহাড়, সমুদ্র ও ঐতিহ্যবাহী শহরে পৌঁছনো আরও সহজ হবে।

পাহাড়ি এলাকায় পর্যটন বাড়ানোর দিকেও নজর দিয়েছে কেন্দ্র। বাজেটে জানানো হয়েছে, হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh), জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir) এবং উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand)-এর মতো রাজ্যে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে বলে মনে করছে সরকার। কেন্দ্রের মতে, পর্যটন হল এমন একটি ক্ষেত্র, যা সরাসরি ও পরোক্ষ ভাবে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। হোটেল, পরিবহণ, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার, ছোট দোকান ও পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও পর্যটন কেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে উঠলে আয় বাড়বে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে মহিলা ও যুব সমাজের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে।প্রসঙ্গত, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেটে পর্যটনকে শুধু বিনোদনের বিষয় হিসেবে নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মেলবন্ধন ঘটিয়ে ভারতের ভ্রমণ শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই এই রূপরেখার মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে ভারতের পর্যটন মানচিত্র যে নতুন রূপ নেবে, তা বলাই বাহুল্য।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Budget 2026 Ayurveda, Ayurveda India healthcare | বৈদিক নিরাময় থেকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাজেট ২০২৬-এ আয়ুর্বেদকে নতুন উচ্চতায় তুলতে কেন্দ্রের পরিকল্পনা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন