সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন শোকস্তব্ধ। প্রয়াত হলেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী ও পাঁচবারের বিধায়ক বনমালী রায় (Bonomali Roy)। বুধবার সকালে দীর্ঘ বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পর ৮৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা। তাঁর মৃত্যুতে উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতির বিস্তীর্ণ পরিসরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ধূপগুড়ির (Dhupguri) মাটিতে একাধিকবার মানুষের ভালবাসায় জিতেছেন বনমালী রায়। পাঁচবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মানুষের উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত থেকেছেন তিনি। রাজ্যের তফসিলি ও আদিবাসী কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বনমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি। দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে সিপিএমের জ়োনাল সম্পাদক থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্বে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন। প্রবীণ এই বাম নেতার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার সকালেই ভিড় জমে তাঁর গাদংয়ের (Gadong) বাসভবনে। স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে বামপন্থী কর্মী-সমর্থকরা ছুটে আসেন শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে। স্থানীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে আবেগঘন হয়ে ওঠে পরিবেশ।
সিপিএম জেলা সম্পাদক পীযুষ মিশ্র (Piyush Mishra) বলেন, “বনমালীদা ছিলেন এক নিঃস্বার্থ যোদ্ধা। মানুষের স্বার্থে, বিশেষ করে আদিবাসী ও তফসিলি সম্প্রদায়ের স্বার্থে তিনি আমৃত্যু লড়াই করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক বিরাট শূন্যতা তৈরি হলো।” ধূপগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক মমতা রায় (Mamata Roy) প্রয়াত নেতার বাড়িতে গিয়ে শোকপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বনমালী রায় শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন মানুষের অভিভাবক। প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর শূন্যস্থান পূরণ হওয়া সহজ নয়।”
এদিন শোকপ্রকাশ করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Bose)। তাঁর কথায়, “কমরেড বনমালী রায় ছিলেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন সংগ্রামী নেতা। গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ ছিল। রাজনীতিতে সততা, নিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্য তাঁকে চিরকাল স্মরণ করবে আমাদের দল।” উল্লেখ্য, বছরের পর বছর বনমালী রায় ধূপগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবনে উন্নয়ন আনার জন্য কাজ করে গিয়েছেন। আদিবাসী ও তফসিলি সম্প্রদায়ের অধিকার, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে তাঁর উদ্যোগ আজও এলাকার মানুষ মনে রেখেছেন। সক্রিয় রাজনীতির বাইরে এসেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন। রাজনীতির আঙিনা ছাড়াও সমাজসেবার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। স্থানীয় মানুষদের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, ছিলেন পরিবারের সদস্যের মতো। তাঁর প্রয়াণে ধূপগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের মানুষ যেন হারালেন এক অভিভাবক।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বনমালী রায়ের মতো নেতার মৃত্যুতে সিপিএম শুধু একজন অভিজ্ঞ নেতাকেই হারাল না, হারাল জনসংযোগে পারদর্শী এক কর্মঠ সংগঠককে। স্থানীয় গ্রামীণ রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। উত্তরবঙ্গের মাটিতে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা আজও অনুপ্রেরণা। একদিকে মানুষের জন্য নিরলস সংগ্রাম, অন্যদিকে দলে অনুগত কর্মীদের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা—সব মিলিয়ে বনমালী রায়কে আজীবন স্মরণ করবে বাংলার বামপন্থী আন্দোলন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : The Cooperative Ground Durga Puja Samity – Golden Jubilee Celebration 2025




