Bio-Bitumen India, Nitin Gadkari Bio Bitumen | খেতের বর্জ্য থেকেই হাইওয়ের ভবিষ্যৎ: বায়ো-বিটুমেনে ইতিহাস গড়ল ভারত মন্তব্য নিতিন গড়করির

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের সড়ক অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথে ঐতিহাসিক অংশ যুক্ত হল। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী শ্রী নিতিন গডকরি (Nitin Gadkari) জানালেন, কৃষিজ বর্জ্যকে আর আবর্জনা হিসেবে দেখা যাবে না, এগুলিও হতে পারে দেশের এক অমূল্য জাতীয় সম্পদ। তাঁর কথায়, বায়ো-বিটুমেন যেমন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, তেমনি ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ (Viksit Bharat 2047) ভিশনের পথে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ভারত এখন বিশ্বের প্রথম দেশ, যে বাণিজ্যিক ভাবে বায়ো-বিটুমেন উৎপাদন শুরু করেছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে দেশের সড়ক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। কৃষিজ অবশিষ্টাংশ বা কৃষি বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি বায়ো-বিটুমেন একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমাবে, অন্যদিকে তেমনই আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করে দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাবে। শ্রী গডকরি বলেন, ‘কৃষি অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি বায়ো-বিটুমেন ফসলের খড় পোড়ানোর প্রবণতা কমাবে, যা উত্তর ভারতসহ দেশের বহু অঞ্চলে মারাত্মক বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ।’

আরও পড়ুন : BJP National Working President | বিজেপিতে নতুন সমীকরণ: সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্বে নিতিন নবীন, জল্পনা তুঙ্গে সভাপতি পদ ঘিরে

‘কৃষি অবশিষ্টাংশ থেকে সড়ক নির্মাণ: পায়রোলিসিসের মাধ্যমে বায়ো-বিটুমেন’ এই ভাবনাকে সামনে রেখে সিএসআইআর (CSIR বা Council of Scientific and Industrial Research) -এর প্রযুক্তি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই সাফল্যকে দেশের সড়ক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ‘আজকের দিনটি ভারতের জন্য গর্বের। কারণ আমরা প্রমাণ করেছি যে উদ্ভাবন ও পরিবেশ রক্ষার পথে হেঁটেও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব।’ শ্রী নিতিন গড়করি (Nitin Gadkari) সিএসআইআর -এর বিজ্ঞানী ও গবেষকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এই সাফল্যের নেপথ্যে সিএসআইআর-এর নিষ্ঠাবান বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণা ও অধ্যবসায় রয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রী জিতেন্দ্র সিংকে (Jitendra Singh) ধন্যবাদ জানান, তিনি এই উদ্যোগে ধারাবাহিক সহযোগিতা ও নীতিগত সমর্থন জুগিয়েছেন।

বায়ো-বিটুমেন ব্যবহারের অর্থনৈতিক দিকটিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, যদি রাস্তা নির্মাণে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়ো-বিটুমেন মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়, তবে ভারত বছরে প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারবে। পাশাপাশি, আমদানিকৃত কাঁচা তেলের উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে। শ্রী গডকরির ভাষায়, ‘এটি শুধু পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নয়, এটি আত্মনির্ভর ভারতের দিকে এক শক্ত পদক্ষেপ।’ এই প্রযুক্তি কৃষকদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। এতদিন যে কৃষিজ অবশিষ্টাংশ অনেক সময় পুড়িয়ে ফেলতে বাধ্য হতেন কৃষকেরা, সেই বর্জ্যই এখন হয়ে উঠতে পারে আয় সৃষ্টির উৎস। শ্রী গড়করি বলেন, ‘এই উদ্ভাবন কৃষকদের ক্ষমতায়ন করবে, গ্রামীণ এলাকায় নতুন জীবিকা সৃষ্টি করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে।’ এর ফলে চক্রাকার অর্থনীতি (Circular Economy) আরও মজবুত হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বায়ো-বিটুমেন প্রযুক্তি পরিবেশ, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের এক বিরল সমন্বয়। একদিকে এটি কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে তেল আমদানির খরচ কমিয়ে দেশের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করবে। একই সঙ্গে কৃষিজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিশা দেখাবে এই উদ্যোগ। শ্রী গডকরি বলেন, ‘বায়ো-বিটুমেন আসলে টেকসই উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা এবং পরিবেশবান্ধব অগ্রগতির প্রতি মোদী সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’

ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত সড়ক নেটওয়ার্কে এই প্রযুক্তির প্রয়োগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও রাজমার্গ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর বিভিন্ন রাজ্যে ধাপে ধাপে বায়ো-বিটুমেন ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাস্তার স্থায়িত্ব যেমন বাড়বে, তেমনই পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমবে।
সামগ্রিকভাবে উল্লেখ যে, কৃষিজ বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের এই উদ্যোগ ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। ‘খেত থেকে হাইওয়ে’ এই ধারণা বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা যুগান্তকারী পরিবর্তন। বায়ো-বিটুমেন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারত যে বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে, তা এই সাফল্যই প্রমাণ করে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian Railways non AC coaches, Amrit Bharat Express trains | সাধারণ যাত্রীদের জন্য স্বস্তি : নন-এসি কোচে রেকর্ড উৎপাদন, ৩০টি অমৃত ভারত ট্রেনে জোরদার সাশ্রয়ী যাত্রা, কীভাবে জেনে নিন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন