সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের গণনার দিন হাই-প্রোফাইল Bhabanipur কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৩ রাউন্ড গণনার পর আচমকাই থমকে যায় গণনা প্রক্রিয়া এবং প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তা বন্ধ থাকে। এই অচলাবস্থাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশ্ন ওঠে গণনার স্বচ্ছতা (Counting Transparency) নিয়ে। সূত্রের খবর, গণনাকেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ এবং প্রার্থীর বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া ঢোকার অভিযোগ থেকেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে Bharatiya Janata Party এবং All India Trinamool Congress দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তোলে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে গণনা প্রক্রিয়ার ওপর।
গণনাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থাও ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা বলয় আরও শক্ত করা হয়। এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে Election Commission of India, এবং কড়া নজরদারির নির্দেশ দেয়। কমিশনের নির্দেশে গণনাকেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশকারী প্রত্যেকের পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখা শুরু হয় এবং যাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিষয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, কারণ নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী গণনাকেন্দ্রের ভিতরে এ ধরনের ডিভাইসের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। কিছু সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সমস্যাগুলি মেটানোর পর ফের গণনা শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গণনা স্থগিত হওয়ার আগে পর্যন্ত যে ট্রেন্ড সামনে এসেছিল, তাতে Mamata Banerjee প্রায় ৫,৩৪৯ ভোটে এগিয়ে ছিলেন Suvendu Adhikari–র থেকে। ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, ফলে এই লিড রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেন্দ্রের ফলাফল শুধু একটি আসনের জয়-পরাজয় নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনা প্রক্রিয়ার মাঝপথে এই ধরনের স্থগিতাবস্থা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপানউতোরের প্রতিফলন (Political Tension Impact) হিসেবেও দেখা যেতে পারে। গণনার মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং কোনও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলে তা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে সংশয় তৈরি করে। এদিকে দুই রাজনৈতিক দলই নিজেদের অবস্থানে অনড়। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, পরিকল্পিতভাবে গণনায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে তৃণমূল। ফলে কেন্দ্রটিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনও অশান্তি না ঘটে এবং গণনা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। গণনা পুনরায় শুরু হলে চূড়ান্ত ফলাফল কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।



