সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম ভবানীপুরে (Bhabanipur) অবশেষে নাটকীয় লড়াইয়ের পর ফলাফল স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণায় জানানো হয়েছে, বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ১৫,১১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ফলাফল বাংলার রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গণনার শুরু থেকেই এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কখনও এগিয়ে যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আবার কখনও লিড নিচ্ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু রাউন্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান ধীরে ধীরে বাড়াতে শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী। শেষপর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জয় নিশ্চিত করে ভবানীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেন তিনি। নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রচারে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, “ভবানীপুরে বড় ব্যবধানে জিতব, নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি হবে।” তাঁর সেই দাবি যে নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, তা ফলাফলেই স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরে এই হার বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে এই কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফলাফল ঘোষণার পরেই ভবানীপুর ও সংলগ্ন আলিপুর এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো ছিল। আবির, পতাকা ও মিছিলের মাধ্যমে জয় উদযাপন করা হয়। যদিও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিতভাবেই এই উদযাপন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় দুই দফায় ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। প্রায় ৬ কোটিরও বেশি ভোটার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন।
রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি ছিল প্রতীকী লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই প্রার্থী ছিলেন। ফলে এই ফলাফল রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই জয় ভারতীয় জনতা পার্টি-র সংগঠনগত শক্তি ও ভোটব্যাঙ্ক বৃদ্ধির প্রতিফলন। একইসঙ্গে এটি তৃণমূল কংগ্রেস-এর জন্য আত্মসমীক্ষার সময় বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শহুরে কেন্দ্রগুলিতে ভোটের ধরণ পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম-এও জয় পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এই সাফল্য তাঁকে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রীয় মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই ফলাফল ঘোষণার পর এখন নজর রাজ্যের সামগ্রিক ফলাফলের দিকে কে গড়বে সরকার এবং কীভাবে বদলাবে বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ছবি : সংগৃহীত



