Bedroom Hidden Camera Scandal, Hidden Camera Case Bengaluru | হিডেন ক্যামেরার নোংরা ফাঁদ: বেঙ্গালুরুতে স্বামীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ স্ত্রীর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেঙ্গালুরু : বেঙ্গালুরু (Bengaluru) থেকে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা সামনে এসেছে। এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী গোপনে শোবার ঘরে হিডেন ক্যামেরা বসিয়ে রেখেছিলেন এবং তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ড করতেন। শুধু তা-ই নয়, সেই ভিডিওকে হাতিয়ার করে প্রতিদিন ব্ল্যাকমেল করা হতো তাঁকে। ভয় দেখানো হতো যে ভিডিও ফাঁস করে দেওয়া হবে, যদি তিনি স্বামীর নির্দেশ না মানেন। এমনকী বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতেও তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের (Karnataka) রাজধানী বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru)। পুলিশ সূত্রে খবর, পুত্তেনাহালি (Puttenahalli) থানায় ওই মহিলা নিজের স্বামী এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। মামলায় হেনস্থা, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও ষড়যন্ত্রের একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী প্রথম থেকেই বেডরুমে লুকিয়ে ক্যামেরা বসিয়ে রেখেছিলেন। তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত তিনি রেকর্ড করে রাখতেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে স্ত্রীর উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। শুধু তা-ই নয়, স্বামী একাধিক বিদেশি বন্ধুর কাছেও সেই ভিডিও পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি। আরও অভিযোগ, তিনি ভয় দেখাতেন যে ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেবেন। এমনকী সেই ভয়কে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন স্ত্রীকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মহিলার আরও অভিযোগ, বিয়ের আগে স্বামী কখনও জানাননি যে তিনি আগে থেকেই বিবাহিত। বিয়ের পর শুরু হয় নিত্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দিনের পর দিন এই অমানবিক পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে অবশেষে তিনি সাহস সঞ্চয় করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই মহিলার এফআইআরের ভিত্তিতে পুত্তেনাহালি থানার পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বলে উল্লেখ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এক পুলিশ অফিসারের কথায়, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুতর। প্রযুক্তিগত দিক থেকে কীভাবে ভিডিও ছড়ানো হয়েছে বা ব্যবহার করা হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ এটি। একজন মহিলাকে এভাবে চরম মানসিক ও শারীরিক চাপে রেখে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা সামাজিকভাবে নিন্দনীয়। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এই ধরনের ব্ল্যাকমেল এবং জবরদস্তি ভুক্তভোগীর মানসিক অবস্থাকে ভেঙে দেয়। সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে স্বামীই যদি প্রতারণা ও নির্যাতনের আশ্রয় নেয়, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বর্তমানে এই মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, ডিজিটাল ফরেনসিক টিম ভিডিও এবং প্রমাণ খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে ওই বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে, যাদের কাছে ভিডিও পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা যেমন অনেক, তেমনি অপব্যবহার ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সমাজকর্মীরা মনে করছেন, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Gold Extraction from Seawater | সাগরের নোনা জলে লুকিয়ে কোটি কোটি টন সোনা, বাস্তবে মিলবে তো?

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment