সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। এবার থেকে চাকরি বাঁচাতে এবং পদোন্নতি পেতে টেক-কর্মীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI শেখা আর বিকল্প নয়, বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে। বিশ্বের শীর্ষ দুই প্রযুক্তি সংস্থা Google (গুগল) এবং Microsoft (মাইক্রোসফট) সরাসরি জানিয়েছে, কর্মীদের কর্মক্ষমতা পর্যালোচনায় এখন থেকে AI দক্ষতাই হবে প্রধান মাপকাঠি। Google-এর সিইও সুন্দর পিচাই (Sundar Pichai) এবং Microsoft-এর ডেভেলপার ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট জুলিয়া লিউসন (Julia Liuson) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কর্মীরা কতটা AI ব্যবহার করতে জানেন এবং কাজে প্রয়োগ করছেন, তার ওপরই নির্ভর করবে তাঁদের ভবিষ্যৎ। অর্থাৎ, টেক-ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে AI এখন বাধ্যতামূলক দক্ষতা।
শুধু ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নয়, সংস্থার সেলস, মার্কেটিং থেকে শুরু করে লিগ্যাল টিম পর্যন্ত প্রত্যেক ক্ষেত্রেই AI ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। Google-এর ইঞ্জিনিয়ারিং টিমকে পাঠানো এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কোডিং-এর ক্ষেত্রে সংস্থার নিজস্ব AI টুল Cider ব্যবহার বাধ্যতামূলক। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই Google-এর প্রায় ৩০ শতাংশ কোড AI দিয়েই লেখা হচ্ছে।GitHub (গিটহাব)-এর প্রাক্তন সিইও টমাস ডোমকে (Thomas Dohmke) এই প্রসঙ্গে আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছেন, “যদি কেউ AI ব্যবহার করতে না চান, তবে তাঁর জন্য হাজারো কোম্পানি রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে চাইলে AI এড়িয়ে যাওয়া একেবারেই সম্ভব নয়।”
উল্লেখ্য, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে প্রতিযোগিতা দিনে দিনে তীব্র হয়ে উঠছে। কোনও সংস্থা যদি এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে, তবে বাজার দখল করে নেবে প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলি। এই কারণেই Google এবং Microsoft এত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। Amazon (অ্যামাজন) এবং Shopify (শপিফাই)-এর মতো শীর্ষ সংস্থাগুলিও একই পথে হাঁটছে। তারা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিভাগে AI ব্যবহারে কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে, এটা পরিষ্কার যে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতে কর্মরতরা যদি দ্রুত AI শিখে কাজে লাগাতে না পারেন, তবে কেরিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়বে।
কলকাতার সেক্টর ফাইভ এবং নিউ টাউনের তথ্যপ্রযুক্তি হাবে কর্মরত হাজার হাজার কর্মীর ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে চলেছে। এতদিন যাঁরা কেবল কোডিং বা নির্দিষ্ট দক্ষতা দিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁদের এবার AI সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করতেই হবে। একজন আইটি কর্মীর কথায়—“এখন কেবল প্রোগ্রামিং জানলেই চলবে না, এআই টুলস দিয়ে কাজের গতি ও মান বাড়াতে হবে। নাহলে কোম্পানিগুলির কাছে আমরা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ব।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে AI দক্ষতা ছাড়া কোনও কর্মীই বড় কোম্পানিতে টিকে থাকতে পারবেন না। এআই ব্যবহার শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত প্রয়োগ নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ডেটা বিশ্লেষণ, গ্রাহকসেবা এবং আইনি বিষয়েও ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।
Microsoft-এর এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা চাই প্রত্যেক কর্মী এআইকে নিজেদের কাজের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করুন। ভবিষ্যতের কাজ মানে মানুষ আর এআই-এর যৌথ উদ্যোগ।”
সার্বিকভাবে স্পষ্ট বার্তা যে, এখনকার দিনে যারা টেক-সেক্টরে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য AI শেখা আর কোনো বিকল্প নয়, তা বেঁচে থাকার শর্ত। দক্ষতা বাড়ানোর জন্য যাঁরা দ্রুত এগিয়ে যাবেন, তাঁরাই আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবেন। অন্যদিকে যারা পিছিয়ে পড়বেন, তাঁদের কেরিয়ারে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা প্রবল।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Asia Cup Final 2025 | এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারত, অভিষেকের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয়




