সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ রাইসেন: কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খরচ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে মধ্যপ্রদেশের রাইসেনে আয়োজিত হতে চলেছে এক বৃহৎ কৃষি উৎসব। ১১ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই ‘উন্নত কৃষি মহোৎসব’, যেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি, ড্রোন প্রযুক্তি, ন্যানো সার এবং স্মার্ট ফার্মিং মডেলের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে উন্নত চাষের কৌশল। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan) এই উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিকে নতুন গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য।’ তাঁর মতে, দেশের কৃষকদের সামনে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে তারা এক জায়গায় সব নতুন প্রযুক্তি দেখতে ও শিখতে পারবেন।
দশহরা ময়দানে (Dussehra Ground) আয়োজিত তিন দিনের এই মেলায় থাকবে বিশাল প্রদর্শনী, সরাসরি প্রশিক্ষণ এবং লাইভ ডেমো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর ‘উন্নত কৃষি, সমৃদ্ধ কৃষক’ লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে উন্নত কৃষিযন্ত্রের প্রদর্শনী। গ্রীনল্যান্ড অ্যাগ্রো-টেক (Greenland Agro-Tech), সোনালিকা (Sonalika), নিউ হল্যান্ড (New Holland), স্বরাজ (Swaraj) সহ একাধিক সংস্থা তাদের আধুনিক যন্ত্র নিয়ে হাজির হবে। রোটাভেটর (Rotavator), রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (Rice Transplanter), সুগারকেন হারভেস্টার (Sugarcane Harvester), পাওয়ার উইডার (Power Weeder) থেকে শুরু করে বুম স্প্রেয়ার (Boom Sprayer), সবকিছুর লাইভ প্রদর্শন হবে। কৃষকরা সরাসরি এই যন্ত্রগুলির ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং খরচের হিসাব সম্পর্কে ধারণা পাবেন। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হলে চাষের উন্নতি দ্রুত সম্ভব।’ তিনি আরও জানান, অনেক যন্ত্রের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হবে।
ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারও এই মেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্দিষ্ট ডেমো প্লটে দেখানো হবে কীভাবে ড্রোনের মাধ্যমে ন্যানো সার এবং কীটনাশক ছড়ানো যায়। এতে সময়, শ্রম এবং খরচ, তিনটিই কমে আসে। একটি বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কম সময়ে বড় জমিতে সমানভাবে স্প্রে করা সম্ভব, যা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।’ স্মার্ট ফার্মিং-এর ধারণাকেও এই মেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেন্সর, মোবাইল অ্যাপ এবং ডেটা নির্ভর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কীভাবে চাষ আরও উন্নত করা যায়, তা হাতে-কলমে শেখানো হবে। কৃষকদের জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।
জল সংরক্ষণ এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আলাদা বিভাগ রাখা হয়েছে। ড্রিপ (Drip Irrigation) এবং স্প্রিঙ্কলার (Sprinkler Irrigation) পদ্ধতির মাধ্যমে ‘প্রতি ফোঁটা জলে বেশি ফসল’ উৎপাদনের মডেল তুলে ধরা হবে। জৈন ইরিগেশন (Jain Irrigation), নেতাফিম (Netafim), ফিনোলেক্স (Finolex) সহ বিভিন্ন সংস্থা তাদের প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। এখানে দেখানো হবে কীভাবে কম জলে বেশি উৎপাদন সম্ভব এবং কীভাবে সেচ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা যায়। এছাড়াও পলিহাউস (Polyhouse), মোবাইল কোল্ড স্টোরেজ (Cold Storage) এবং শেড-নেট প্রযুক্তির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার উপায় তুলে ধরা হবে। উন্নত বীজ, ফুল ও সবজির চাষ এবং নার্সারি ব্যবসার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হবে কৃষকদের সামনে। আইসিএআর (ICAR বা Indian Council of Agricultural Research) -এর পক্ষ থেকে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা বা ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং সিস্টেম (Integrated Farming System) -এর বিভিন্ন মডেল প্রদর্শন করা হবে। এতে একসঙ্গে একাধিক ফসল, পশুপালন এবং অন্যান্য কৃষি কার্যক্রম যুক্ত করে কীভাবে আয়ের পরিমাণ বাড়ানো যায়, তা দেখানো হবে। পরালি ব্যবস্থাপনা নিয়েও এই মেলায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হ্যাপি সিডার (Happy Seeder) এবং সুপার সিডার (Super Seeder) -এর মতো যন্ত্রের মাধ্যমে দেখানো হবে কীভাবে ফসলের অবশিষ্টাংশকে কাজে লাগানো যায়। এই প্রসঙ্গে একটি বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘পরালি এখন শুধু আর সমস্যা না, তা সম্পদের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।’
এই কৃষি মেলা বাস্তব চাষের সঙ্গে প্রযুক্তির সংযোগ ঘটানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষকদের জন্য এখানে থাকবে প্রশিক্ষণ, আলোচনা এবং সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। বর্তমান সময়ে কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে। উৎপাদন বাড়ানো, খরচ কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে রাইসেনের এই কৃষি উৎসব একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের কাছে এই মেলা নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi tenure record, Indian PM history | ২৪ বছরের রেকর্ড : সরকারপ্রধান হিসেবে দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদী, ছাপালেন চামলিংকে




