বহরমপুরে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ট্রাজেডি: অধীরের অস্তিত্বের লড়াই, বিজেপির চমক, তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ
কলকাতা: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে Berhampore কেন্দ্র ঘিরে তৈরি হয়েছে এক রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক লড়াই, যা এখন ত্রিমুখী সংঘর্ষে (Triangular Contest) পরিণত হয়েছে। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা Adhir Ranjan Chowdhury, বিজেপির Subrata Maitra (কাঞ্চন) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের Narugopal Mukherjee এই তিন মুখের লড়াই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ (Changing Political Equation) তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াই শুধুমাত্র একটি আসনের ফল নির্ধারণ নয়, বরং এটি একটি প্রতীকী যুদ্ধ (Symbolic Political Battle), যেখানে পুরনো রাজনৈতিক প্রভাব বনাম নতুন শক্তির উত্থান স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে। বিশেষ করে Indian National Congress – এর জন্য এই কেন্দ্র ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ (Fight for Political Survival) হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর অধীর রঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। Yusuf Pathan এর কাছে হারের পর তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ ছাড়েন এবং পুনরায় মাটিতে নেমে নিজের জনভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা করেন। এই বিধানসভা নির্বাচন তাই তাঁর কাছে নিছক ভোটযুদ্ধ নয়, বরং নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও ‘রবিনহুড’ ইমেজ (Robinhood Image) পুনর্গঠনের লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে Bharatiya Janata Party – র প্রার্থী সুব্রত মৈত্র (কাঞ্চন) এই কেন্দ্রে বড় চমক দেখিয়েছেন। প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী, তিনি অধীর চৌধুরীকে পিছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র বিজেপির দখলে যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতাই এবারের ভোটে আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ও এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। যদিও প্রাথমিক ট্রেন্ডে তিনি তৃতীয় স্থানে রয়েছেন, তবুও তাঁর উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ভোটব্যাংক (Vote Bank Dynamics) বিভাজনই এই ত্রিমুখী লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাজনৈতিক মহলে এই লড়াইকে ‘গুরু বনাম শিষ্য’ (Guru vs Protégé Battle) হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অধীর চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জনসংযোগ একদিকে, অন্যদিকে বিজেপির সংগঠনিক শক্তি (Organizational Strength) এবং তৃণমূলের স্থানীয় প্রভাব এই তিনের সংঘর্ষেই বহরমপুরের ফল নির্ধারিত হবে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও বিভক্তি স্পষ্ট। কেউ উন্নয়ন (Development Politics) দেখছেন, কেউ আবার পুরনো নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখছেন, আবার কেউ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। ফলে এই কেন্দ্রের ফলাফল শুধু রাজনৈতিক দলগুলির জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দিকনির্দেশ (Future Political Direction) নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বহরমপুরের এই ত্রিমুখী লড়াই একদিকে যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, তেমনই তা এক ধরনের ‘ভোট যুদ্ধের ট্রাজেডি’ (Electoral Tragedy) হিসেবেও উঠে আসছে, যেখানে প্রতিটি প্রার্থীই নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নেমেছেন। এখন নজর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে যা বলে দেবে, এই ঐতিহাসিক কেন্দ্রে শেষ হাসি কে হাসবেন।



