প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বলিউড সুপারস্টার আমির খান (Aamir Khan)। পর্দায় নিখুঁত পরিকল্পনা, বাস্তব জীবনে সম্পর্ক নিয়ে গভীর আত্মবিশ্লেষণ, এই দুই বিপরীত সত্তার মাঝেই যেন আজ দাঁড়িয়ে তিনি। পর পর দু’বার বিবাহবিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা পেরিয়ে সম্প্রতি নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন গৌরী স্প্র্যাট (Gauri Spratt) -এর সঙ্গে। কিন্তু তার আগেই নিজের অতীতের দিকে ফিরে তাকিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বিরল স্বীকারোক্তি করেছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, দু’বার দাম্পত্য ভাঙার নেপথ্যে অন্য কেউ নয়, মূলত দায়ী তাঁর নিজেরই দুই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

সাধারণত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায় না আমিরকে।
সমাজমাধ্যম তো বটেই, গণমাধ্যমের সামনেও তিনি বরাবরই সংযত। কিন্তু জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে এবার নিজেকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, ‘আমি অসম্ভব কাজপাগল। সিনেমাই আমার দুনিয়া। আর সেই কাজ করতে গিয়েই হয়তো পরিবারকে অনেক সময় দিতে পারিনি।’ এই স্বীকারোক্তির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বহু দাম্পত্য জীবনের চেনা গল্প।
আমির মনে করেন, কাজের প্রতি অতিরিক্ত ডুবে থাকার মানসিকতা তাঁর সম্পর্কগুলিকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিয়েছিল। শুটিং, প্রস্তুতি, ভাবনা, সব নিয়ে সিনেমাই ছিল তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। ফলে অজান্তেই পরিবার-পরিজন, সঙ্গীর অনুভূতি কোথাও গিয়ে উপেক্ষিত হয়েছে। অভিনেতার উপলব্ধি, সম্পর্কের ভিত শক্ত রাখতে হলে শুধু দায়িত্ব পালন নয়, প্রয়োজন সময় ও উপস্থিতি, যা তিনি হয়ত দিতে পারেননি। কিন্তু, কাজপাগল হওয়াই একমাত্র কারণ নয়। আরও একটি স্বভাবের কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন আমির। তিনি জানিয়েছেন, যখনই তিনি আঘাত পেয়েছেন বা গভীর মনঃকষ্টে ভুগেছেন, তখন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। সেই সময়ে কারও সঙ্গে কথা বলা তাঁর পছন্দ নয়। ৩-৪ দিন সম্পূর্ণ একা, নিজের মতো করে সময় কাটিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি তখন নিজেকে আড়াল করে নিই।’ অভিনেতার ভাবনা, এই আচরণও হয়ত দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব বাড়িয়েছে।

এই স্বীকারোক্তি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কাজের প্রতি অতিরিক্ত নিষ্ঠা বা কষ্টে নিজেকে আলাদা করে নেওয়া কি সত্যিই দাম্পত্য জীবনের পক্ষে ক্ষতিকর? নাকি সবটাই নির্ভর করে বোঝাপড়া ও সম্পর্কের রসায়নের উপর? এ বিষয়ে মনোরোগ চিকিৎসক শর্মিলা সরকার মনে করছেন, কাজপাগল হওয়া নিজে থেকে নেতিবাচক কিছু নয়। তাঁর কথায়, ‘পেশাগত সাফল্যের জন্য কাজের প্রতি ভালবাসা ও নিষ্ঠা জরুরি। কিন্তু দাম্পত্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান ও যোগাযোগ থাকাটা আরও বেশি প্রয়োজন।’ তাঁর মতে, একে অপরকে বুঝতে পারলে কাজের ব্যস্ততাও সম্পর্ক ভাঙতে পারে না।
কিন্তু, সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন দাম্পত্য সম্পর্কে এক জন অতিরিক্ত কাজপাগল হয়ে পারিবারিক দায় এড়িয়ে চলেন। সংসারের দায়িত্ব একা সামলাতে গিয়ে অন্য পক্ষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। প্রথমে হয়তো সেই চাপ সামলে নেওয়া যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা ক্লান্তি ও ক্ষোভে পরিণত হয়। তখনই মনে হতে পারে, সম্পর্কের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। দাম্পত্য সম্পর্কে সাধারণত আশা থাকে, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সন্তান পালন ও সাংসারিক দায়দায়িত্ব সামলাবেন। বাস্তবে সব সময় তা সমান ভাবে হয় না। কিন্তু এক পক্ষ যদি বারবার অনুপস্থিত থাকেন, অন্য জনের মনে জন্ম নিতে পারে উপেক্ষার অনুভূতি। এই অনুভূতিই ধীরে ধীরে সম্পর্কের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।
আমিরের দ্বিতীয় স্বভাব, অর্থাৎ কষ্টের সময়ে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার অভ্যাসও দাম্পত্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে। কাছের মানুষ বিপদের দিনে মনের কথা খুলে বলবেন, এই প্রত্যাশা প্রায় সব সম্পর্কেই থাকে। অথচ সেই মানুষটি যদি নিজেকে আড়াল করে রাখেন, কথা বলতে না চান, তখন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর মনে হতে পারে তিনি গুরুত্বহীন। মানসিক দূরত্ব সেখান থেকেই তৈরি হয়। শর্মিলা সরকারের মতে, এই ধরনের স্বভাব সব সময় ক্ষতিকর নয়। তিনি বলছেন, ‘কেউ কষ্টে একা থাকতে চান, কেউ কথা বলতে চান, এটা ব্যক্তিভেদে আলাদা। যদি সঙ্গী এই বিষয়টি বুঝে ধৈর্য ধরেন, ২-৩ দিন সময় দেন, তার পর আবার স্বাভাবিক সম্পর্ক ফিরে আসতে পারে।’ অর্থাৎ সমস্যার মূল শিকড় আচরণে নয়, বরং সেই আচরণ না বোঝার মধ্যেই। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মত এক জায়গাতেই মিলছে, কাজ হোক বা মানসিক আঘাত, সব কিছু সামলে সঙ্গীকে সময় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এক পক্ষ যদি অনুভব করেন, অন্য জন তাঁর আবেগ বুঝছেন না বা গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তখনই দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। আমির খানের আত্মসমালোচনা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন, যা তারকাদের জীবন পেরিয়ে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের কথাও বলে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha Zaheer Iqbal prank, hoodie prank viral |হুডির ভিতরে চমক! আবারও জাহির ইকবালের দুষ্টুমি, ভাইরাল মজার প্র্যাঙ্কে হেসে লুটোপুটি সোনাক্ষী সিনহা




