Calcutta High Court : ”যাঁরা সন্তান হারিয়েছেন, তাঁদের কথা ভাবুন। বুঝবেন, ওই বাবা-মায়ের কষ্ট” : বিচারপতি রাজশেখর মান্থা 

SHARE:

”যাঁরা সন্তান হারিয়েছেন, তাঁদের কথা ভাবুন। বুঝবেন, ওই বাবা-মায়ের কষ্ট” : বিচারপতি রাজশেখর মান্থা 

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : আইআইটি-এর মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ফাইজান আহমেদ-এর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়ে ১৪ অক্টোবর, ২০২২। আইআইটি-এর হোস্টেল থেকে ছাত্রের দেহ উদ্ধার ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যে। অসমের বাসিন্দা ওই ছাত্রের পরিবার পুলিশের কাছে  অভিযোগ জানায়, ফাইজান আত্মহত্যা করেনি। র‍্যাগিংয়ের শিকার হন। ওই মামলার দিন ছিল আজকে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থা  খড়্গপুর আইআইটির ছাত্র ফাইজান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে। মহামান্য আদালত খড়গপুর আইআইটি-এর ডিরেক্টরকে ২৪ তারিখ হাইকোর্ট-এ হাজিরা দিতে বলেন, কিন্তু ওইদিন তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না বলে জানান। আজ শুক্রবার হাই কোর্টে হাজিরা দেন ডিরেক্টর ভি কে তিওয়ারি। ভি কে তিওয়ারির আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র আদালত কক্ষে জানান, “ওই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করছে। এর জন্য অনুসন্ধান কমিটি গড়া (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি) হয়েছে। এর পর ডিসিপ্লিনারি কমিটি রিপোর্ট দেয়। তার ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়া হয়েছে।” তৎক্ষনাৎ জাস্টিস মান্থা ওই আইনজীবীকে লক্ষ্য করে বলেন, “যাঁরা সন্তান হারিয়েছেন, তাঁদের কথা ভাবুন। বুঝবেন, ওই বাবা-মায়ের কষ্ট। যাঁরা পয়সার অভাবে গুয়াহাটি থেকে আসতে পারছেন না। আর আপনি কোর্টের তলব এড়িয়ে টোকিয়ো যেতে চাইছেন! ওই বাবা-মায়ের কাছে কোনটা জরুরি?” 

বিচারপতি মান্থা আক্ষেপের সুরে বলেন, “র‌্যাগিংয়ের ঘটনা এত হালকা ভাবে কেন নিচ্ছেন? এই প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা দেশ তথা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছেন। এমন ঘটনা হলে পড়ুয়াদের মানসিক অসুস্থতা তৈরি হতে পারে। শুধু একটি ছাত্রের ঘটনায় নয়, আদালত চায় এ বিষয়ে সব ছাত্রের জন্য ডিরেক্টর অতি সক্রিয় পদক্ষেপ করুন।” বিচারপতি পুলিশকে দ্রুত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এবং ওই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মাসের ৬ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন আদালত পুলিশকে কেস ডায়েরি নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment