Odisha Flood Situation : অর্ণবের প্রভাবে ওড়িশায় বন্যা, এক ব্লকে ৫৪৬ মিমি বৃষ্টি!

SHARE:

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ওড়িশার গঞ্জাম ও গজপতি জেলায় বন্যা, পত্রপুরে ৫৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টির পর জলবন্দী মানুষদের উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ভুবনেশ্বর : ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি কমেছে, স্থলভাগ ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছে অন্য রাজ্যের দিকে। কিন্তু তার প্রভাবে তৈরি হওয়া দুর্যোগের পরিস্থিতি এখনও সামাল দিতে পারছে না ওড়িশা (Odisha)। প্রবল বৃষ্টিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী ও পাহাড়ি এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন। বিশেষ করে গঞ্জাম (Ganjam) ও গজপতি (Gajapati) জেলার একাধিক ব্লকে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম জলের তলায় চলে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। কোথাও বাড়ির চারপাশে জল জমে যাওয়ায় বাসিন্দারা বাইরে বেরতে পারছেন না, আবার কোথাও নদীর জল ঢুকে জনবসতি প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জলবন্দি মানুষকে উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যে নৌকা নিয়ে উদ্ধারকাজে নেমেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। শুক্রবার গঞ্জাম ও গজপতি জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি (Mohan Charan Majhi)।

আরও পড়ুন : West Bengal Weather Forecast | বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের ধাক্কা, কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা হাওয়া অফিসের

আবহাওয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মৌসম ভবনের (India Meteorological Department) তথ্য অনুসারে, গঞ্জাম জেলার পত্রপুর (Patrapur) ব্লকে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির এই পরিমাণ এক দিনের নিরিখে অত্যন্ত বেশি। শুধু পত্রপুর নয়, জেলার আরও কয়েকটি ব্লকেও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। সুরাডা (Surada), সনাখেমুণ্ডী (Sanakhemundi) ও রঙ্গেলুন্ডা (Rangeilunda) ব্লকে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে নদী, খাল এবং নিচু এলাকার জলস্তর দ্রুত বেড়ে গিয়েছে। বহু জায়গায় বৃষ্টির জল বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গঞ্জাম ও গজপতি জেলার পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। ওড়িশার মুখ্যসচিব অনু গর্গ (Anu Garg) জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে অতিরিক্ত সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। জলবন্দী বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছতে উপকূলরক্ষীবাহিনীর (Indian Coast Guard) হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছে। তবে লাগাতার বৃষ্টি ও আকাশ মেঘে ঢাকা থাকায় এখনই সব জায়গায় হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুকূল হলে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

এদিকে, হেলিকপ্টারের অপেক্ষায় না থেকে নৌকার মাধ্যমে উদ্ধারকাজ শুরু করে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। যেসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, সেখানে নৌকা নিয়ে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গঞ্জাম জেলার ধরকোট (Dharakote), সনাখেমুণ্ডী, সুরাডা ও পত্রপুর ব্লকের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এই চারটি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় দু’হাজারেরও বেশি মানুষ জলবন্দি রয়েছেন। তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিক উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। ধরকোট ব্লকের চারটি জায়গায় বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেখানে হেলিকপ্টারের সাহায্যে প্রায় ১২০ জনকে সরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আকাশপথে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে আবহাওয়ার উন্নতি অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধারকারী দলের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। গঞ্জাম জেলায় অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত বিপন্ন মানুষদের কাছে পৌঁছনো যায়। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত গঞ্জাম জেলায় প্রায় ১১ হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ একই সঙ্গে চালাতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

আরও পড়ুন : IVF treatment | শুধু বন্ধ্যাত্ব নয়, বয়স থেকে হরমোনের সমস্যা! কেন সন্তানধারণে আইভিএফের দিকে ঝুঁকছেন দম্পতিরা?

বন্যা পরিস্থিতির আরও একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে জেলার নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি। গঞ্জাম জেলার ঋষিকুল্লা (Rushikulya) নদী ও গজপতি জেলার বামসাধারা (Vamsadhara) নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। নদীর জল বাড়তে থাকায় আশপাশের নিচু এলাকাগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু জায়গায় নদীর জল লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলের নিচু বসতিগুলিও জলের তলায় চলে গিয়েছে। সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। যাঁদের বাড়িতে জল ঢুকেছে বা যাঁদের যাতায়াতের রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, তাঁদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।

বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে পরিবহণ ব্যবস্থাতেও। অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh) ও ওড়িশার মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। চেন্নাই-হাওড়া রেলপথের (Chennai-Howrah Railway Route) ইচ্ছাপুরম (Ichchapuram) ও ঝড়ুপুরী স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন জলের তলায় চলে গিয়েছে। এর ফলে ওই পথে ট্রেন চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হচ্ছে। রেললাইন থেকে জল না নামা পর্যন্ত স্বাভাবিক পরিষেবা চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বলে সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Donald Trump | India US relations : নরেন্দ্র মোদী-ট্রাম্পের ফোনালাপে বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা থেকে প্রযুক্তি, আঞ্চলিক শান্তি নিয়েও আলোচনা

শুধু রেলপথ নয়, সড়ক যোগাযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ। গঞ্জাম ও গজপতি জেলার সীমানায় অবস্থিত তপ্তপানি ঘাটিতে ৩২৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে। পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির কারণে মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় এই ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। এই জাতীয় সড়ক গঞ্জাম জেলাকে রাজ্যের আরও পাঁচটি জেলার সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ধস নামায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা থাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব (Cyclone Arnab) দুর্বল হয়ে ছত্তীসগঢ়ের (Chhattisgarh) দিকে অগ্রসর হলেও তার প্রভাবে ওড়িশার বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। ফলে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সুন্দরগড় (Sundargarh), ঝরসুগুড়া (Jharsuguda) ও বরগড় (Bargarh) জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি আরও আটটি জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে নদীগুলির জলস্তর আরও বাড়তে পারে। তাতে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জলবন্দী মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে আনা এবং দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। বন্যার কারণে বহু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় খাদ্য, পানীয় জল এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে রেল ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার বিষয়টিও প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ধসের ঝুঁকি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব স্থলভাগে দুর্বল হয়ে পড়লেও ওড়িশার মানুষের কাছে তার প্রভাব এখনও শেষ হয়নি। একদিকে গঞ্জাম ও গজপতিতে বন্যা পরিস্থিতি, অন্য দিকে নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, দুইয়ের কারণে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। রাজ্য প্রশাসন হেলিকপ্টার ও নৌকার সাহায্যে উদ্ধার অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিস্থিতি এবং নদীগুলির জলস্তরের পরিবর্তনই দুর্গত জেলাগুলির পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Manipur Cobra Deployment | মণিপুরে প্রথমবার কোবরা কমান্ডো মোতায়েন! সহিংসতার মাঝে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন