সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ৩০ অক্টোবর ২০২৬: ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব থেমেছে, কিন্তু তার রেশ এখনও কাটেনি। অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ক্রমশ শক্তি হারিয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব (Cyclone Arnab)। স্থলভাগে প্রবেশের পর থেকেই তার গতিবেগ ও তীব্রতা কমতে শুরু করে। বর্তমানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা হারিয়ে সাধারণ নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে অর্ণবের অবশিষ্টাংশ। কিন্তু আবহাওয়ার পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। এর প্রভাবে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) একাধিক জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। অন্য দিকে, বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal) সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় নতুন করে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে একদিকে পুরনো ঘূর্ণিঝড়ের অবশিষ্টাংশ, অন্য দিকে নতুন নিম্নচাপের পরিস্থিতি, দু’য়ের উপরেই লক্ষ্য রাখছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Alipore Meteorological Department)।
আবহাওয়া দফতরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অর্ণবের অবশিষ্টাংশ বর্তমানে ছত্তীসগঢ় (Chhattisgarh) ও তার লাগোয়া পূর্ব মধ্যপ্রদেশের (East Madhya Pradesh) উপর অবস্থান করছে। স্থলভাগে প্রবেশের পর প্রথমে ঘূর্ণিঝড়টি শক্তিশালী নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তার শক্তি আরও কমে যায়। শুক্রবার সকালে সেটি সাধারণ নিম্নচাপ অঞ্চলের চেহারা নেয়। যদিও ঘূর্ণিঝড়ের মূল শক্তি অনেকটাই কমেছে, তবুও তার সঙ্গে যুক্ত বায়ুপ্রবাহ ও জলীয় বাষ্পের কারণে বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটতে পারে। আবহবিদদের লক্ষ্যে আছে নিম্নচাপটির সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তও। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এই ঘূর্ণাবর্ত। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প উত্তরবঙ্গের দিকে প্রবেশ করছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লে মেঘ তৈরির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তার জেরেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। ফলে পাহাড়, ডুয়ার্স এবং সমতলের বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা প্রয়োজন।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে এই বৃষ্টির প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টি হলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রাস্তায় জল জমা, পাহাড়ি পথে যান চলাচলে সমস্যা ও নিচু এলাকায় জল জমার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগে থেকেই মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, সেখানে নতুন করে বৃষ্টি হলে সমস্যা বাড়তে পারে। ডুয়ার্সের চা-বাগান ও নদী সংলগ্ন এলাকাতেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখতে হবে। যদিও সব জায়গায় সমান পরিমাণ বৃষ্টি হবে, এমন কোনও পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। অন্য দিকে, অর্ণবের অবশিষ্টাংশের প্রভাবের পাশাপাশি সমুদ্রের উপর নতুন একটি আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সমুদ্র এলাকায় নতুন করে নিম্নচাপ অঞ্চল গঠনের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। নিম্নচাপ তৈরি হলে তার অবস্থান, গতিপথ এবং শক্তির উপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির পরিস্থিতি বদলাতে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা জানতে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের দুর্বল হয়ে পড়ার পর অনেকেই মনে করতে পারেন, আবহাওয়ার বিপদ কেটে গিয়েছে। কিন্তু আবহবিদদের পর্যবেক্ষণ বলছে, ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি কমে গেলেও তার অবশিষ্টাংশ থেকে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। স্থলভাগে প্রবেশের পর কোনও ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ কমে গেলেও তার সঙ্গে যুক্ত জলীয় বাষ্প এবং ঘূর্ণাবর্ত বেশ কিছু সময় সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে মূল ঘূর্ণিঝড়টি আর শক্তিশালী না থাকলেও বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রভাব বজায় থাকতে পারে। অর্ণবের ক্ষেত্রেও তেমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari, 64 MLAs | শুভেন্দুর ৬৪ বিধায়ক মন্তব্যে জল্পনা, ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা তৃণমূলের
এ ছাড়া নতুন নিম্নচাপ তৈরি হলে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি আরও বদলাতে পারে। বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের প্রবেশ অব্যাহত থাকলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন নিম্নচাপটির অবস্থান ও শক্তি সম্পর্কে পরবর্তী পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটি কোন দিকে অগ্রসর হবে এবং কতটা শক্তিশালী হবে, তার উপর নির্ভর করবে আগামী দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস। দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় আপাতত উত্তরবঙ্গের বৃষ্টির সম্ভাবনাই বেশি করে উঠে এসেছে আবহাওয়া দফতরের পর্যবেক্ষণে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে জলীয় বাষ্পের প্রবেশের কারণে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের আবহাওয়ার নিয়মিত খবরের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কৃষিকাজ, যাতায়াত এবং পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের অবশিষ্টাংশ এখন আর আগের মতো শক্তিশালী না হলেও তার প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। ছত্তীসগঢ় ও পূর্ব মধ্যপ্রদেশের উপর অবস্থানরত নিম্নচাপ এবং তার সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্ত উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি সমুদ্রের উপর নতুন নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা পরিস্থিতিকে আরও নজরদারির মধ্যে রেখেছে। ফলে আপাতত ঘূর্ণিঝড়ের বিদায়েই নিশ্চিন্ত হওয়ার অবকাশ নেই। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা ও সমুদ্রে নতুন নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতিই আগামী দিনের আবহাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smit Machchhar hero, Modi praises Indian pilot | মাঝ-আকাশে হামলা, রক্তাক্ত হয়েও বিমান বাঁচালেন স্মিত! নরেন্দ্র মোদী- ডোনাল্ড ট্রাম্প-বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রশংসা



