সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দীপাবলি কিংবা ছট পুজোর সময় বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন? উৎসবের মরসুমে ট্রেনের টিকিট পাওয়া অনেক যাত্রীর কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। বহু দিন আগে সাধারণ সংরক্ষণের টিকিট কাটার চেষ্টা করেও পছন্দের ট্রেনে আসন মেলে না। ওয়েটিং লিস্টের দীর্ঘ তালিকায় নাম উঠে যাওয়ায় যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় রেলের তৎকাল (Tatkal) টিকিট বুকিংয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন যাত্রীরা। তবে সীমিত আসনের জন্য প্রতিযোগিতা বেশি থাকায় বুকিংয়ের নির্দিষ্ট সময় জানা, আগে থেকে যাত্রীর তথ্য তৈরি রাখা ও দ্রুত অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে বুকিংয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় দেরি এড়ানো সম্ভব, যদিও তৎকাল টিকিট নিশ্চিত পাওয়ার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ভারতীয় রেলের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ট্রেনের যাত্রা শুরুর তারিখের এক দিন আগে তৎকাল টিকিট বুকিং খোলে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গণনা করতে হবে ট্রেনটি তার যাত্রারম্ভের স্টেশন থেকে যে দিন ছাড়বে, সেই তারিখ ধরে। যাত্রাপথের মাঝের কোনও স্টেশন থেকে উঠলেও বুকিংয়ের তারিখ নির্ধারণে ট্রেনের মূল যাত্রারম্ভের দিনই বিবেচিত হয়। রেলের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শ্রেণির জন্য বুকিং শুরু হয় সকাল ১০টায়। নন-এসি শ্রেণির ক্ষেত্রে সময় সকাল ১১টা। এই নিয়মের আওতায় এসি ২ টিয়ার, এসি ৩ টিয়ার, চেয়ার কার ও অন্যান্য নির্ধারিত শ্রেণির তৎকাল বুকিং করা যায়। স্লিপার ও অন্যান্য নির্দিষ্ট নন-এসি শ্রেণির বুকিং শুরু হয় সকাল ১১টায়। তবে সব ট্রেন, শ্রেণি বা যাত্রাপথে তৎকাল কোটা পাওয়া যায় না।
ধরা যাক, কোনও ট্রেন ২৮ অক্টোবর তার যাত্রারম্ভের স্টেশন থেকে ছাড়বে। সে ক্ষেত্রে সেই ট্রেনের তৎকাল বুকিং খোলার কথা ২৭ অক্টোবর। এসি শ্রেণির জন্য সকাল ১০টা ও স্লিপার শ্রেণির জন্য সকাল ১১টায় বুকিং শুরু হবে। তাই যাত্রার তারিখের আগের দিন কোন সময়ে বুকিং করতে হবে, তা আগে থেকেই ক্যালেন্ডারে লিখে রাখা ভাল। উৎসবের সময় শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটতে গিয়ে সময় ভুল করলে সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। বুকিংয়ের প্রস্তুতি শুরু করা উচিত আরও আগে। প্রথমেই IRCTC-এর (Indian Railway Catering and Tourism Corporation) সরকারি ওয়েবসাইট বা Rail Connect অ্যাপে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে দেখে নিন, প্রোফাইল সক্রিয় রয়েছে কি না। অনলাইনে তৎকাল টিকিট কাটতে বর্তমানে আধার-যাচাইকৃত অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন। আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি দিয়ে যাচাইকরণ সম্পূর্ণ করতে হয়। তাই বুকিংয়ের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগে থেকেই অ্যাকাউন্টের আধার যাচাইকরণ, নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য মিলিয়ে নিন। আধার-যাচাইকরণ সম্পূর্ণ না থাকলে বুকিংয়ের সময় সমস্যায় পড়তে পারেন। বুকিংয়ের সময় দ্রুত এগোতে যাত্রীদের নাম, বয়স, লিঙ্গ ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য আগে থেকে প্রস্তুত রাখা সুবিধাজনক। IRCTC-তে মাস্টার লিস্টের সুবিধা থাকলে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন পরিবারের সদস্যদের তথ্য আগেই সংরক্ষণ করে রাখা যায়। বুকিংয়ের সময় সেই তালিকা থেকে যাত্রী নির্বাচন করলে প্রতিটি তথ্য নতুন করে টাইপ করতে হয় না। তবে নাম ও অন্যান্য বিবরণ যাত্রীর পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। ভুল তথ্য দিয়ে বুকিং করলে পরে অসুবিধা হতে পারে।
নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগে IRCTC-এর ওয়েবসাইট বা অ্যাপে লগ ইন করে রাখুন। যাত্রার জন্য ‘From’ ও ‘To’ ঘরে সঠিক স্টেশন নির্বাচন করুন। এর পরে যাত্রার তারিখ বসিয়ে টিকিটের ধরন হিসেবে ‘E-ticket’ ও কোটা হিসেবে ‘Tatkal’ বেছে নিন। ট্রেনের তালিকা আসার পর পছন্দের ট্রেনের নির্ধারিত শ্রেণিতে আসন রয়েছে কি না, তা দেখে বুকিংয়ের ধাপে এগিয়ে যান। সকাল ১০টা বা ১১টার সময়সীমা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক যাত্রী একই সময়ে চেষ্টা করেন। ফলে ওয়েবসাইট বা অ্যাপে সাময়িক ধীরগতি দেখা দিতে পারে। সে কারণে আগে থেকে যাত্রার তথ্য তৈরি রাখা ও প্রয়োজনীয় পছন্দ ঠিক করে নেওয়া কাজে আসে। যাত্রীদের একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার যে, তৎকাল বুকিংয়ের সময় আসন দেখা গেলেও চূড়ান্ত বুকিং সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত টিকিট নিশ্চিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। যাত্রীর তথ্য দেওয়ার পরে পেমেন্টের ধাপে যেতে হবে। সেখানে উপলব্ধ অর্থপ্রদানের পদ্ধতিগুলির মধ্যে নিজের সুবিধামতো একটি বেছে নিন। UPI, কার্ড বা IRCTC -এর ই-ওয়ালেটের মতো যে বিকল্পগুলি আপনার অ্যাকাউন্টে দেখানো হবে, সেগুলির সাহায্যে অর্থ দেওয়া যেতে পারে। ই-ওয়ালেট ব্যবহার করলে দ্রুত লেনদেনের সুবিধা হতে পারে, তবে সেটি ব্যবহার করার জন্য আগে থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ থাকা এবং অ্যাকাউন্টে সুবিধাটি সক্রিয় থাকা দরকার। কোনও একটি পদ্ধতি সব পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
পেমেন্ট সম্পূর্ণ হওয়ার পর টিকিটের অবস্থা, পিএনআর (PNR) নম্বর ও বুকিংয়ের বিবরণ ভাল করে দেখে নিন। টাকা কেটে গেলেও বুকিং সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে আবার সঙ্গে সঙ্গে একই টিকিট কাটার চেষ্টা করবেন না। আগে বুকিংয়ের অবস্থা যাচাই করুন। সফল বুকিংয়ের পর ই-টিকিট সংরক্ষণ করে রাখুন ও যাত্রার সময় প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিন। বুকিংয়ের সময় যে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়, তা যথাযথ ভাবে পূরণ করা জরুরি। তৎকাল টিকিট কাটার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নিশ্চিত টিকিট বাতিল করলে সাধারণত টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। তবে রেলের নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম আছে। ওয়েটিং লিস্টের টিকিট বাতিল কিংবা অন্যান্য পরিস্থিতিতে ফেরতের নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই বুকিংয়ের আগে বাতিল ও ফেরতের শর্তগুলি দেখে নেওয়া উচিত। তৎকাল কোটায় আসন সীমিত হওয়ায় যাত্রার পরিকল্পনা নিশ্চিত করে টিকিট কাটাই ভাল। দীপাবলি ও ছট পুজোর সময়ে বাড়ি ফেরার জন্য শেষ মুহূর্তে টিকিটের উপর নির্ভর না করে সাধারণ সংরক্ষণের সুযোগ থাকলে আগে থেকেই চেষ্টা করুন। সাধারণ টিকিট না পেলে তৎকাল বুকিংয়ের সময়, যাত্রারম্ভের তারিখ, আধার যাচাইকরণ ও পেমেন্টের প্রস্তুতি মিলিয়ে নিন। IRCTC -এর সরকারি ওয়েবসাইট বা অ্যাপে বুকিংয়ের সময় যে নিয়ম ও বিকল্প দেখানো হবে, সেটিকেই চূড়ান্ত বলে ধরুন। মনে রাখবেন, দ্রুত বুকিংয়ের প্রস্তুতি আপনার সময় বাঁচাতে পারে, কিন্তু উৎসবের বিপুল চাহিদার মধ্যে নিশ্চিত আসন পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। পরিকল্পনা যত আগে করবেন, বাড়ি ফেরার যাত্রা সামলানো ততটাই সহজ হতে পারে।
ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal weather update | কলকাতায় ফের নামল পারদ, দক্ষিণের পাঁচ জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা! জাঁকিয়ে শীত উত্তরবঙ্গে, সরস্বতী পুজোয় কি আরও ঠান্ডা বাড়বে?



