JEE Main 2027 Registration, JEE Main Digital Verification | JEE Main 2027 -এ লাইভ ছবি ও ডিজিটাল পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক, আবেদনের শেষ তারিখ ২২ নভেম্বর

SHARE:

JEE Main 2027-এর আবেদন প্রক্রিয়ায় লাইভ ফটো ক্যাপচার ও ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের নতুন নিয়ম

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন মেন (Joint Entrance Examination Main বা JEE Main) ২০২৭ -এর আবেদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন নিয়ম চালু করেছে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (National Testing Agency বা NTA)। এবার থেকে পরীক্ষায় বসতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের অনলাইন আবেদন করার সময় লাইভ ছবি তুলতে হবে ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। পরীক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করা, অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার মতো জালিয়াতি ঠেকানো ও আবেদন প্রক্রিয়ায় নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাঁরা, তাঁদের আবেদন করার আগে নতুন নিয়মগুলি ভালো করে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। JEE Main 2027-এর প্রথম সেশনের জন্য অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী, নিয়মিত আবেদনের শেষ দিন ২২ নভেম্বর ২০২৬। এরপর ২৩ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ফী দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে প্রকাশিত তথ্যসূত্রে জানানো হয়েছে। প্রার্থীদের আবেদন করতে হবে এনটিএর নির্ধারিত ওয়েবসাইট (https://jeemain.nta.nic.in-এ।) শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়াতে প্রয়োজনীয় নথি ও পরিচয়পত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন : S Jaishankar, International Peace Talks | দুই সংঘাত থামাতে উদ্যোগী ভারত, কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের শুধু আগে থেকে তোলা ছবি আপলোড করলেই চলবে না। আবেদনপত্র পূরণের সময় সরাসরি ক্যামেরার সাহায্যে লাইভ ছবি তুলতে হবে। কম্পিউটারে ওয়েবক্যাম অথবা মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে এই কাজ করা যাবে। পাশাপাশি কিউআর কোড স্ক্যান করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছবি তোলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে আবেদনপত্রে দেওয়া ছবির সঙ্গে আবেদনকারীর বর্তমান চেহারা মিলিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হবে। পরীক্ষার আগে পরিচয় যাচাইয়ের এই অতিরিক্ত ধাপ জালিয়াতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। লাইভ ছবি তোলার পাশাপাশি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট মাপের ছবিও আপলোড করতে হবে। ছবির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে। মুখের অধিকাংশ অংশ যেন পরিষ্কারভাবে দেখা যায়, সে দিকে নজর দিতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ছবিতে মুখের প্রায় ৮০ শতাংশ দৃশ্যমান থাকতে হবে ও কানও দেখা যাওয়া প্রয়োজন। ছবির পটভূমি সাদা হওয়া বাঞ্ছনীয়। মাস্ক পরা ছবি গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ছবির ফাইলের মাপ ও ধরন এনটিএর নির্দেশিকা অনুযায়ী হতে হবে। ফলে ছবি তোলার সময় আলো, ক্যামেরার অবস্থান আর মুখের দৃশ্যমানতার দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi on foreign travel | বিদেশ ভ্রমণ থেকে সোনা কেনা অভ্যাস বদলের ডাক নরেন্দ্র মোদীর, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দেশেই খরচের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। আবেদনকারীরা ডিজিটালকার (DigiLocker), মেরি পেহচান (Meri Pehchaan) অথবা জন পরিচয়ের মতো নির্ধারিত ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার সাহায্য নিতে পারবেন বলে সূত্রের খবর। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদনকারীর পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হবে। ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের সময় কোনও তথ্য ভুল থাকলে বা নথির সঙ্গে আবেদনপত্রে দেওয়া বিবরণের অমিল দেখা দিলে আবেদন সম্পন্ন করতে সমস্যা হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে নাম, জন্মতারিখ এবং পরিচয়পত্রের অন্যান্য তথ্য ভালো করে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। এনটিএর এই পদক্ষেপের পিছনে অন্যতম কারণ হল পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা। জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া অংশ নেন। এত বড় পরীক্ষার আয়োজন করতে গিয়ে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আপলোড করা ছবির উপর নির্ভর না করে লাইভ ছবি সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু হলে আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যাবে। তবে ছবি তোলা বা ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ে কোনও সমস্যা দেখা দিলে প্রার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে তার সমাধান করতে হবে। পরিচয় সংক্রান্ত অসঙ্গতি ধরা পড়লে আবেদন আটকে যাওয়া বা পরবর্তী পর্যায়ে প্রার্থীপদ নিয়ে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

আবেদনের আগে আধার কার্ডের তথ্য হালনাগাদ করে রাখার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ এবং ছবির সঙ্গে মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির শংসাপত্রে থাকা তথ্যের মিল থাকা প্রয়োজন। পরিচয়পত্রে পুরনো ছবি থাকলে কিংবা নামের বানানে অমিল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। সংরক্ষিত শ্রেণির সুবিধা নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের প্রযোজ্য জাতিগত বা শ্রেণিগত শংসাপত্রও প্রস্তুত রাখতে হবে। আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দিলে পরবর্তী সময়ে তা সংশোধন করা কঠিন হতে পারে। তাই প্রতিটি ঘরে তথ্য পূরণ করার পর জমা দেওয়ার আগে পুরো আবেদনপত্র একবার পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। উল্লেখ্য যে, JEE Main 2027 -এর প্রথম সেশনের পরীক্ষা ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪ এবং ২৮ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে আয়োজনের কথা রয়েছে। দ্বিতীয় সেশন এপ্রিল মাসে হওয়ার কথা। তবে পরীক্ষার দিনক্ষণ, আবেদন সংক্রান্ত নিয়ম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের ক্ষেত্রে এনটিএর সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। প্রার্থীদের তাই নিয়মিত সরকারি ওয়েবসাইটে নজর রাখা প্রয়োজন। পরীক্ষার সূচিতে কোনও পরিবর্তন হলে তা জানার জন্যও সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা জরুরি।

আরও পড়ুন : UPSC : UPSC -এর নতুন চেয়ারপার্সন প্রাক্তন আমলা প্রীতি সূদন

যোগ্যতার নিরিখে ২০২৫ বা ২০২৬ সালে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পড়ুয়া ও ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় বসতে চলেছেন এমন প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন বলে দেওয়া সূত্রের খবর। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক শর্ত, বয়স সংক্রান্ত প্রযোজ্য নিয়ম ও অন্যান্য যোগ্যতার বিষয়গুলি নিশ্চিত করার জন্য আবেদনকারীদের সরকারি তথ্যপত্র পড়ে নেওয়া উচিত। শুধু আবেদন করার সুযোগ থাকলেই যে প্রত্যেক প্রার্থী পরীক্ষায় বসার সমস্ত শর্ত পূরণ করছেন, তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নতুন নিয়মের কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ছে। বিশেষ করে যাঁরা মোবাইল ফোন থেকে আবেদন করবেন, তাঁদের ক্যামেরা সচল রয়েছে কি না, ইন্টারনেট সংযোগ স্থিতিশীল কি না ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল নথিতে প্রবেশ করা যাচ্ছে কি না, তা আগে পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। লাইভ ছবি তোলার সময় পর্যাপ্ত আলো রয়েছে এমন জায়গায় বসা উচিত। মুখে অতিরিক্ত ছায়া পড়লে কিংবা ছবির মান খারাপ হলে পরিচয় যাচাইয়ে অসুবিধা হতে পারে। একই সঙ্গে আবেদনপত্রের তথ্য পূরণের সময় তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি বিবরণ সতর্কতার সঙ্গে লিখতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর পরিচয় যাচাইয়ের ফলে পরীক্ষার নিরাপত্তা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও ডিজিটাল ব্যবস্থায় অভ্যস্ত নন এমন পড়ুয়াদের কিছু সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। গ্রামীণ এলাকার পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ, ক্যামেরাযুক্ত উপযুক্ত যন্ত্রের অভাব অথবা ডিজিটাল নথি ব্যবহারে অনভিজ্ঞতা অসুবিধার কারণ হতে পারে। তাই আবেদন করার শেষ দিনের অপেক্ষা না করে হাতে সময় থাকতেই প্রক্রিয়া শুরু করা সুবিধাজনক। প্রয়োজন হলে সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করে সহায়তা নিতে হবে। অন্যদিকে, JEE Main-এর ফলের উপর নির্ভর করে বহু পড়ুয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির পরবর্তী পথ নির্ধারিত হয়। তাই আবেদন প্রক্রিয়ায় ছোটখাটো ভুলও এড়িয়ে চলা জরুরি। লাইভ ফটো ক্যাপচার, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই ও নথির তথ্যের মিল এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিলে আবেদন জমা দেওয়ার সময় জটিলতার আশঙ্কা কমতে পারে। ২২ নভেম্বর ২০২৬-এর নিয়মিত আবেদনের শেষ তারিখ মাথায় রেখে পড়ুয়াদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। আবেদন সংক্রান্ত চূড়ান্ত নিয়ম, ছবি আপলোডের মাপ আর পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি জানতে এনটিএর সরকারি ওয়েবসাইটই হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : UPSC cancel Puja Khedkar’s provisonal candidature as IAS : পূজার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল UPSC

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন