মেধা পাল, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বছর ঘুরে আবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। আর এই উৎসব এলেই নিজের সংসারের পুজো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya)। অভিনয়ের ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে বাড়ির লক্ষ্মী আরাধনায় তিনি মন দেন। প্রতিমার সাজ থেকে পুজোর নানা আয়োজন, সবেতেই থাকে তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ ও যত্নের ছাপ। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। দেবীর জন্য নিজে হাতে পোশাক ও গয়না বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী। অন্য দিকে, রান্নাঘরে চলছে ভোগ তৈরির তোড়জোড়। নারকেল নাড়ু, চিঁড়ে-মুড়ির মোয়া তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। পুজোর দিনের ভোগের তালিকাতেও রয়েছে একাধিক পরিচিত বাঙালি পদ। তবে এ বছরের আয়োজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে অপরাজিতার দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, ঘরের লক্ষ্মী তাঁর হাত দিয়েই নিজের ইচ্ছা পূরণ করিয়ে নেন।

টালিগঞ্জের অভিনয়জগতে পরিচিত মুখ অপরাজিতা। টেলিভিশন থেকে সিনেমা, নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু দুর্গাপুজো কিংবা লক্ষ্মীপুজোর মতো পারিবারিক উৎসবের সময় তাঁর পরিচয়ের অন্য একটি দিক সামনে আসে। তখন তিনি শুধুই অভিনেত্রী নন, বাড়ির পুজোর অন্যতম প্রধান আয়োজক। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে তাঁর বাড়িতে যে আয়োজন হয়, তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই। পুজোর সময় যত এগিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে কাজের ব্যস্ততা। আর সেই ব্যস্ততার বড় অংশ জুড়ে থাকেন নিজেই। অপরাজিতার কাছে লক্ষ্মীপুজো পরিবারের দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশেষ একটি দিন। বছরের এই সময়ে অভিনয়ের কাজের চাপের মধ্যেও তিনি বাড়ির পুজোর জন্য আলাদা করে সময় রাখেন। দেবীর সাজসজ্জার দায়িত্বও নিজের হাতে তুলে নেন। অভিনেত্রীর কথায়, নিজে সাজতে তাঁর ভালো লাগে, আর সেই ভালো লাগা থেকেই মাকে সাজানোর কাজটি তিনি নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। দেবীর পোশাক, অলঙ্কার এবং সাজের ধরন বেছে নেওয়ার মধ্যে তাই রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত রুচির ছাপ।
এবারের পুজোতেও প্রতিমাকে সাজানোর জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন অপরাজিতা। ইসকন থেকে দেবীর পোশাক আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই পোশাক এসে না পৌঁছনোয় নিজের মতো করেই অপরাজিতা বিকল্প ব্যবস্থা করেছেন। মায়ের জন্য কিনেছেন ঘাগরা-চোলি এবং বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কার। ফলে পোশাক আসতে দেরি হলেও সাজের আয়োজন থেমে থাকেনি। নিজের পছন্দমতো পোশাক ও গয়না বেছে নিয়ে দেবীকে সাজানোর প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছেন অভিনেত্রী। অপরাজিতার বাড়িতে বছরের পর বছর ধরে একই প্রতিমার পুজো হয়ে আসছে। প্রতিমা বদল না হলেও সাজের ক্ষেত্রে প্রতি বছরই নতুনত্ব রাখার চেষ্টা করেন তিনি। কখনও পোশাকের ধরনে বদল আসে, কখনও অলঙ্কার কিংবা সাজের উপকরণে দেখা যায় ভিন্নতা। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন ভাবনার যোগ তৈরি হয়। তাঁর কাছে পুজোর আনন্দের একটি বড় অংশ হল নিজের হাতে দেবীকে সাজিয়ে তোলা। তাই প্রতিমার সাজ নিয়ে তিনি কোনও রকম তাড়াহুড়ো করতে চান না।
এ বারের পুজোর প্রস্তুতিতে খাবারের আয়োজনও সমান গুরুত্ব পেয়েছে। অপরাজিতার শাশুড়ি ভোগ রান্নার দায়িত্ব সামলান। পুজোর দু’দিন আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ঘরোয়া প্রস্তুতি। বাঙালির লক্ষ্মীপুজোর পরিচিত মিষ্টি পদ নারকেল নাড়ু তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বানানো হয়েছে চিঁড়ে ও মুড়ির মোয়া। পুজোর দিনে অতিথি-পরিজনদের জন্য কী কী খাবার থাকবে, তা নিয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা। বাড়ির পুজোয় রান্নার এই প্রস্তুতি শুধু খাবার তৈরির কাজ নয়, পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে উৎসবের মধ্যে যুক্ত রাখারও একটি উপায়। এ বছরের ভোগের তালিকায় থাকছে ভেজ চপ, খিচুড়ি, লাবড়া, খেজুর-আমসত্ত্বের চাটনি, পায়েস ও মিষ্টি। বাঙালির পুজোর ভোগে খিচুড়ি ও লাবড়ার চিরাচরিত উপস্থিতি থাকছে, তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে অন্যান্য পদ। খিচুড়ির সঙ্গে লাবড়া, চাটনি ও মিষ্টির আয়োজন পুজোর দিনের খাবারকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলবে। নিরামিষ পদের এই তালিকায় যেমন রয়েছে ঘরোয়া রান্নার পরিচিত স্বাদ, তেমনই রয়েছে উৎসবের দিনের বিশেষ আয়োজন। আর সেই খাবার তৈরির প্রস্তুতিতে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা যে গুরুত্বপূর্ণ, তা অপরাজিতার কথাতেই উঠে এসেছে।
অভিনেত্রীর বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা। এই দীর্ঘ সময়ে পুজোর নানা মুহূর্তের অপরাজিতা সাক্ষী থেকেছেন। সেই সময়ের মধ্যে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু করতে চাইলেও অনেক সময় পরিস্থিতি অন্য দিকে গিয়েছে বলে মনে করেন অপরাজিতা। তাঁর বিশ্বাস, ঘরের লক্ষ্মী যেন নিজের ইচ্ছাতেই তাঁকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেন। নিজের এই অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, গত ২৯ বছরে যখনই তিনি নিজের মতো করে কিছু করতে চেয়েছেন, মায়ের পছন্দ না হলে তাঁর হাত দিয়ে অন্য কোনও কাজ করানো হয়েছে। অপরাজিতার কথায়, ‘এই ২৯ বছরে আমি যখনই নিজে কিছু করতে গিয়েছি, মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করিয়েছেন।’
অভিনেত্রীর এই মন্তব্যে ধরা পড়ে পুজোকে ঘিরে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গাটি। প্রতিমার সাজ থেকে শুরু করে ভোগের আয়োজন এসব কিছুর মধ্যে তিনি যেন দেবীর ইচ্ছারই প্রতিফলন খুঁজে পান। তাই কোনও পরিকল্পনা বদলে গেলেও তা নিয়ে তাঁর মধ্যে অতিরিক্ত উদ্বেগ দেখা যায় না। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থা করে পুজোর প্রস্তুতি চালিয়ে যান। বাঙালি পরিবারে লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ঘর সাজানো, আলপনা, ফল-মিষ্টি নিবেদন ও পরিবারের সবার অংশগ্রহণ। অপরাজিতার বাড়ির আয়োজনেও সেই পরিচিত আবহ রয়েছে। তবে তাঁর পুজোর একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হল, প্রতিমার সাজে প্রতি বছর আলাদা কিছু করার চেষ্টা। নিজের পছন্দের পোশাক ও গয়না দিয়ে দেবীকে সাজানোর মধ্যে তিনি যে আনন্দ খুঁজে পান, তা তাঁর কথাতেই ধরা পড়েছে। অভিনয়ের পেশাগত ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে বাড়ির পুজোয় সময় দেওয়াও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় তাই অপরাজিতার বাড়িতে এক দিকে চলছে প্রতিমার সাজের শেষ প্রস্তুতি, অন্য দিকে তৈরি হচ্ছে ভোগের নানা পদ। ইসকন থেকে পোশাক আসতে দেরি হলেও নিজের কেনা ঘাগরা-চোলি ও অলঙ্কার নিয়ে প্রস্তুত অভিনেত্রী। রান্নাঘরে নারকেল নাড়ু, মোয়া থেকে শুরু করে পুজোর দিনের খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি ও পায়েসের আয়োজনও এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘ ২৯ বছরের পারিবারিক রীতি, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং উৎসবের আনন্দ, এসব মিলিয়ে অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজো এ বারও তাঁর নিজের হাতে সাজানো এক আন্তরিক আয়োজন হয়ে উঠতে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mahalaxmi Rajyog 2026 | মঙ্গল-চন্দ্রের যুগলবন্দীতে মহালক্ষ্মী রাজযোগ ২০২৬: চার রাশির জীবনে অর্থ ও অগ্রগতির জোয়ার!



