Tibet earthquake magnitude 7, China earthquake casualties | তিব্বতে ফের ভয়াবহ ভূমিকম্প! মৃত অন্তত ১৮, আহত ৫৬, ধ্বংস ৩০০-র বেশি বাড়ি, তুষারপাতের পূর্বাভাসে বাড়ছে উদ্বেগ

SHARE:

Rescue operations among damaged homes and landslide-affected mountain settlements after a powerful earthquake in Tibet.

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেজিং: তিব্বতে ফের বড়সড় ভূমিকম্পে (Tibet earthquake) বিপর্যস্ত জনজীবন। শক্তিশালী কম্পনে কেঁপে উঠেছে চিনের নিয়ন্ত্রণাধীন তিব্বত ও সংলগ্ন এলাকা। ধসে পড়েছে তিন শতাধিক বাড়ি, প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন। আহত হয়েছেন আরও ৫৬ জন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। ভূমিকম্পের পর পাহাড়ি এলাকায় একাধিক জায়গায় ধস নামায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েকটি জনপদ। বন্ধ হয়ে গিয়েছে বহু রাস্তা, ব্যাহত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে চিন সরকার। কিন্তু আগামী ২৪ ঘণ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধারকাজ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজে দেরি হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চিনের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তিব্বত এবং সংলগ্ন চিনা ভূখণ্ডে জোরালো কম্পন অনুভূত হয়। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তখন রাত ৮টা ৩ মিনিট।

আরও পড়ুন : India US Trade Deal: কেন আটকে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি! কয়েক সপ্তাহেই চুক্তি, জানালেন মার্কো রুবিয়ো

বেজিংয়ের আর্থকোয়েক নেটওয়ার্ক সেন্টারের (Beijing Earthquake Network Center) প্রাথমিক সূত্রের খবর, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭। এর প্রায় ৪০ মিনিট পর একই অঞ্চলে ফের একটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫। পরপর দুটি কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫৬ জন। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৩০০ -এর বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় বাড়ির দেওয়াল ও ছাদ ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত জনপদে দ্রুত পৌঁছনো কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভূমিকম্পতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তর তিব্বতের বাকেন কাউন্টির মারু টাউনশিপ (Maru Township, Baken County)। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় সেখানে উদ্ধারকাজ চালাতে একাধিক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। ভূমিকম্পের অভিঘাতে পাহাড়ের ঢাল থেকে পাথর ও মাটি নেমে আসায় বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কোথাও কোথাও ধসের কারণে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ও দুর্গতদের কাছে খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে শুধু বাড়িঘর নয়, স্থানীয় পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি অঞ্চলে রাস্তা বন্ধ থাকলে উদ্ধারকারী দলকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয়। তাতে সময় বেশি লাগার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি শীতপ্রধান অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা কমে গেলে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন : S Jaishankar US China rivalry | Munich Security Conference : আমেরিকার একাকীত্ব, চিনের উত্থান! বদলে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ! মিউনিখ সম্মেলনে জয়শঙ্করের বড় মন্তব্য

ভারতের জাতীয় ভূকম্পন সর্বেক্ষণ কেন্দ্র (National Center for Seismology বা NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল অরুণাচল প্রদেশের পান্ডিন এলাকা থেকে প্রায় ৪৮৯ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। তিব্বতের নাগকু (Nagqu) শহর থেকে ওই স্থানের দূরত্ব প্রায় ১৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে। তিব্বতের রাজধানী লাসা (Lhasa) থেকে এলাকাটি প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ায় কম্পনের প্রভাব বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালে ধস নামার ঝুঁকিও বেড়েছে। প্রথম কম্পনের কিছুক্ষণ পর ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৪২ মিনিট নাগাদ দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাতীয় ভূকম্পন সর্বেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫। এর উৎসস্থল ছিল অরুণাচল প্রদেশের বাসার (Basar) এলাকা থেকে প্রায় ৩২৩ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। দ্বিতীয় কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দু’টি কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। তবে ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকের আশঙ্কা থাকলে কী ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুসরণ করা জরুরি।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে চিন সরকার লেভেল-৩ সতর্কতা জারি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে উদ্ধারকারী দল এবং ত্রাণসামগ্রী। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও আশ্রয়হীন বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই আপাতত প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে খাবার ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি উদ্ধারকাজের গতিকে প্রভাবিত করতে পারে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাত শুরু হলে রাস্তা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ধসের কারণে আগে থেকেই বন্ধ থাকা পথগুলিতে বরফ জমলে উদ্ধারকারী যান চলাচল আরও কঠিন হবে। পাশাপাশি কম তাপমাত্রায় খোলা জায়গায় থাকা দুর্গতদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে আহত ব্যক্তি, শিশু এবং প্রবীণদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। প্রতিকূল আবহাওয়ার আগে উদ্ধারকাজের গতি বাড়ানো না গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছনো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : India Magnet free EV Motor | চীনের একচেটিয়া আধিপত্যে ধাক্কা! বিরল ধাতু ছাড়াই শুধু সফটওয়্যারে ইভি মোটর তৈরি করল ভারত

তিব্বতে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে এই ভূমিকম্প নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট তিব্বত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বানের ঘটনা ঘটেছিল বলে মূল সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল ও প্রায় সমসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ ছিলেন বলে উল্লেখ। এর পরে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চিন নিয়ন্ত্রিত তিব্বত অঞ্চলে প্রায় ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কথাও ওই সূত্রে জানানো হয়েছে। পরপর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে পাহাড়ি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ পরিকাঠামোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর আগেও চিনের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চিনের গানসু (Gansu) প্রদেশে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শীতের মধ্যে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ চালাতে হয়েছিল। চিনের পশ্চিমাঞ্চল ও তিব্বত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ পার্বত্য এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকায় সেখানে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি, ভবন নির্মাণের নিরাপত্তা এবং দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিব্বতের দুর্গত মানুষদের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। ধসে পড়া বাড়ির নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, আহতদের চিকিৎসা কত দ্রুত শুরু করা যাচ্ছে এবং বিচ্ছিন্ন জনপদগুলির সঙ্গে যোগাযোগ কখন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে, তার উপরই আগামী কয়েক ঘণ্টার পরিস্থিতি নির্ভর করছে। ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধারকাজে সময়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রশাসনের তরফে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও দুর্গত এলাকার বিস্তারিত তথ্য সামনে এলে বিপর্যয়ের প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে আরও জানা যাবে। উল্লেখ্য যে, তিব্বতে পরপর ভূমিকম্প, বাড়িঘর ধসে পড়া, রাস্তায় ধস ও আসন্ন তুষারপাতের আশঙ্কা ইত্যাদি পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আপাতত উদ্ধারকারী দলগুলির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত পৌঁছে প্রাণহানি কমানো ও বিপর্যস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা। আগামী দিনে আবহাওয়ার অবনতি হলে উদ্ধারকাজ আরও জটিল হতে পারে। তাই ত্রাণ, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত শেষ করা দুর্গত এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Raghunathganj Padma river erosion | দোরগোড়ায় পদ্মা, এক রাতেই তলিয়ে গেল ১৯ বাড়ি ও প্রাচীন মন্দির! আতঙ্কে রঘুনাথগঞ্জ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন