Telangana reservoir water levels | তেলঙ্গানায় বৃষ্টির ঘাটতি ৯৫ শতাংশ, শুকোচ্ছে জলাধার, সঙ্কটে কৃষি ও বিদ্যুৎ

SHARE:

Telangana faces a severe rainfall deficit of nearly 95% in October, declining reservoir storage, rising irrigation costs and growing power demand. The state has identified 315 mandals as drought-affected.

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন, তার সঙ্গে বৃষ্টির ব্যাপক ঘাটতি, জোড়া সঙ্কটে বিপর্যস্ত তেলঙ্গানার কৃষি ও গ্রামীণ জনজীবন (Telangana reservoir water levels) বর্ষা বিদায় নেওয়ার পরও পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা নেই। অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহে রাজ্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কম বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department)। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ধানখেতে জল পৌঁছে দিতে ট্যাঙ্কারের সাহায্য নিতে হচ্ছে কৃষকদের। অন্য দিকে, কৃষ্ণা ও গোদাবরী নদী অববাহিকার জলাধারগুলিতে জলের সঞ্চয় কমে যাওয়ায় সেচব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কৃষিকাজে জল সরবরাহের চাপের পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। রাজ্যের ৩১৫টি মণ্ডলকে খরাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব সামনে এনেছে সরকার। তবে কৃষকদের দুরবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, আগাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও জলসম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও সেচ প্রকল্প পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারেনি রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন : IVF treatment | শুধু বন্ধ্যাত্ব নয়, বয়স থেকে হরমোনের সমস্যা! কেন সন্তানধারণে আইভিএফের দিকে ঝুঁকছেন দম্পতিরা?

ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তেলঙ্গানায় মাত্র ৩.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অথচ এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় ৭৬ মিলিমিটার। অর্থাৎ, স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৯৫ শতাংশ। রাজ্যের একাধিক এলাকায় বৃষ্টির দেখা না মেলায় চাষের জমিতে আর্দ্রতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে তেলঙ্গানার ১২টি জেলায় একেবারেই বৃষ্টি হয়নি। ফলে রবিশস্যের প্রস্তুতি এবং চলতি কৃষি মরসুমে জল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্ষার মরসুম শেষ হওয়ার সময়েও তেলঙ্গানায় বৃষ্টির ঘাটতি ছিল। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায়পর্বে রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। তার পরে অক্টোবর মাসে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। কৃষিকাজের জন্য যে সময়ে জমিতে নিয়মিত জলের প্রয়োজন, সেই সময়েই পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ধানচাষের ক্ষেত্রে জমিতে প্রয়োজনীয় জল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক কৃষককে বিকল্প উপায়ে জমিতে জল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতে হচ্ছে। ট্যাঙ্কারে জল নিয়ে এসে ধানখেতে দেওয়া সেই সঙ্কটেরই একটি দিক। এতে চাষের খরচ বাড়ছে, অথচ উৎপাদন কতটা বজায় রাখা যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বৃষ্টির অভাবের প্রভাব পড়েছে রাজ্যের জলাধারগুলিতেও। সেচ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষ্ণা (Krishna River) ও গোদাবরী (Godavari River) নদী অববাহিকার জলাধারগুলিতে গত বছরের তুলনায় জলের সঞ্চয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। এই দুই নদী তেলঙ্গানার কৃষি ও জলসম্পদ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদী অববাহিকার জলাধারগুলিতে সঞ্চিত জল সেচ, পানীয় জল এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে কাজে লাগে। জলস্তর কমে গেলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জল বণ্টনের উপরে চাপ বাড়ে। কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত জল সরবরাহ বজায় রাখা তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। জলাধারে জলের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে সেচের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন বাড়ছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি না হলে শুধু জলাধারের সঞ্চিত জলের উপরে নির্ভর করে চাষের প্রয়োজন মেটানো কঠিন। তার সঙ্গে ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার বাড়লে কৃষকদের খরচও বাড়তে পারে। যাঁদের নিজস্ব সেচের ব্যবস্থা নেই, তাঁদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। ধানচাষের মতো জলনির্ভর কৃষিকাজে সেচের খরচ বৃদ্ধি পেলে কৃষকদের লাভের অঙ্কে বড় প্রভাব পড়তে পারে। উৎপাদন কমে গেলে বা ফসলের ক্ষতি হলে ঋণ পরিশোধ এবং পরবর্তী মরসুমের চাষের খরচ জোগাড় করাও কঠিন হতে পারে।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Dussehra Speech | ‘দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে’, দশেরার মঞ্চ থেকে বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

পরিস্থিতি সামাল দিতে তেলঙ্গানা সরকার ইতিমধ্যে রাজ্যের ৩১৫টি মণ্ডলকে খরাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ১০১টি মণ্ডলকে অত্যন্ত গুরুতর ও ২১৪টি মণ্ডলকে মাঝারি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে ১,৯৮৬.৮৯ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই অর্থ কীভাবে এবং কত দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছবে, তা পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, চাষের মরসুমে জলের অভাব দেখা দিলে ক্ষতি ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। দেরিতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছলে জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা বা পরবর্তী কৃষিকাজের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হতে পারে।

জলের সঙ্কটের পাশাপাশি তেলঙ্গানায় বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। কৃষিকাজে সেচের জন্য পাম্প চালানো এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজ্যে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা পৌঁছেছিল ১৯ হাজার ৫৪৩ মেগাওয়াটে। এই পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আর চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃষকদের সেচের প্রয়োজন মেটাতে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার উপরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। বিদ্যুৎ ও জলের এই সঙ্কট কৃষকদের দৈনন্দিন কাজকর্মে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এক দিকে বৃষ্টির অভাবে জমিতে জল মিলছে না, অন্য দিকে বিকল্প সেচের জন্য খরচ করতে হচ্ছে। ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল এনে জমিতে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা সব কৃষকের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কৃষিকাজে খরচ বাড়লেও উৎপাদিত ফসলের বাজারদর কতটা অনুকূল থাকবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করা যায় না। ফলে ফসলের ক্ষতি এবং বাড়তি উৎপাদন খরচ একসঙ্গে কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তেলঙ্গানার রাজনীতিতেও উত্তাপ বাড়ছে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারত রাষ্ট্র সমিতি (Bharat Rashtra Samithi বা BRS) কংগ্রেস সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি কে টি রাম রাও (K.T. Rama Rao) অভিযোগ করেছেন, এল নিনোর প্রভাব ও বৃষ্টির ঘাটতির সম্ভাবনা সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেনি। তাঁর দাবি, কৃষ্ণা ও গোদাবরী নদীর জল যথাযথভাবে ব্যবহার করা ও লিফট ইরিগেশন প্রকল্পগুলি সচল রাখার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা কৃষকদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, সময়মতো জলসম্পদ পরিচালনা ও সেচ প্রকল্পগুলির কার্যকারিতা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের দুর্ভোগ কিছুটা কমানো সম্ভব হত। তবে এই অভিযোগের জবাবে রাজ্য সরকারের অবস্থান এবং সঙ্কট মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। খরার মতো পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ থাকে। জলাধারের সঞ্চয়, সেচের প্রয়োজন, পানীয় জলের সরবরাহ এবং বিদ্যুতের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা তার অন্যতম। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও জরুরি।

তেলঙ্গানার বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, বৃষ্টির দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি কীভাবে কৃষি, জলসম্পদ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে একসঙ্গে চাপে ফেলতে পারে। এল নিনোর প্রভাব নিয়ে আবহাওয়াগত উদ্বেগের মধ্যে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় এতটা কমে যাওয়ায় কৃষকদের সামনে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। জলাধারের সঞ্চয় কমে যাওয়া এবং সেচের খরচ বৃদ্ধির প্রভাব শুধু চাষের জমিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষিশ্রমিকদের কাজ ও স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এখন তেলঙ্গানা সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হল, উপলব্ধ জলসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেচের ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং কৃষকদের কাছে আর্থিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিয়ে কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় সরবরাহ বজায় রাখাও জরুরি। আগামী দিনে বৃষ্টির পরিস্থিতির উন্নতি হবে কি না, তার উপরে কৃষির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করবে। তবে বৃষ্টির ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা এবং বিকল্প জল ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন আরও বাড়বে। তেলঙ্গানার এই সঙ্কট তাই আপাতত শুধু আবহাওয়ার সমস্যা নয়, কৃষি ও গ্রামীণ জীবিকার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Kanya Puja | Nick Jonas Dussehra celebration : মেয়ের পা ধুয়ে কন্যাপুজো প্রিয়াঙ্কা-নিকের! লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে ভারতীয় রীতিতে মাতলেন তারকাদম্পতি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন