মেধা পাল, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : টলিউডের অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে (Mimi Chakraborty) ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিয়ের জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নাকি সাত পাকে বাঁধা পড়তে পারেন অভিনেত্রী। যদিও বিয়ে নিয়ে এখনও পর্যন্ত নিজে মুখ খোলেননি মিমি, তবু টলিপাড়ার অন্দরে এই আলোচনা ঘুরছে। তারই মধ্যে দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতে উঠেছেন তিনি। ধুনুচি নাচ, সাবেকি বেনারসি, বন্ধুদের সঙ্গে নাচগান আর আড্ডা, সমাজমাধ্যমে একের পর এক ছবি ও ভিডিয়োয় পুজোর নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। ফলে অনুরাগীদের একাংশের মনে প্রশ্ন, এ বারের পুজো কি মিমির জীবনে কোনও বিশেষ অধ্যায়ের আগে শেষ বড় উৎসব? প্রতি বছরই দুর্গাপুজোর সময় নিজের সাজপোশাক, মণ্ডপে যাওয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ঝলক তুলে ধরেন মিমি। তবে এবার তাঁর পুজোর আনন্দকে ঘিরে আগ্রহ কিছুটা বেশি। কারণ, একদিকে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ (Emperor vs Sarat Chandra), অন্যদিকে বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। যদিও এই দুই বিষয়কে এক সূত্রে বাঁধার কোনও আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেননি অভিনেত্রী। আপাতত কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিকে নিজের মতো করে উপভোগ করতেই দেখা যাচ্ছে তাঁকে।

নবমীর রাতে মিমির পুজো কাটানোর অন্যতম আকর্ষণ ছিল ধুনুচি নাচ। গাঢ় গোলাপি বেনারসি শাড়ির সঙ্গে নীল ব্লাউজ়ে সাবেকি সাজে মণ্ডপে হাজির হয়েছিলেন অভিনেত্রী। আটপৌরে কায়দায় শাড়ি পরার সঙ্গে মানানসই সাজে তাঁকে দেখা যায় ঢাকের তালে ধুনুচি হাতে নাচতে। উৎসবের আবহে তাঁর এই উপস্থিতি অনুরাগীদের নজর কেড়েছে। পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও পুজোর সময় মিমির এমন সাবেকি রূপ প্রতি বছরই আলোচনায় আসে। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
শুধু মণ্ডপে ধুনুচি নাচ না, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠার মুহূর্তও ক্যামেরাবন্দি করেছেন অভিনেত্রী। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে নাচতে দেখা গিয়েছে। সেই দলে ছিলেন অভিনেতা সোহম মজুমদার (Soham Majumdar) ও অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় (Anindya Chatterjee)। তাঁদের একসঙ্গে নাচগান ও হাসি-আড্ডার দৃশ্য দেখে বোঝা যায়, উৎসবের দিনগুলিতে বন্ধুদের সঙ্গেও বেশ খানিকটা সময় কাটিয়েছেন মিমি। কাজের চাপের বাইরে এই সময়টুকু যে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, পোস্ট করা মুহূর্তগুলিতে তারই ছাপ রয়েছে।
অষ্টমীতেও পুজোর কাজে সক্রিয় ছিলেন অভিনেত্রী। নিজের আবাসনের পুজোমণ্ডপে তাঁকে কখনও প্রদীপ জ্বালাতে, কখনও ফুল সাজাতে দেখা গিয়েছে। সে দিন হালকা গোলাপি চুড়িদার-কামিজ পরেছিলেন তিনি। পুজোর আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মণ্ডপের নানা কাজেও হাত লাগিয়েছেন মিমি। উৎসবের সময় কেবল সাজগোজ বা ছবি তোলাতেই তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি, পুজোর আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকার মুহূর্তও ভাগ করে নিয়েছেন অনুরাগীদের সঙ্গে। অষ্টমীর রাতের সাজেও ছিল আলাদা আকর্ষণ। জমকালো শাড়িতে সেজে ক্যামেরার সামনে ধরা দেন অভিনেত্রী। তার আগে ষষ্ঠীতেও সবুজ রঙের বেনারসি শাড়িতে নজর কেড়েছিলেন তিনি। পুজোর প্রতিটি দিনের সাজে আলাদা রং ও ধরন বেছে নেওয়ার প্রবণতা মিমির অনুরাগীদের কাছে নতুন নয়। এবারও সবুজ বেনারসি থেকে গোলাপি শাড়ি, তাঁর বিভিন্ন সাজের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সাবেকি পোশাকের প্রতি তাঁর পছন্দ যে এখনও অটুট, পুজোর ছবিগুলিতে তা ধরা পড়েছে।
পুজোর আগে উৎসবের পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে মিমি বলেছিলেন, ‘এই ক’দিন ঝলমলে শহরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, খাওয়াদাওয়া চলবে। ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ তো থাকবেই। আর পছন্দের শাড়ি পরে অঞ্জলি দেব।’ তাঁর সেই পরিকল্পনার সঙ্গে পুজোর দিনগুলির বেশ মিল দেখা গিয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, পছন্দের শাড়িতে সাজা, অঞ্জলি দেওয়া এবং ধুনুচি নাচ, সব কিছুতেই মিমি অংশ নিয়েছেন। ফলে অনুরাগীদের কাছে তাঁর পুজোর ছবিগুলি শুধু সাজপোশাকের ঝলক নয়, উৎসবের নানা মুহূর্তের ব্যক্তিগত ঝলক হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি অন্যদের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন মিমি। পুজোর শুরুতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, অনেকের কাছে দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, খাওয়াদাওয়া ও ঘোরাঘুরি! কিন্তু সবার পক্ষে নতুন পোশাক কেনা সম্ভব হয় না। তাই ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পথে যাঁদের সাহায্যের প্রয়োজন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও বলেছিলেন অভিনেত্রী। উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এই ভাবনার পাশাপাশি নিজের পোষ্যদের সঙ্গেও সময় কাটিয়েছেন তিনি। ব্যস্ত পুজোর সূচীর মধ্যেও পোষ্য সন্তানদের সময় দেওয়া তাঁর দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত অংশ বলেই অনুরাগীদের ধারণা।
মিমির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল অবশ্য নতুন নয়। অভিনয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাঁর সম্পর্ক কিংবা বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মাঝেমধ্যেই নানা আলোচনা সামনে আসে। এ বার ডিসেম্বর মাসে বিয়ের সম্ভাবনার কথা ছড়িয়েছে। জল্পনা, পাহাড়ি শহর কালিম্পঙে (Kalimpong) বসতে পারে বিয়ের আসর। ঘনিষ্ঠ মহলে নিমন্ত্রণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই তথ্যগুলির কোনওটিই এখনও অভিনেত্রীর তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিয়ের তারিখ, অনুষ্ঠানস্থল কিংবা পাত্রের পরিচয় নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। অভিনেত্রীর নীরবতাকে ঘিরেই অনুরাগীদের কৌতূহল আরও বাড়ছে। কেউ তাঁর পুজোর ছবিতে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, কেউ আবার বিয়ের জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করছেন। তবে সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া ছবি বা ভিডিয়ো থেকেই বিয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। মিমি নিজে ঘোষণা না করা পর্যন্ত ডিসেম্বরের বিয়ের খবরকে জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে বিনোদন মহলে। একই সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা আলোচনার মধ্যেও পুজোর দিনগুলিতে উৎসবের আনন্দে মেতে থাকাই ছিল অভিনেত্রীর সমাজমাধ্যমের পোস্টগুলির মূল সুর।
টলিপাড়ায় বিয়ের খবর নিয়ে আলোচনা চললেও আপাতত মিমি চক্রবর্তীর পুজো কাটানোর রঙিন মুহূর্তই অনুরাগীদের দৃষ্টি কেড়েছে। সাবেকি বেনারসি, ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও আবাসনের পুজোয় অংশ নেওয়া ইত্যাদি উৎসবের দিনগুলিকে প্রাণভরে তিনি উপভোগ করেছেন। ডিসেম্বরের বিয়ের জল্পনা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয় কি না, তার উত্তর মিলবে অভিনেত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাতেই। তত দিন পর্যন্ত মিমির পুজোর ছবি ও তাঁর নতুন ছবির খবর নিয়েই চর্চা চলবে বিনোদনমহলে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mimi Chakraborty Wedding | মিমি চক্রবর্তীর বিয়ে কি নভেম্বরে? নৌসেনাকর্মীর সঙ্গে প্রেম, কালিম্পংয়ে বিয়ের জল্পনা!



