প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো মানেই ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন আর সাবেকি সাজের মেলবন্ধন। আর কলকাতার মল্লিকবাড়ির পুজোয় সেই চেনা আবহ যেন প্রতি বছরই নতুন করে ধরা দেয়। দুর্গাপুজোর অষ্টমীতেও তার ব্যতিক্রম হল না। সকাল সকাল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)। লাল শাড়ি ও হলুদ সুতোর কাজ করা ব্লাউজে তাঁর সাবেকি সাজ নজর কাড়ল। তবে শুধু কোয়েল নন, এদিনের আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল তাঁর দুই সন্তান কবীর ও কাব্যও। মায়ের পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে সাজানো হয়েছিল খুদেদের। পরিবারের সকলের পোশাকে লাল-হলুদের ছোঁয়া মল্লিকবাড়ির অষ্টমীর সকালকে করে তুলেছিল আরও রঙিন। উল্লেখ্য, মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজো মানেই দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য। বছরের এই কয়েকটা দিন পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে সময় কাটানো, পুজোর নিয়ম মেনে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ও ছোটদের নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠার ছবি ধরা পড়ে বাড়ির অন্দরে।

অভিনেত্রী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের পরিচিতি থাকলেও বাড়ির পুজোয় তাঁকে বরাবরই পরিবারের আর পাঁচ জনের মতোই অংশ নিতে দেখা যায়। পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে অঞ্জলি, আরতি সবেতেই পরিবারের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যোগ দেন কোয়েল। এবারও অষ্টমীর সকালে তার অন্যথা হল না।
আরও পড়ুন : MLA & Actor Kanchan Mallick : কাঞ্চন মল্লিক-এর নামে ফের নিখোঁজ পোস্টার
অষ্টমীর সকালে মল্লিকবাড়িতে পুষ্পাঞ্জলির আয়োজন ঘিরে ব্যস্ততা ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত হন কোয়েলও। পুজোর আচার মেনে দেবীর চরণে ফুল নিবেদন করেন অভিনেত্রী। তাঁকে শঙ্খ বাজাতেও দেখা যায়। তারকা-পরিচিতির বাইরে পরিবারের সঙ্গে উৎসবের দিনগুলি কাটানোর যে স্বাভাবিক ছন্দ, এদিনের ছবিতে ধরা পড়ল সেই আবহ। পুজোর বাড়িতে কোয়েলের উপস্থিতি যেন মনে করিয়ে দিল, বনেদি বাড়ির উৎসবের আসল আনন্দ লুকিয়ে থাকে পারিবারিক একাত্মতা ও দীর্ঘদিনের রীতিনীতির মধ্যেই। অষ্টমীর সাজে কোয়েল বেছে নিয়েছিলেন সাবেকি বাঙালি পোশাক। লাল শাড়ির সঙ্গে হলুদ সুতোর কাজ করা ব্লাউজে তাঁকে দেখাচ্ছিল বেশ ছিমছাম। কপালে লাল টিপ, চুলে পরিপাটি খোঁপা আর হালকা গয়নায় সাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন অভিনেত্রী। উৎসবের দিনে জমকালো সাজের বদলে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের উপরেই ভরসা রেখেছিলেন তিনি। লাল ও হলুদের এই যুগলবন্দী দুর্গাপুজোর অষ্টমীর আবহের সঙ্গে মানানসই তো বটেই, একই সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের পোশাকের সঙ্গেও তৈরি করেছিল রঙের মিল।

কিন্তু, মল্লিকবাড়ির অষ্টমীর সকালে নজর কেড়েছে কোয়েলের দুই সন্তান কবীর ও কাব্যও। মায়ের সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুই খুদেকেও সাজানো হয়েছিল বিশেষ ভাবে। কবীরের পরনে ছিল হলুদ রঙের পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবিতে সুতোর কাজ পোশাকটিকে দিয়েছিল সাবেকি ছোঁয়া। অন্য দিকে, কাব্যকে দেখা যায় লাল টপ ও হলুদ স্কার্টে। দুই সন্তানের পোশাকেও ছিল রঙের সুন্দর সমন্বয়। মায়ের ব্লাউজের হলুদ রঙের সঙ্গে কবীরের পাঞ্জাবির মিল এবং কাব্যের পোশাকে লাল-হলুদের ব্যবহার পরিবারের সাজে এনে দিয়েছিল এক অন্য মাত্রা। পরিবারের পোশাক পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছিলেন কোয়েলের স্বামী তথা প্রযোজক নিসপাল সিং রানে (Nispal Singh Rane)। অষ্টমীর সকালে তাঁর পরনেও ছিল হলুদ রঙের পাঞ্জাবি। ফলে কোয়েল, নিসপাল ও তাঁদের দুই সন্তানকে একই রঙের আবহে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের পোশাকে এমন রংমিলান্তি উৎসবের সাজে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। বিশেষ করে পুজোর বাড়িতে পরিবারের সকলের একসঙ্গে সাজগোজ করে অঞ্জলি দিতে আসার দৃশ্য বাঙালির চেনা উৎসব-সংস্কৃতির সঙ্গেই মিলে যায়।

অন্য দিকে, কোয়েলের বাবা তথা বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের (Ranjit Mallick) সাজেও ছিল সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। সাদা পাঞ্জাবির উপর নীল সুতোর কাজ এবং সাদা ধুতি পরে পুজোর আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যদের পোশাকে যেখানে লাল ও হলুদের প্রাধান্য, সেখানে রঞ্জিত মল্লিকের সাদা পোশাকের সঙ্গে নীলের মেলবন্ধন ছিল আলাদা। বাঙালি বনেদি বাড়ির পুজোয় ধুতি-পাঞ্জাবির যে চিরাচরিত আবেদন, তাঁর সাজে তা আবারও ধরা পড়ল। পুজোর বাড়িতে বড়দের পাশাপাশি ছোটদের উপস্থিতিই অনেক সময় উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। মল্লিকবাড়িতেও তার ব্যতিক্রম নয়। পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের ফাঁকে কখনও দাদুর সঙ্গে খেলা, কখনও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো সহ কবীর ও কাব্যকে ঘিরেই জমে ওঠে বাড়ির অন্দরমহল। শিশুদের হাসি, খুনসুটি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের মেলামেশা উৎসবের ছবিকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। অন্য দিকে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্বও সামলাতে দেখা যায় নিসপালকে।

আরও পড়ুন : Sonakshi Zaheer Marriage | সোনাক্ষী-জাহির বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শত্রুঘ্ন সিন্হা, জল্পনায় ইতি
বাঙালির দুর্গাপুজোয় অষ্টমীর অঞ্জলির গুরুত্ব বরাবরই আলাদা। সকালবেলায় নতুন পোশাক পরে দেবীর সামনে ফুল হাতে দাঁড়ানো, মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এই রীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু বাঙালির আবেগ। মল্লিকবাড়ির মতো বনেদি পরিবারের পুজোয় সেই ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। পরিবারের ছোট সদস্যদেরও সেই পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা এবং পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের অনুরাগীদের কাছে তাঁর পুজোর সাজ বরাবরই আকর্ষণের বিষয়। উৎসবের দিনগুলিতে তিনি কী পোশাক বেছে নিচ্ছেন, পরিবারের সঙ্গে কী ভাবে সময় কাটাচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকে। এ বারের অষ্টমীতে তাঁর লাল শাড়ি ও হলুদ ব্লাউজের সাজের পাশাপাশি কবীর-কাব্যের রংমিলান্তি পোশাকও সেই আগ্রহ বাড়িয়েছে। তবে সাজের বাইরেও মল্লিকবাড়ির পুজোর মূল আকর্ষণ পরিবারের একসঙ্গে থাকা এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ধরে রাখা।
দুর্গাপুজোর জাঁকজমক, মণ্ডপসজ্জা কিংবা তারকাদের উপস্থিতি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হলেও বনেদি বাড়ির পুজোর নিজস্ব আবেদন তৈরি হয় পারিবারিক রীতিনীতি ও ঘরোয়া মুহূর্তগুলিকে ঘিরে। মল্লিকবাড়ির অষ্টমীতেও সেই পরিচিত ছবি ধরা পড়ল। এক দিকে দেবীর সামনে পুষ্পাঞ্জলি, শঙ্খধ্বনি ও পুজোর নিয়ম মেনে আচার পালন, অন্য দিকে পরিবারের ছোটদের নিয়ে হাসি-আনন্দ দু’য়ের মেলবন্ধনেই জমে উঠল দুর্গা অষ্টমীর উৎসবের সকাল। লাল-হলুদের সাজে কোয়েল, নিসপাল, কবীর ও কাব্য ও সাবেকি পোশাকে রঞ্জিত মল্লিকের উপস্থিতি আরও একবার তুলে ধরল মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজোর নিজস্ব ঐতিহ্য।
সব ছবি: সংগৃহীত




