প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং সিনেমার পর্দায় যতটা স্বাভাবিক বলে মনে হয়, ক্যামেরার পিছনে তার প্রস্তুতি অনেক সময়ই ততটা সহজ নয়। অভিনেতা-অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য, পরিচালকের নির্দেশ, ক্যামেরার অবস্থান, দৃশ্যের প্রয়োজন এবং সেটের পরিবেশ ইত্যাদি সবকিছুর মধ্যে সমন্বয় না হলে এমন দৃশ্য ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই শুটিংয়ের পদ্ধতিও। এখন বহু বড় প্রযোজনায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে অভিনেতাদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং সম্মতিকে গুরুত্ব দিতে ‘ইন্টিমেসি ডিরেক্টর’ -এর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ (Lust Stories 3)-এর একটি গল্প পরিচালনা করতে গিয়ে এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ (Vishal Bhardwaj)। আর সেই কথোপকথনের মধ্যেই উঠে এসেছে অদিতি রাও হায়দারীর (Aditi Rao Hydari) একটি মজার মন্তব্য, যা বদলে দিয়েছিল একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের পরিকল্পনা।

‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এর ওই গল্পে অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ (Siddharth) ও অদিতি রাও হায়দারী। বাস্তব জীবনে তাঁরা দম্পতি। ফলে পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ক্ষেত্রে দু’জনের পারস্পরিক পরিচিতি ও স্বাচ্ছন্দ্য শুটিংয়ের পরিবেশকে কিছুটা সহজ করে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিশাল। তবে তার অর্থ এই নয় যে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে আলাদা কোনও প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল না। বরং পরিচালক জানিয়েছেন, এমন দৃশ্যের শুটিংয়ে ‘ইন্টিমেসি ডিরেক্টর’-এর উপস্থিতি তাঁকে যথেষ্ট স্বস্তি দিয়েছে। বিশালের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে পরিচালককেই অনেক সময় অভিনেতা ও অভিনেত্রীর অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হত। কীভাবে দৃশ্যটি হবে, কতটা ঘনিষ্ঠতা ক্যামেরায় দেখানো হবে, কোন শারীরিক ভঙ্গি প্রয়োজন, এ ধরনের বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা বলতে গিয়ে অনেক সময় সেটের পরিবেশও অস্বস্তিকর হয়ে উঠত। এখন ইন্টিমেসি ডিরেক্টর থাকায় অভিনেতাদের সঙ্গে এই বিষয়গুলি নিয়ে পেশাদার পদ্ধতিতে আলোচনা করা যায়। ফলে পরিচালককে সব প্রশ্নের মাঝখানে দাঁড়াতে হয় না। নিজের পুরনো দিনের একটি ঘটনা উল্লেখ করে বিশাল জানান, একবার এক অভিনেত্রী অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের আগে তাঁকে এমন একটি প্রশ্ন করেছিলেন, যার উত্তর জানতে তাঁকে আবার পুরুষ অভিনেতার কাছে যেতে হয়েছিল। অভিনেত্রী নাকি জানতে চেয়েছিলেন, দৃশ্যটির সময় তাঁকে ঠিক কী করতে হবে ও সেই অভিনয়ের মধ্যে কতটা শারীরিক ঘনিষ্ঠতা থাকবে। এমনকী বিষয়টি নিয়ে পুরুষ অভিনেতার সঙ্গে কথা বলার অনুরোধও করেছিলেন তিনি। ফলে পরিচালক হিসেবে বিশালকে মাঝখানে পড়তে হয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই সময়কার শুটিংয়ের পরিবেশ যে কতটা বিব্রতকর হতে পারত, এই ঘটনাই তার একটি উদাহরণ।
বর্তমান সময়ে সেই ব্যবস্থায় অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। অভিনেতাদের সম্মতি, তাঁদের সীমা এবং দৃশ্যের প্রয়োজন, তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করেই শুটিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়। ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ -এর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কাজকে আরও সহজ করেছে বলেই জানিয়েছেন বিশাল। তাঁর মতে, অন্তরঙ্গ দৃশ্যকে শুধুমাত্র অভিনয়ের একটি অংশ হিসেবে না দেখে সেটি কী ভাবে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশে ধারণ করা যায়, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এই গল্পের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় পরিচালকের কাজকে কিছুটা সহজ করেছিল। সিদ্ধার্থ এবং অদিতি বাস্তব জীবনে দম্পতি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক স্বাচ্ছন্দ্য ছিল। ফলে ক্যামেরার সামনে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য অভিনয় করার সময় একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করতে তাঁদের বিশেষ অসুবিধা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশাল। অবশ্য দৃশ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ‘বডি ডাবল’ -এর (Body Double) ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

সেখানেই ঘটেছিল মজার ঘটনাটি। একটি দৃশ্যে ক্যামেরার সামনে অদিতির পায়ের অংশ দেখানোর কথা ছিল। সেই দৃশ্যে সিদ্ধার্থকে অদিতির পায়ের কাছে হামাগুড়ি দিয়ে যাওয়ার মতো একটি ভঙ্গিতে অভিনয় করতে হত। শুটিংয়ের সুবিধার জন্য প্রথমে অদিতির জায়গায় একজন ‘বডি ডাবল’ ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অর্থাৎ ক্যামেরায় যে অংশটি দেখা যাবে, সেটি অন্য একজনের মাধ্যমে ধারণ করার কথা ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা দেখার পর অদিতি নিজেই আপত্তি তোলেন। নিজের শরীরের সঙ্গে সেই ‘বডি ডাবল’-এর গড়নের পার্থক্য তাঁর চোখে পড়ে যায়। তখনই নাকি অদিতি মজা করে বলে ওঠেন, ‘আমার পা তো এত মোটা নয়!’ তাঁর এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অদিতি সিদ্ধান্ত নেন, ওই অংশে অন্য কাউকে দিয়ে অভিনয় করানোর প্রয়োজন নেই। তিনি নিজেই দৃশ্যটি করবেন।

শুধু অদিতিই নন, সিদ্ধার্থও ওই অংশের অভিনয় নিজেই করেন। ফলে আগে যে দৃশ্যটি ‘বডি ডাবল’ -এর মাধ্যমে ধারণ করার কথা ভাবা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা দুই অভিনেতার নিজেদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয়। বিশালের বক্তব্যে এই ঘটনাটি যেমন মজার, তেমনই এর মধ্যে অভিনেতাদের নিজেদের শরীর ও ক্যামেরায় নিজেদের উপস্থাপনা নিয়ে সচেতনতার বিষয়টিও উঠে আসে। পরিচালকের মতে, দু’জনের পারস্পরিক স্বাচ্ছন্দ্য ওই দৃশ্যের শুটিংকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল। অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে অভিনেতা ও অভিনেত্রীর মধ্যে আস্থা থাকলে কাজের পরিবেশে অস্বস্তি কমতে পারে। তবে তার পাশাপাশি পেশাদার প্রস্তুতি এবং নির্দিষ্ট সীমারেখা মেনে চলাও জরুরি। ‘ইন্টিমেসি ডিরেক্টর’ সেই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে জানিয়েছেন বিশাল।

‘লাস্ট স্টোরিজ’ সিরিজে বরাবরই সম্পর্ক, যৌনতা, দাম্পত্য এবং মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের নানা জটিল দিক গল্পের কেন্দ্রে এসেছে। ফলে এই সিরিজের তৃতীয় কিস্তিতেও ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। সেই জায়গায় বিশাল ভরদ্বাজের মতো পরিচালকের মুখে শুটিংয়ের নেপথ্য অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাস্তব জীবনের দম্পতি সিদ্ধার্থ ও অদিতিকে নিয়ে দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল দর্শকদের। বিশালের অভিজ্ঞতায় উঠে আসা অদিতির সেই মন্তব্য অবশ্য পুরো ঘটনাকে খানিকটা হালকা করে দিয়েছে। একটি দৃশ্যের জন্য যখন ‘বডি ডাবল’ ব্যবহারের পরিকল্পনা চলছিল, তখন অভিনেত্রীর নিজের শরীর সম্পর্কে সেই তাৎক্ষণিক মন্তব্যই শেষ পর্যন্ত শুটিংয়ের ধরন বদলে দেয়। অদিতি নিজেই দৃশ্যে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্যামেরার সামনে তৈরি হয় অন্য রকম স্বাভাবিকতা।
অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে চলচ্চিত্রে কাজের ধরন যে বদলাচ্ছে, বিশালের কথাতেও তার ইঙ্গিত রয়েছে। আগে যেখানে পরিচালক, অভিনেতা এবং অভিনেত্রীর মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই সবকিছু ঠিক করার চেষ্টা হত, এখন সেখানে আলাদা পেশাদার ব্যবস্থাপনা যুক্ত হয়েছে। অভিনেতার সম্মতি, স্বাচ্ছন্দ্য এবং দৃশ্যের সীমা নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা করার ফলে শুটিংয়ের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর সুযোগ থাকে। সিদ্ধার্থ ও অদিতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে ক্যামেরার সামনে স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গাটি হয়তো কিছুটা আলাদা ছিল। কিন্তু তাঁদের অভিনীত দৃশ্যেও পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী ‘বডি ডাবল’ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অদিতির একটি মন্তব্যে সেই পরিকল্পনা বদলে যায়। আর সেই ঘটনাই এখন ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এর শুটিংয়ের নেপথ্যের অন্যতম আলোচিত কাহিনি হয়ে উঠেছে। পর্দায় কয়েক মুহূর্তের একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্য তৈরি করতে যে কত ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়, বিশাল ভরদ্বাজের এই অভিজ্ঞতা তারই একটি ছবি তুলে ধরে। ক্যামেরার সামনে দেখা কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যের পিছনে অভিনেতার স্বাচ্ছন্দ্য থেকে শুরু করে শুটিংয়ের প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা, সবকিছুরই ভূমিকা থাকে। আর সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির মাঝখানে অদিতি রাও হায়দারীর ‘আমার পা তো এত মোটা নয়!’ মন্তব্যটি যে শুটিংয়ের পরিকল্পনাই বদলে দিয়েছিল, সেটিই এখন এই দৃশ্যের নেপথ্যকথার সবচেয়ে আলোচিত অংশ।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Nick Jonas first message, Nick Jonas asked photo timestamp Priyanka | প্রথম আলাপেই প্রমাণ চেয়েছিলেন নিক! প্রিয়াঙ্কার মুখে ফাঁস প্রেমের অজানা গল্প, ভাইরাল পুরনো চ্যাট




