NCPI Committee Controversy | NCPI -এর অন্দরে নতুন বিস্ফোরণ! কাকলি-সুদীপদের কমিটি ঘিরে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের আপত্তি, ওম বিড়লাকে চিঠি

SHARE:

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-তে (Nationalist Citizens Party of India বা NCPI) যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার সামনে এল দলের অন্দরমহলের নতুন সংঘাত। লোকসভায় ওই ২০ সাংসদের অবস্থান নিয়ে যখন দলত্যাগ-বিরোধী আইনের প্রশ্নে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তখন NCPI -এর সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও আপত্তি তুলেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা জাতীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শান্তনু দে (Shantanu Dey)।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-তে (Nationalist Citizens Party of India বা NCPI) যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার সামনে এল দলের অন্দরমহলের নতুন সংঘাত। লোকসভায় ওই ২০ সাংসদের অবস্থান নিয়ে যখন দলত্যাগ-বিরোধী আইনের প্রশ্নে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তখন NCPI -এর সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও আপত্তি তুলেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা জাতীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শান্তনু দে (Shantanu Dey)। তাঁর অভিযোগ, পুরনো প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই নতুন কমিটি তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) কাছে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। ফলে একই সময়ে দু’টি আলাদা প্রশ্নে চাপ তৈরি হয়েছে NCPI-কে ঘিরে।

আরও পড়ুন : 1600 supernumerary posts upper primary West Bengal | upper primary teacher recruitment latest news : মমতার আমলে তৈরি ১৬০০ অতিরিক্ত পদ বাতিল! উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করল শুভেন্দু অধিকারী সরকার, ফের অনিশ্চয়তায় অপেক্ষমাণ প্রার্থীরা

একদিকে, তৃণমূলের (TMC)প্রতীকে নির্বাচিত ২০ সাংসদের অন্য রাজনৈতিক দলে যোগদানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক চলছে। অন্যদিকে, যে দলটিতে তাঁরা যোগ দিয়েছেন, সেই দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কার হাতে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শান্তনু দে-র বক্তব্য অনুযায়ী, NCPI -এর নতুন কমিটি গঠনের আগে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও পুরনো দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। তাঁর দাবি, তাঁকেও কোনও বৈঠকে ডাকা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে শান্তনু দে-র ওম বিড়লাকে লেখা চিঠি রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর অভিযোগ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar), সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee) এবং অন্য বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের মতো করে দলের নতুন কাঠামো তৈরি করছেন। শান্তনুর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও আগে থেকে দায়িত্বে থাকা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, NCPI -এর ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

NCPI-র নতুন জাতীয় কর্মসমিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শান্তনু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায় (Jyotiprakash Chatterjee) -এর নাম সভাপতি হিসেবে সামনে এসেছে। কিন্তু দলের পুরনো নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নেই বলে দাবি করেছেন শান্তনু। এই নিয়েই দলের অভ্যন্তরে তথ্যের ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তিনি তুলেছেন। শান্তনু দে আরও দাবি করেছেন, NCPI -এর সঙ্গে ২০ সাংসদের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শুরুতে তাঁকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, তিনি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁর অবস্থান আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে। এখন তাঁর আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু শুধু সাংসদদের যোগদান নয়, বরং তাঁদের ঘিরে দলের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের পদ্ধতিও।

তবে শান্তনু দে-র বক্তব্য থেকে এটাও জানা যাচ্ছে যে, তিনি সাংসদদের NCPI-তে আসার বিরোধিতা করছেন, এমনটা তাঁর দাবি নয়। বরং তাঁর বক্তব্য, সাংসদরা দলে এলে তা নির্দিষ্ট নিয়ম ও আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত। তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাইছি সাংসদরা আসুক। কিন্তু স্বচ্ছতা রেখে আসুক।’ একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদরা NCPI-তে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান কীভাবে সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা দরকার। অন্যদিকে ২০ সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলাদা আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করা হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, যে প্রতীকে ওই সাংসদরা নির্বাচনে জিতেছিলেন, সেই দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় পড়তে পারে। বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে অবশ্য তাঁদের রাজনৈতিক সংযুক্তি বৈধ বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : Koel Mallick Rajya Sabha seat, West Bengal Rajya Sabha bypoll 2026 | ষষ্ঠীর দিনেই রাজ্যসভার ভোট, কোয়েল মল্লিকের ফাঁকা আসন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

আগস্টে এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে অযোগ্য ঘোষণার আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর আবেদনে লোকসভার স্পিকার এবং সচিবালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে শুনানির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই মধ্যে লোকসভার সচিবালয়ের নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন ২০ সাংসদ। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, তাঁদের আরও তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। সাংসদদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আইনি পরামর্শ নিয়ে নোটিসের জবাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফলে তাঁদের সদস্যপদ সংক্রান্ত বিষয়টি এখনও আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। এখানেই NCPI -এর সাংগঠনিক দ্বন্দ্বের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। কারণ ২০ জন সাংসদ যোগ দেওয়ার পর অল্প পরিচিত এই রাজনৈতিক দলটি জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসে। কিন্তু এখন সেই দলের ভিতরেই প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একদিকে লোকসভায় আলাদা রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে অবস্থান তৈরির চেষ্টা, অন্যদিকে দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক—দুই ক্ষেত্রেই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শান্তনু দে-র অভিযোগের জবাব সংশ্লিষ্ট সাংসদদের পক্ষ থেকে কীভাবে আসে, সেদিকেও এখন সবার লক্ষ্য থাকবে। বিশেষ করে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় (Shatabdi Roy), সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্য সাংসদদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির বৈধতা নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা অংশের আপত্তি কীভাবে মেটানো হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। একইসঙ্গে লোকসভার স্পিকার এই বিষয়ে কী অবস্থান নেন, সেটিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বস্তুত, NCPI-কে ঘিরে তাই এখন শুধু দলবদলের প্রশ্ন নয়, দলের ভিতরের সাংগঠনিক কর্তৃত্ব, নতুন কমিটির বৈধতা, প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের ভূমিকা ও ২০ সাংসদের সংসদীয় অবস্থান ইত্যাদি সবকটি বিষয় পাশাপাশি উঠে এসেছে। একটি রাজনৈতিক দলের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে তার সাংগঠনিক কাঠামো কীভাবে বদলাবে, পুরনো নেতৃত্ব ও নতুন মুখের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে এবং সংসদীয় অবস্থানের আইনি প্রশ্নের নিষ্পত্তি কোন পথে যাবে, আগামী দিনে NCPI-কে ঘিরে মূল নজর থাকবে এই বিষয়গুলির উপর। আপাতত শান্তনু দে-র স্পিকারকে লেখা চিঠি সেই বিতর্ককে আরও প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian GDP growth 7.8 percent, PM Narendra Modi GDP speech | ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পর মোদীর নিশানা রাহুলকে, বিদেশ ভ্রমণ-বিয়ে-সোনা নিয়ে দেশবাসীকে তিন পরামর্শ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন