Nitin Gadkari on Sugar Price India | চিনির দামে সরকারের হাত কতটা? ব্রাজিলের উদাহরণ টেনে বড় কথা বললেন নিতিন গডকরি

SHARE:

বাজারে চিনির দাম (Sugar Price) বাড়লেই সরকারের দিকে আঙুল ওঠে। কৃষক, চিনি কল এবং ভোক্তা, তিন পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রশ্নও সামনে আসে। কিন্তু বিশ্ববাজারের সঙ্গে ভারতের কৃষিপণ্যের বাজার যখন গভীরভাবে যুক্ত, তখন শুধু সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণ করা কতটা সম্ভব? এই প্রশ্নেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও সড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকরির (Nitin Gadkari) মন্তব্য ঘিরে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বাজারে চিনির দাম (Sugar Price) বাড়লেই সরকারের দিকে আঙুল ওঠে। কৃষক, চিনি কল এবং ভোক্তা, তিন পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রশ্নও সামনে আসে। কিন্তু বিশ্ববাজারের সঙ্গে ভারতের কৃষিপণ্যের বাজার যখন গভীরভাবে যুক্ত, তখন শুধু সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণ করা কতটা সম্ভব? এই প্রশ্নেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও সড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকরির (Nitin Gadkari) মন্তব্য ঘিরে। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ব অর্থনীতিতে চিনির দাম মূলত আন্তর্জাতিক চাহিদা ও জোগানের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে কোনও সরকার চাইলেই কৃষিপণ্যের বাজারদর নিজের মতো করে নির্ধারণ করতে পারে না। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ (National Federation of Cooperative Sugar Factories বা NFCSF) -এর একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গডকরি এই মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন : India Women Asian Games Gold | India vs Sri Lanka Women Final : এশিয়ান গেমসে সোনার মঞ্চে ভারতের মেয়েরা, শেফালি-স্মৃতি-রিচার ব্যাটিং ঝড়ে শ্রীলঙ্কা অলআউট মাত্র ৬৯ রানে

উল্লেখ্য যে, অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী ও চিনি শিল্পের প্রতিনিধিদের তরফে চিনির ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তিনি ভারতের চিনির দামের সম্পর্ক তুলে ধরে। গডকরির বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল একটি বিষয়, দেশের বাজারকে আলাদা করে দেখলে চিনির মূল্য-সমীকরণ পুরোপুরি বোঝা যাবে না। সম্প্রতি ভারতের বাজারে চিনির দাম দ্রুত বেড়েছিল। আগস্টে খুচরো বাজারে দাম কেজিপিছু ৭০ টাকার উপরে ওঠার ঘটনাও সামনে আসে। পরে অবশ্য দাম কিছুটা নেমেছে। ২৩ সেপ্টেম্বরের বাজার-তথ্য অনুযায়ী, মিল পর্যায়ের দামও আগের তুলনায় কমেছে এবং খুচরো বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পিছনে প্রত্যাশার তুলনায় কম উৎপাদন, উৎসবের আগে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়াজনিত ফসলের ক্ষতি, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের চাপ এবং মজুত বা জল্পনামূলক লেনদেনের মতো একাধিক কারণ কাজ করেছে।

চিনির আন্তর্জাতিক বাজার বোঝাতে গডকরি বিশেষভাবে ব্রাজিলের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলে বৃহৎ জমিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে আখ চাষ হওয়ায় চিনির উৎপাদন খরচ ভারতের তুলনায় অনেক কম। তাঁর দাবি, ব্রাজিলে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ প্রায় ২৩ টাকা, যেখানে ভারতে তা প্রায় ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা। ফলে ব্রাজিলে উৎপাদন বেড়ে গিয়ে অতিরিক্ত চিনি আন্তর্জাতিক বাজারে এলে তার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়তে পারে। গডকরি বোঝাতে চেয়েছেন, চিনির বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতা শুধু দেশের ভিতরের উৎপাদন ও চাহিদার হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্রাজিলের মতো বড় উৎপাদক দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সরবরাহকে বদলে দিতে পারে। একইভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষিপণ্যের বাজারেও একটি দেশের উৎপাদন বা রফতানির পরিবর্তন অন্য দেশের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বক্তব্যে আমেরিকার ভুট্টা ও মালয়েশিয়ার পাম তেলের বাজারের উদাহরণও উঠে আসে।

কিন্তু, চিনির দাম নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কৃষকের আয় নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন গডকরি। তাঁর মতে, সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান শুধু একটি কৃষিপণ্যের দাম বাড়ানোর মধ্যে আটকে থাকতে পারে না। কৃষিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তোলাই বড় প্রশ্ন। নিজের অঞ্চলে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা দেখার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতায় তাঁর উপলব্ধি হয়েছে যে কৃষির আয় ও উৎপাদন খরচের সমীকরণ বদলানো জরুরি। এই জায়গা থেকেই চিনি শিল্পে বৈচিত্র্য আনার প্রসঙ্গ সামনে আনেন তিনি। গডকরির মতে, শুধু চিনি উৎপাদনের উপর নির্ভর করলে মিল এবং আখচাষি উভয়ের আয় বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হতে পারে। আখ থেকে চিনি তৈরির পাশাপাশি উপজাত ব্যবহার করে অতিরিক্ত মূল্য তৈরি করা গেলে শিল্পের আর্থিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হতে পারে। আখের ছোবড়া বা বায়োমাস, জৈব সার, ইথানল, কমপ্রেসড বায়োগ্যাস (CBG) ও অন্যান্য মূল্য সংযোজিত পণ্যের দিকে যাওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।

চিনি শিল্পে ইথানল ও অন্যান্য জ্বালানি তৈরির প্রসঙ্গ নতুন নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের আগের নীতিতেও চিনি শিল্পকে ইথানল ও জ্বালানি উৎপাদনের দিকে বৈচিত্র্য আনার কথা বলা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মরসুমে দেশের মোট ইথানলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই শস্য, বিশেষত ভুট্টা থেকে এসেছে। একই সময়ে ইথানলের জন্য চিনির ব্যবহার ২০২২-২৩ মরসুমের প্রায় ১২ শতাংশ থেকে ২০২৫-২৬-এ প্রায় ৯ শতাংশে নেমেছে। ফলে সাম্প্রতিক চিনির মূল্যবৃদ্ধিকে শুধু ইথানলের জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়ার ফল হিসেবে দেখছে না কেন্দ্র। উৎপাদন খরচ কমানোর প্রশ্নেও আখ চাষে নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠছে। NFCSF, Indian Sugar & Bio-energy Manufacturers Association (ISMA) এবং কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের উদ্যোগে কোয়েম্বাটোরে দ্রুততর আখের জাত উন্নয়নের জন্য একটি কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। বেশি ফলন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং রোগ-পোকার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি ও চিনি শিল্পের খরচের চাপ কমানো।

দেশের চিনির বাজারে সাম্প্রতিক ওঠানামার মধ্যে এই আলোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মরসুমে চিনির বৈশ্বিক ঘাটতির হিসাবও সামনে এসেছে। জুনের শেষ থেকে আগস্টের মধ্যে আন্তর্জাতিক চিনির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। অর্থাৎ দেশের বাজারে চিনির দাম ওঠানামার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সরবরাহ পরিস্থিতির যোগ রয়েছে। একই সময়ে দেশে পর্যাপ্ত মজুত রাখার বিষয়েও কেন্দ্র একাধিক পদক্ষেপ করেছে। চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকার মজুতের সীমা নির্ধারণের মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। জুলাইয়ে চিনি ব্যবসায়ীদের জন্য স্টক-হোল্ডিং সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল মজুতদারি ও জল্পনামূলক লেনদেন কমানো এবং বাজারে সরবরাহ বজায় রাখা। উৎসবের মরসুম সামনে রেখে পর্যাপ্ত চিনি বাজারে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

NFCSF দেশের সমবায় চিনি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনগুলির একটি। বিভিন্ন রাজ্যের সমবায় চিনি কল ও ফেডারেশনকে প্রতিনিধিত্ব করে এই সংগঠন। তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে গডকরির বক্তব্য তাই চিনি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। চিনির দাম, কৃষকের আয় এবং চিনি শিল্পের ভবিষ্যৎ, এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার বদলে উৎপাদন খরচ, আন্তর্জাতিক বাজার, প্রযুক্তি আর উপজাত থেকে আয়, সবকটি দিক একসঙ্গে বিবেচনার কথা উঠে এসেছে গডকরির বক্তব্যে। তাঁর দেওয়া ব্রাজিল-ভারত উৎপাদন খরচের তুলনা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপটিও সামনে এনেছে। ফলে চিনির দাম বাড়ানোর দাবি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় চিনি শিল্পের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছে উৎপাদন খরচ কমানো এবং একই আখ থেকে আরও বেশি মূল্য তৈরি করা।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Nitin Nabin Bengal rally | কোচবিহারে পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা নীতিন নবীনের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন