Nadia Primary School Parent App, Santipur School Digital System | স্কুলে ঢুকলেই বাবা-মায়ের ফোনে নোটিফিকেশন! হোমওয়ার্ক থেকে রিপোর্ট কার্ড এক অ্যাপেই সব, নদীয়ার প্রাথমিক স্কুলে অভিনব উদ্যোগ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শান্তিপুর, নদীয়া: সন্তান স্কুলে পৌঁছেছে কি না, কিংবা ছুটির পর বিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছে কি না, এবার বাড়িতে বসেই মোবাইল ফোনে জানতে পারবেন অভিভাবকেরা। শুধু উপস্থিতির তথ্য নয়, খুদে পড়ুয়াদের হোমওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রোজেক্ট, পরীক্ষার ফল ও রিপোর্ট কার্ডও পৌঁছে যাবে একটি অ্যাপের মাধ্যমে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নদীয়ার শান্তিপুরের কানাইবঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় (Kanaibang Smriti Primary School) চালু করেছে ডিজিটাল স্কুল ম্যানেজমেন্ট ও পেরেন্ট কমিউনিকেশন ব্যবস্থা। প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও স্কুলের সঙ্গে অভিভাবকদের নিয়মিত যোগাযোগ ইত্যাদি দু’টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে দেওয়া হবে একটি করে ডিজিটাল স্মার্ট আইকার্ড। স্কুলে ঢোকার সময় ওই কার্ড স্ক্যান করা হবে। একই ভাবে স্কুল ছুটির পর পড়ুয়ারা যখন বিদ্যালয় থেকে বেরোবে, তখনও কার্ড স্ক্যানের মাধ্যমে সেই তথ্য নথিভুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট তথ্য সরাসরি অভিভাবকের মোবাইল অ্যাপে পৌঁছে যাবে।

আরও পড়ুন : Gitika Tamta’s UPSC Success Story |আকাশছোঁয়া স্বপ্ন পূরণে স্বেচ্ছাচারিতা, UPSC জয়ের নজির গড়লেন উত্তরাখণ্ডের গীতিকা তমতা

ফলে কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে থাকা বাবা-মায়েরাও জানতে পারবেন তাঁদের সন্তান নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে ঢুকেছে কি না। স্কুল ছুটির পর সে কখন বিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছে, সেই তথ্যও মোবাইলেই পাওয়া যাবে। প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই নজরদারি নিরাপত্তার দিক থেকে কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে কোনও কারণে সন্তান স্কুলে পৌঁছতে দেরি করলে কিংবা ছুটির পর বেরোনোর সময় নিয়ে কোনও সমস্যা হলে অভিভাবকেরা দ্রুত বিষয়টি জানতে পারবেন। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার অবশ্য শুধু স্কুলে প্রবেশ ও প্রস্থানের তথ্য জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একটি নির্দিষ্ট পেরেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যও অভিভাবকদের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিদিনের হোমওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রোজেক্টের কাজ, পরীক্ষার তথ্য ও রিপোর্ট কার্ড ইত্যাদি পর্যায়ক্রমে এই সমস্ত বিষয় অ্যাপের মাধ্যমে জানানো হবে। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, কর্মসূচি এবং পড়াশোনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যও একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

ফলে খাতায় লিখে দেওয়া হোমওয়ার্ক কিংবা আলাদা কাগজে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভরতা কমতে পারে। কোনও পড়ুয়া অনুপস্থিত থাকলেও বাড়িতে থাকা অভিভাবক অ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখে নিতে পারবেন। শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের তরফে আরও জানানো হয়েছে, আগামী দিনে ধাপে ধাপে পঠন-পাঠনের বিভিন্ন কাজেও মোবাইল ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হতে পারে। এর ফলে পড়ুয়াদের শেখার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসার পাশাপাশি স্কুলব্যাগের ওজন কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনীয় কিছু শিক্ষাসামগ্রী যদি ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া যায়, তা হলে ছোট পড়ুয়াদের প্রতিদিন অতিরিক্ত বই-খাতা বহন করার চাপও কিছুটা কমবে। শান্তিপুরের এই প্রাথমিক বিদ্যালয় এর আগেও পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রযুক্তির ব্যবহার করেছে। বিদ্যালয় চত্বরে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে স্কুলের নিজস্ব উদ্যোগে। এবার সেই ব্যবস্থার সঙ্গে ডিজিটাল উপস্থিতি এবং অভিভাবক যোগাযোগের ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতিম সেন (Pratim Sen) জানান, পড়ুয়াদের সার্বিক বিকাশের জন্য সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘প্রযুক্তি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই পড়ুয়াদের কাছে প্রযুক্তিকে আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি তার যথাযথ ব্যবহার শেখানোও জরুরি।’ প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। পড়ুয়াদের নিরাপত্তা, পড়াশোনা এবং সার্বিক উন্নয়নের দিকে নজর রেখেই এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।’

নদীয়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় প্রযুক্তি কীভাবে স্কুল পরিচালনা ও পড়ুয়ার নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তার একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হল। স্কুলে ঢোকা থেকে বেরোনো, হোমওয়ার্ক থেকে পরীক্ষার ফল ইত্যাদি পড়ুয়াদের স্কুলজীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবার অভিভাবকের হাতের মুঠোয় থাকা মোবাইলেই পৌঁছনোর ব্যবস্থা হচ্ছে। আগামী দিনে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয় এবং পড়াশোনার অন্যান্য ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার কতটা বাড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sagar Island school project, Sundarbans education initiative | দুবাইয়ের চাকরি ছেড়ে সুন্দরবনে স্বপ্ন বুনছেন সুইস নারী! শতাধিক শিশুর জীবনে শিক্ষার আলো জ্বালালেন স্যান্ড্রা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন