West Bengal Heavy Rain, Heavy Rain Forecast West Bengal | পশ্চিমে এগোচ্ছে নিম্নচাপ, উত্তাল বঙ্গোপসাগর! দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় ভারী বৃষ্টি, কলকাতার আবহাওয়া কেমন?

SHARE:

জয়ী বিশ্বাস, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ৩১ আগস্ট : বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চল ধীরে ধীরে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া। নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টির দাপট বজায় থাকতে পারে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করা নিম্নচাপ অঞ্চলটি আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্ত। নিম্নচাপটি আগামী সোমবারের মধ্যে আরও পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিম্নচাপের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগের আরও কাছে আসতে পারে। তার জেরে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন : India Uzbekistan Uranium Deal, PM Narendra Modi Tashkent | তাসখন্দে বড় চুক্তি মোদীর, উজবেকিস্তান থেকে দীর্ঘস্থায়ী ইউরেনিয়াম আনবে ভারত! সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী

বর্ষাকালীন অক্ষরেখাও বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের উপর দিয়ে এগিয়ে অক্ষরেখাটি পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। বাঁকুড়ার কাছ থেকে দক্ষিণ দিকে বাঁক নিয়ে সেটি বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। নিম্নচাপ অঞ্চল এবং এই অক্ষরেখার যৌথ প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের আকাশে মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। উল্লেখ্য, দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ঘিরে ইতিমধ্যেই নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। উপকূল ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নচাপ যত পশ্চিম দিকে এগোবে, ততই তার প্রভাব স্থলভাগে বাড়তে পারে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও মাঝারি, কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। নিচু এলাকা এবং জল জমার প্রবণতা রয়েছে এমন জায়গাগুলিতে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার কারণে সমুদ্রও আপাতত স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্যজীবীদের জন্য পরিস্থিতি নজরে রাখছে আবহাওয়া দফতর। সমুদ্রে যাঁরা মাছ ধরতে যান, তাঁদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় পর্যটকদের ক্ষেত্রেও সমুদ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। বর্ষার মরসুমে বঙ্গোপসাগরে পর পর নিম্নচাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তির পরিবর্তনের উপরেই বৃষ্টির মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করে। বর্তমান ব্যবস্থাটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টির মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। কলকাতার ক্ষেত্রেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শহরে টানা ভারী বৃষ্টির পরিবর্তে দফায় দফায় বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি আচমকা বৃষ্টি নামতে পারে। ফলে রাস্তায় জল জমা, যান চলাচলে ধীরগতি এবং অফিস সময়ে যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইলে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

শহরের পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রয়েছে। যদিও সব জেলায় একই মাত্রায় বৃষ্টি হবে না, নিম্নচাপের গতিপথ অনুযায়ী কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকবে। পাহাড় ও তরাই-ডুয়ার্স সংলগ্ন এলাকায় কয়েক দফায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের মতো জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে নদী ও পাহাড়ি ঝরনায় জলস্তর বাড়ার পাশাপাশি ভূমিধসের আশঙ্কাও থাকে। তাই উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরও আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে।

দক্ষিণবঙ্গে কয়েক দিন ধরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সঙ্গে কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হয়েছে। নতুন নিম্নচাপের কারণে সেই বৃষ্টির ধারা এখনই পুরোপুরি কাটছে না। নিম্নচাপের পশ্চিমমুখী গতির কারণে দক্ষিণবঙ্গের আরও কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। আমন ধানের চাষের সময় বৃষ্টির জল অনেক ক্ষেত্রে উপকারী হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে নিচু জমিতে জল দাঁড়িয়ে গিয়ে চাষের ক্ষতি হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের নজর এখন মূলত নিম্নচাপটির পরবর্তী গতিপথের দিকে। সমুদ্রের উপর ব্যবস্থাটি যত শক্তিশালী হবে ও যত দ্রুত পশ্চিম দিকে এগোবে, তার প্রভাবও তত বদলাতে পারে। তাই আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকছে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রশাসনিক সতর্কতাও বাড়তে পারে।

কলকাতাবাসীর জন্য আপাতত স্বস্তির জায়গা হল, শহরে সব সময়ে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। তবে নিম্নচাপের প্রভাবে মেঘলা আকাশ এবং দফায় দফায় বৃষ্টি চলতে পারে। ফলে পুজোর মরসুমের আগের এই বর্ষায় শহরের স্বাভাবিক জনজীবনে ফের সাময়িক ছন্দপতন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে বৃষ্টি হলে যানজট বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে উপকূলীয় এলাকার দিকে। নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবী ও উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বদলালে নতুন করে সতর্কতা জারি হতে পারে। আপাতত নিম্নচাপের পশ্চিম-উত্তর পশ্চিমমুখী অগ্রগতি, সক্রিয় বর্ষাকালীন অক্ষরেখা ও বঙ্গোপসাগরের উত্তাল পরিস্থিতিই রাজ্যের আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার মূল নিয়ামক। ফলে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির বিরতি এখনই মিলছে না, আর কলকাতার আকাশেও মেঘ-বৃষ্টির আনাগোনা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal old age pension 2000 rupees, Suvendu Adhikari pension announcement | বার্ধক্য, বিধবা ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতা ২ হাজার টাকা! নতুন করে আবেদন বাধ্যতামূলক, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন