সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, তাশখন্দ, উজবেকিস্তান: ভারতীয় সংস্কৃতি ও যোগের আন্তর্জাতিক প্রসারে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হল উজবেকিস্তান সফরে। রবিবার তাশখন্দে উজবেকিস্তান যোগ ফেডারেশন (Yoga Federation of Uzbekistan) আয়োজিত বিশেষ যোগ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। যোগসাধকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করা হয় তাঁর তরফে। প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচির ভিডিও ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার উজবেকিস্তানে পৌঁছন মোদী। তাশখন্দ বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভ (Shavkat Mirziyoyev)। এটি উজবেকিস্তানে প্রধানমন্ত্রীর চতুর্থ সফর। সফরের আগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে জানানো হয়েছিল, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, শক্তি, শিক্ষা ও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাশখন্দে পৌঁছনোর পর প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোদী বলেন, “This is my fourth visit to Uzbekistan, reflecting the depth and growing momentum of our bilateral relations.” অর্থাৎ, তাঁর চতুর্থ সফর ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্কের গভীরতা ও ক্রমবর্ধমান গতির প্রতিফলন বলেই উল্লেখ করা হয়।
সফরের শুরুতেই ইয়াঙ্গি উজবেকিস্তান (Yangi Uzbekistan) স্মারকে প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করা হয়। প্রবাসী ভারতীয়দের দুই দেশের সম্পর্কের “living bridge” বা জীবন্ত সেতু হিসেবেও বর্ণনা করেন মোদী। তবে রবিবারের যোগ কর্মসূচিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। উজবেকিস্তানে যোগের জনপ্রিয়তা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট বেড়েছে। আকাশবাণীর (Akashvani) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উজবেকিস্তানে ২,০০০-এর বেশি মানুষ অংশ নেন। উজবেকিস্তান যোগ ফেডারেশনের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে ও দুই ব্যাচের যোগ স্বেচ্ছাসেবককে (Yoga Volunteers) ভারতের আয়ুষ মন্ত্রকের (Ministry of Ayush) তরফে প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে যোগের প্রসারে ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতির ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা হচ্ছে। ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদ (ICCR) এবং আয়ুষ মন্ত্রকের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশে যোগশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনের কাঠামোকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ফলে তাশখন্দে প্রধানমন্ত্রীর যোগাসনে অংশগ্রহণকে শুধু একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচী হিসেবে দেখা হচ্ছে না; ভারত-উজবেকিস্তানের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও জনসম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় যোগ, সিনেমা, সংগীত, খাবার ও ভাষার প্রতি উজবেকিস্তানে আগ্রহের বিষয়টিও আকাশবাণীর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এদিকে তাশখন্দ সফরের পর ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে (Kyrgyz Republic) ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ফলে বর্তমান সফরে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের পাশাপাশি কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্কও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত




