সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি, ১৭ আগস্ট : ফের প্রশ্নের মুখে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। এবার ইউজিসি-নেট (UGC NET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একাধিক ত্রুটির অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর ইংরেজি, বাণিজ্য ও সমাজবিদ্যা, এই তিন বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনটিএ। রবিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষার নতুন সূচিও জানানো হয়েছে। ফলে যাঁরা ইতিমধ্যেই এই তিন বিষয়ের পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাঁদের আবার পরীক্ষায় বসতে হবে। তবে নতুন পরীক্ষার জন্য কোনও অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না বলে জানিয়েছে পরীক্ষা পরিচালন সংস্থা।
এনটিএ -এর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর প্রথমে ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে পরীক্ষা। একই দিন বিকেলে বাণিজ্য বিষয়ের পরীক্ষা হবে। দুপুর ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরীক্ষার্থীরা বাণিজ্যের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এর পরের দিন, অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে সমাজবিদ্যার পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার কেন্দ্র, অ্যাডমিট কার্ড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পরবর্তী সময়ে এনটিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুন মাসে ৮৭টি বিষয়ে ইউজিসি-নেট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই কয়েকটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রের মান ও প্রশ্নের ধরন নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশ্নপত্রে ভুলের অভিযোগও জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করে এনটিএ। সেই কমিটির পর্যালোচনার পরেই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা নতুন করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এনটিএর বক্তব্য অনুযায়ী, ইংরেজি, বাণিজ্য ও সমাজবিদ্যার প্রশ্নপত্রে একাধিক ধরনের ত্রুটির অভিযোগ পেয়েছিল তারা। শুধু প্রশ্নের বিষয়বস্তু নয়, প্রশ্নপত্রে তথ্যগত ভুল, মুদ্রণজনিত সমস্যা ও অনুবাদের ত্রুটির অভিযোগও সামনে আসে। অভিযোগগুলি পর্যালোচনার জন্য তৈরি কমিটি তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র পরীক্ষা করে কিছু ভুল চিহ্নিত করে। এর পর কমিটির তরফে পরীক্ষা নতুন করে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও পরীক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্যই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে এনটিএ। কোনও প্রশ্নে তথ্যগত ভুল থাকলে কিংবা অনুবাদের কারণে প্রশ্নের অর্থ বদলে গেলে পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই ফল প্রকাশের আগে ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু, এই সিদ্ধান্তে পরীক্ষার্থীদের সামনে নতুন করে প্রস্তুতির চাপ তৈরি হয়েছে। যাঁরা জুন মাসে পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাঁদের আবার নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে ইউজিসি-নেটের মতো জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের জন্য নতুন করে পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত সহজ নয়। যদিও এনটিএ জানিয়েছে, পুনরায় পরীক্ষার জন্য কোনও অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি নেওয়া হবে না।
নতুন পরীক্ষার সময়সূচী প্রকাশ হলেও পরীক্ষাকেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য এখনও জানানো হয়নি। একই ভাবে নতুন অ্যাডমিট কার্ড কবে থেকে ডাউনলোড করা যাবে, তা-ও পরে জানাবে এনটিএ। পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত এনটিএর সরকারি ওয়েবসাইট ও ইউজিসি-নেট সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইউজিসি-নেট ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ্যতা অর্জন এবং জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপের জন্য এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। ফলে প্রশ্নপত্রে ভুল বা পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তনের মতো কোনও ঘটনা প্রার্থীদের মধ্যে দ্রুত উদ্বেগ তৈরি করে।
এর আগে ইউজিসি-নেটকে ঘিরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগও জাতীয় স্তরে বড় বিতর্ক তৈরি করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকে জাতীয় স্তরের পরীক্ষার নিরাপত্তা এবং পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষাকেন্দ্রের নজরদারি ও পরীক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই, প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এনটিএর বিরুদ্ধে পরীক্ষার মান এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা নতুন নয়। প্রশ্নপত্রের ত্রুটি নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। একটি জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র তৈরির সময় তথ্য যাচাই, ভাষাগত নির্ভুলতা এবং অনুবাদের মান বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর মধ্যেই পরীক্ষার নিরাপত্তা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এনটিএ নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এনটিএর সদর দফতর এবং আঞ্চলিক কার্যালয়গুলিতে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই কাজে পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য কয়েক কোটি টাকার দরপত্রও ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং পরীক্ষার পরিকাঠামোর নিরাপত্তা বাড়ানোই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। তবে নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের গুণমান নিয়েও এখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হচ্ছে এনটিএকে। একটি প্রশ্নের তথ্যগত ভুল, মুদ্রণগত সমস্যা কিংবা ভাষান্তরের ত্রুটি পরীক্ষার্থীর নম্বরে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে একই প্রশ্নপত্রে একাধিক ভাষা ব্যবহার করা হলে অনুবাদের সামান্য ভুলও প্রশ্নের অর্থ বদলে দিতে পারে। সেই কারণে প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করার আগে একাধিক স্তরে যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা ফের সামনে এসেছে।
এবার তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ফল প্রকাশের সময়ও কিছুটা পিছোতে পারে কি না, তা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি জানায়নি এনটিএ। নতুন পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মূল্যায়ন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফল প্রকাশের বিষয়ে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতে পারে। ইংরেজি, বাণিজ্য এবং সমাজবিদ্যার পরীক্ষার্থীদের তাই আপাতত নতুন সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। ৯ সেপ্টেম্বর ইংরেজি ও বাণিজ্য এবং ১০ সেপ্টেম্বর সমাজবিদ্যার পরীক্ষা হবে। নতুন অ্যাডমিট কার্ড এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের তথ্য প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীদের তা ডাউনলোড করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে হবে। প্রশ্নপত্রের ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর এনটিএ যে কমিটি তৈরি করেছিল, তার পর্যালোচনার ভিত্তিতেই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে এখন পরীক্ষার্থীদের নজর নতুন পরীক্ষার দিকে। একই সঙ্গে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র তৈরির পদ্ধতি, যাচাই ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা কতটা উন্নত করা যায়, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। আপাতত এনটিএর ঘোষণায় তিনটি বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে বড় বিষয়।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Bangabhushan withdrawn from Ananta Maharaj | নেতাজীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, কেড়ে নেওয়া হল বঙ্গবিভূষণ! অনন্ত মহারাজকে ঘিরে নবান্নের বড় সিদ্ধান্ত




