Murshidabad train accident death toll 5, Suvendu Adhikari strict warning | কর্ণসুবর্ণে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত ৫, কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ‘গাফিলতি বরদাস্ত নয়, দোষীদের রেয়াত নয়’

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ: কর্ণসুবর্ণে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে শোকের আবহের মধ্যে প্রশাসনের উপর চাপ আরও বাড়ল মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির খবরে। শুক্রবার সকালের সেই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কড়া অবস্থান নিয়ে জানিয়ে দিলেন, ‘কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না, দোষীদের কোনও রেয়াত দেওয়া হবে না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালেই কর্ণসুবর্ণ (Karnasubarna) ও গোবিন্দপুর (Gobindapur) স্টেশনের মাঝামাঝি একটি লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি স্কুলভ্যান রেললাইন পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির ট্রেন এসে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই কয়েক জনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আরও কয়েক জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু’জন শিশুর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মৃতদের মধ্যে চার জনই স্কুলপড়ুয়া, যা এই ঘটনার শোক আরও গভীর করেছে।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari latest news, Rath Yatra security arrangements | কলকাতার রথযাত্রায় প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! ইসকনের সূচনা মঞ্চে হাঁটবেন নিজে, জেলা সফরেও নজর

রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, দুই শিশু-সহ তিন জনের মৃত্যুর কথা তারা নিশ্চিত করেছে। নিহতদের পরিচয়ও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে ন’বছরের জেসিকা ইয়াসমিন (Jessica Yasmin), ছ’বছরের ফারহানা সুলতানা (Farhana Sultana) ও প্রবীণ ব্যক্তি জামশেদ আলি (Jamshed Ali)। অন্য দিকে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার শচীন মক্কর (Sachin Makkar) জানিয়েছেন, মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ঘটনার পরপরই তিন জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।’ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে, লেভেল ক্রসিংয়ে যথাযথ নজরদারির অভাব ও গেট ব্যবস্থাপনার গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে লেখেন, ‘এই শোকের মুহূর্তে ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব রকম সাহায্য করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার উদ্ধারকাজ এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজ তদারকি করছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে দ্রুত সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আহতদের চিকিৎসায় কোনও ত্রুটি না থাকে।’

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ (Gourishankar Ghosh) মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwata Mukhopadhyay) ব্যক্তিগত ভাবে পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন এবং চিকিৎসার সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন। তবে শোকপ্রকাশের পাশাপাশি গাফিলতির অভিযোগে কড়া সুরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তাঁর এই বক্তব্যে প্রশাসনের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাঁদের বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। হাসপাতালে আহতদের পরিবারের ভিড় এবং কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। লেভেল ক্রসিংয়ের সিগন্যালিং ব্যবস্থা, গেটম্যানের ভূমিকা এবং ট্রেন চলাচলের সময়সূচী, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে রেলগেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল। বহু বার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, ‘যদি আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হত, তাহলে হয়তো এই প্রাণহানি এড়ানো যেত।’ এই দুর্ঘটনা আবারও রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে লেভেল ক্রসিংগুলিতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং নজরদারি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তার দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। যদিও সাহায্যের পরিমাণ নিয়ে বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকার যে পাশে থাকবে, তা তিনি আশ্বস্ত করেছেন। কর্ণসুবর্ণের এই দুর্ঘটনা শুধু একটি এলাকার নয়, গোটা রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের ফল এবং পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : US tariff on India Russia oil | রাশিয়ার তেল কেনায় ১০০% শুল্কের প্রস্তাব, ভারত-চিনকে ঘিরে নতুন মার্কিন কৌশল নিয়ে জোর জল্পনা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন