সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পুণে: পুণের (Pune) বহুল চর্চিত কেতন অগ্রবাল (Ketan Agrawal) হত্যা মামলার তদন্তে এবার নতুন দিক খুলে গেল। এই ঘটনার রেশ এবার পৌঁছে গিয়েছে রাজস্থান (Rajasthan)-এর মরুপ্রদেশে। অভিযুক্ত সিয়া গোয়ল (Siya Goel) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ চেতন চৌধরীর (Chetan Chaudhary) সম্পর্ক ঘিরে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, তাঁরা নাকি গোপনে বিয়ে করেছিলেন! সেই দাবি কতটা সত্য, তা যাচাই করতেই তদন্তকারীরা পৌঁছে গিয়েছেন রাজস্থানের একটি মন্দিরে।
তদন্তে যুক্ত সূত্রগুলির দাবি, সিয়া ও চেতনের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু ব্যক্তিগত কথোপকথনে এমন ইঙ্গিত মিলেছে, যা তাঁদের গোপন বিবাহের সম্ভাবনার দিকে আঙুল তুলছে। ওই বার্তাগুলিতে দু’জনের সম্পর্ক যে শুধুমাত্র ঘনিষ্ঠতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আরও গভীর কোনও বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা রয়েছে, তেমন ধারণা তৈরি হয়েছে। এমনকি জানা গিয়েছে, কেতনের সঙ্গে সিয়ার বাগ্দানের পরপরই নাকি চেতনের সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসার পরই তদন্তকারীরা রাজস্থানের এক মন্দিরে পৌঁছে যান। কারণ, সূত্রের দাবি ছিল, সেই মন্দিরেই নাকি সম্পন্ন হয়েছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রমাণ হাতে পাননি, যা এই দাবিকে নিশ্চিত করতে পারে।
মন্দির প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সেই ফুটেজে সিয়া ও চেতনের উপস্থিতির কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। শুধু তাই নয়, মন্দিরের পুরোহিত ও আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের বক্তব্য থেকেও এমন কোনও তথ্য উঠে আসেনি, যা এই তথাকথিত বিয়ের ঘটনার সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘আমরা সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছি। গোপন বিয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা বিষয়টি নিশ্চিত করবে।’ একই সঙ্গে তিনি আরও জানান, রাজস্থানে এই মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনও সূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড় দুর্গ (Lohagad Fort) থেকে কেতন অগ্রবালকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সিয়া ও চেতনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার সময় ওই দুই অভিযুক্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। যদিও কে ঠিক কেতনকে ধাক্কা দিয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এই মামলায় সিয়া ও চেতন বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় জেলবন্দি। তদন্তকারীরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ঘটনার প্রতিটি দিক বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছেন। কেতন অগ্রবালের মৃত্যুর পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রতারণা না কি অন্য কোনও উদ্দেশ্য কাজ করেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এতদূর এগোচ্ছে তদন্ত।
গোপন বিয়ের সম্ভাব্য তথ্য সামনে আসার পর থেকেই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। যদি সত্যিই এমন কোনও বিবাহ হয়ে থাকে, তবে তা এই মামলার উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপটকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, কেতনের সঙ্গে বাগ্দান থাকা সত্ত্বেও অন্য সম্পর্ক বজায় রাখা, এই বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তদন্তকারীরা এখন ডিজিটাল প্রমাণ, কল রেকর্ড, মেসেজ ও অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, রাজস্থান সফরের পর আরও কিছু জায়গায় অনুসন্ধান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ঘটনাটির প্রতিটি স্তর বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সত্যের কাছে পৌঁছতে চাইছেন তাঁরা। এই মামলাকে ঘিরে জনমনে কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা কীভাবে একটি অপরাধের কেন্দ্রে চলে আসতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে বারবার। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন দিক উঠে আসছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলছে। প্রসঙ্গত, কেতন অগ্রবাল হত্যাকাণ্ড এখন শুধুমাত্র একটি অপরাধের তদন্ত নয়, তা সম্পর্ক, বিশ্বাসঘাতকতা ও গোপন সত্যের জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। রাজস্থানের মন্দিরে কোনও উত্তর না মিললেও, তদন্ত এখানেই থেমে থাকছে না, বরং আরও গভীরে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ritabrata Banerjee TMC | তপসিয়ার রিসর্টে দুই দিনের বৈঠক, মমতাকে সরিয়ে সংগঠন শক্ত করতে তৎপর ঋতব্রত শিবির, রাজ্য কমিটি গঠনে নতুন সমীকরণ



