সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পুরী : পুরীর (Puri) ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা (Rath Yatra) মানেই ভক্তির জোয়ার, আবেগ আর লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম। কিন্তু সেই পবিত্র উৎসবের মাঝেই ঘটে গেল হৃদয়বিদারক ঘটনা। রথদর্শনের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যেই শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হল এক ভক্তের। একই সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ, যাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে দেশজুড়ে, বিশেষ করে যাঁরা প্রতি বছর পুরীর রথযাত্রায় অংশ নেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুরীর বড়দণ্ড বা গ্র্যান্ড রোডে (Grand Road) জমতে শুরু করে অগণিত মানুষের ঢল। আকাশে মেঘ, মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি তবুও ভক্তদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। নন্দীঘোষ (Nandighosha), তালধ্বজ (Taladhwaja) ও দর্পদলন (Darpadalana) এই তিনটি রথে জগন্নাথ (Jagannath), বলভদ্র (Balabhadra) ও সুভদ্রার (Subhadra) দর্শনের জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিলেন সকলে। সেই সময়েই আচমকা ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন এক ব্যক্তি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাঁর বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। হঠাৎই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তাঁকে পুরী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ভিড় ও শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটতেই চারদিকে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ওড়িশা পুলিশ (Odisha Police) সমাজমাধ্যমে জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়া অন্তত ৩৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেনও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি পরিষেবা সর্বক্ষণ প্রস্তুত রয়েছে।’
গ্র্যান্ড রোড জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল এবং অন্যান্য আপৎকালীন পরিষেবাও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবুও হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে, বৃষ্টি ও ভিড় একসঙ্গে থাকলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ে, এই বিষয়টি আগেভাগে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
ঘটনার পর অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভিড়ের ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। একজন ভক্ত বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম, চারপাশে এত লোক ছিল যে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।’ যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এই ঘটনা নতুন নয় বলেই মনে করছেন অনেকেই। গত বছরও রথযাত্রার সময় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছিল। গুণ্ডিচা মন্দিরের (Gundicha Temple) কাছে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল অন্তত তিন জনের। সেই সময়ও অতিরিক্ত ভিড়ই প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল। তিন কিলোমিটারের পথ অতিক্রম করতে গিয়ে বার বার থমকে যায় রথ, আর তাতেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, এমনটাই জানিয়েছিল প্রশাসন।
এ বছরও সেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে, লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও পুলিশের দাবি, তারা যথাসম্ভব ব্যবস্থা নিয়েছে ও দ্রুত অসুস্থদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, রথযাত্রা ভারতের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমের অনুষ্ঠান। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ আসেন এই উৎসবে অংশ নিতে। তাই এমন ঘটনায় শুধু প্রশাসনিক প্রস্তুতি নয়, ভিড় নিয়ন্ত্রণের আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। একদিকে ভক্তির টান, অন্যদিকে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ, এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা এখন প্রশাসনের কাছে বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনা সেই প্রয়োজনীয়তার দিকেই নতুন করে নজর ঘোরাল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : US tariff on India Russia oil | রাশিয়ার তেল কেনায় ১০০% শুল্কের প্রস্তাব, ভারত-চিনকে ঘিরে নতুন মার্কিন কৌশল নিয়ে জোর জল্পনা




