Durga Puja Kolkata, Samik Bhattacharya BJP | পুজো মানেই মানুষের উৎসব, রাজনীতির নয় : সভাপতি না হওয়ার ঘোষণা শমীক ভট্টাচার্যের, দলকেও কড়া বার্তা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতার দুর্গাপুজোকে ঘিরে প্রতি বছরই থাকে সাংগঠনিক রদবদল, নতুন মুখ, নতুন দায়িত্বের জল্পনা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর শহরের নামী পুজো কমিটিগুলির নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছিল। বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে বিজেপি (BJP)-র নেতা, সাংসদ ও বিধায়কদের নাম জড়াতে শুরু করেছিল। সেই আবহেই বড় ঘোষণা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিনি জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের কোনও দুর্গাপুজো কমিটির সভাপতি তিনি হচ্ছেন না এবং কোনও পুজোর দায়িত্বও নেবেন না।

আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya : শমীক ভট্টাচার্যকে খোলা চিঠি

কলেজ স্কোয়ারের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিশেষভাবে তাঁর নাম সামনে এসেছিল। শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই পুজোর সভাপতির পদে তিনি বসতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনায় নিজেই ইতি টানলেন শমীক। সমাজমাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় তিনি লিখেছেন, ‘কলেজ স্কোয়্যারের দুর্গাপুজোর সভাপতি আমি হচ্ছি না। শুধু কলেজ স্কোয়্যার নয়, রাজ্যের কোনও দুর্গাপুজোর সভাপতি আমি হব না, কিংবা কোনও পুজোর পরিচালনার দায়িত্ব নেব না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আমন্ত্রণ এড়িয়ে যাননি তিনি। কলেজ স্কোয়ার পুজো কমিটির তরফে খুঁটি পুজোর জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, সেই আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণ করেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। অর্থাৎ উৎসবের সঙ্গে থাকবেন, কিন্তু কোনও প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকবেন না, এই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

শমীক ভট্টাচার্যের এই সিদ্ধান্ত দলীয় বার্তাও বহন করছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো মানুষের উৎসব, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের দখলে থাকা উচিত নয়। তাঁর কথায়, ‘মানুষের পরিষেবা বন্ধ করে পুজোর বিষয়টি ঠিক নয়। পুজো কমিটি, ক্লাব দখল বিজেপি করে না।’ এই বক্তব্যে অতীতের কিছু বিতর্কের দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্ববর্তী শাসনকালে রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে শাসক দলের নেতাদের নাম জড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। অনেক ক্ষেত্রেই অনুমোদন বা সহযোগিতা পেতে হলে রাজনৈতিক সংযোগ জরুরি হয়ে পড়ত বলে অভিযোগ শোনা গিয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির কথাও সামনে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির তরফে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরতে চাইলেন শমীক।

এখানেই থেমে থাকেননি শমীক। নিজের দলের নেতা, বিধায়ক ও সাংসদদেরও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘এক জন বিধায়ক বা মন্ত্রী নিজের এলাকার কোনও পুজো কমিটির সভাপতি হতে পারেন, সেটা তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, রাস্তায় বেরিয়ে একের পর এক পুজোর দায়িত্ব রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিধায়ক, সাংসদ বা রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের হাতে তুলে নেবেন।’ তাঁর এই মন্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ইঙ্গিত রয়েছে। দুর্গাপুজোর ‘সর্বজনীন চরিত্র’ বজায় রাখার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছেন, পুজো কমিটিগুলির নিজস্বতা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে উৎসব উদযাপনই কাম্য, এই ধারণাকেই সামনে রেখেছে তাঁর বক্তব্য।

এদিকে কলকাতার আর এক জনপ্রিয় পুজো সুরুচি সঙ্ঘ (Suruchi Sangha)-এ এ বছর বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন ঘটেছে। উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারকে (Sourav Sikdar) সম্পাদক করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরানো হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে (Aroop Biswas)। দীর্ঘদিন সম্পাদক হিসেবে থাকা স্বরূপ বিশ্বাসও (Swarup Biswas) এবারের কমিটিতে নেই। এই পরিবর্তনের পরই শহরের অন্য পুজো কমিটিগুলিতে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে কলেজ স্কোয়ার পুজোর সভাপতির পদ নিয়ে আলোচনা সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দেয়। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্যের ঘোষণার পর সেই জল্পনায় কার্যত ইতি পড়ল। তিনি নিজেই জানিয়ে দিলেন, ‘দুর্গাপুজো সর্বজনের, কোনও রাজনৈতিক দলের নয়।’ তাঁর এই অবস্থান পুজো কমিটিগুলির মধ্যে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা যেতে পারে, তেমনই দলীয় নেতাদের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা টানা হল। উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার না করে সাংস্কৃতিক পরিসরকে স্বতন্ত্র রাখার যে চেষ্টা, তা ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কলকাতার দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি একটি বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। ইউনেস্কোর স্বীকৃত এই ঐতিহ্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। সেই প্রেক্ষাপটে পুজোর সঙ্গে রাজনীতির দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান নতুন করে গুরুত্ব পেল। শমীক ভট্টাচার্যের এই ঘোষণার পর শহরের পুজো মানচিত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Singur Tata comeback news, Samik Bhattacharya industry statement | সিঙ্গুরে আবার টাটা? শিল্পে ফেরার ডাক শমীক ভট্টাচার্যের, নতুন বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন