প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি: একজন নারীর জীবনে পেশা না পরিবার, কোনটি আগে? এই পুরনো বিতর্কই আবার সামনে এনে দিলেন উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন পাটেল (Anandiben Patel)। তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। তিনি বলেছেন, ‘আইএএস বা শিক্ষিকা হওয়ার আগে একজন নারীর ভাল মা হয়ে ওঠা উচিত।’ এই বক্তব্য ঘিরে যেমন সমর্থনের সুর শোনা যাচ্ছে, তেমনই উঠছে প্রশ্নও। বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut), যিনি প্রকাশ্যে এই মতকে সমর্থন করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত একটি জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য থেকে। সেখানে আনন্দীবেন পটেল নারীদের ভূমিকা নিয়ে নিজের মত তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সমাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আগে পরিবারের ভিত মজবুত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সন্তানের লালনপালনে নারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেই তিনি মনে করেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার অনেকেই এর বিরোধিতা করেছেন। এই পরিস্থিতিতেই রবিবার নিজের এক্স (X) হ্যান্ডলে পোস্ট করে কঙ্গনা রানাওয়াত নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় তাঁর ভাই যখন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতেন, তখন তিনি পুতুল নিয়ে খেলতেন। ‘আমি পুতুলের জন্য ছোট ছোট ঘর বানাতাম, তাদের জামাকাপড় সেলাই করতাম, রান্না করে খাওয়ানোর অভিনয় করতাম’ এই স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চান, যত্ন নেওয়ার প্রবণতা নারীর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই থাকে।
কঙ্গনার মতে, ‘মানুষের যত্ন নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের শেখানো হয় না, এটি স্বভাবগত।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঈশ্বরই এই দায়িত্ব আমাদের দিয়েছেন, আর সেটাই আমাদের প্রকৃত পরিচয়।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নারীদের দেবী, শক্তি, অন্নপূর্ণার মতো বিভিন্ন উপাধিতে ডাকার প্রসঙ্গ। কঙ্গনা জানান, ইতিহাস জুড়ে নারীদের এই রূপেই দেখা হয়েছে, যেখানে স্নেহ, যত্ন ও শক্তির প্রতীক হিসেবে তাঁদের ভাবা হয়েছে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নতুন করে মতামতের ঢেউ। অনেকেই কঙ্গনার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, পরিবার ও সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তা অস্বীকার করা যায় না। অন্যদিকে, একাংশের প্রশ্ন, আধুনিক সময়ে নারীর পছন্দ ও স্বাধীনতাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? তাঁদের মতে, একজন নারী কী আগে করবেন, কেরিয়ার না পরিবার, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
কঙ্গনার বক্তব্য ঘিরে আরও একটি দিক উঠে এসেছে। অনেকেই উল্লেখ করেছেন, অভিনেত্রী নিজে এখনও বিয়ে করেননি বা মা হননি। ফলে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা ছাড়াই এমন মত প্রকাশ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার। যদিও কঙ্গনার অনুগামীরা তাঁর বক্তব্যের পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত পছন্দ আলাদা হতে পারে, কিন্তু মত প্রকাশের অধিকার সকলেরই রয়েছে। এই বিতর্ক নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই সমাজে নারীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। একদিকে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে পরিবারে তাঁদের দায়িত্ব নিয়েও নানা মত রয়েছে। আনন্দীবেন পটেলের মন্তব্য সেই পুরনো আলোচনাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
বর্তমান সময়ে নারী শিক্ষার প্রসার, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং আত্মনির্ভরতার প্রশ্ন গুরুত্ব পেয়েছে। এর পাশাপাশি পরিবার, সন্তান এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এই ধরনের মন্তব্য সমাজে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। কঙ্গনা রানাওয়াতের বক্তব্য এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। তাঁর মন্তব্যে যেমন সমর্থন রয়েছে, তেমনই বিরোধিতাও রয়েছে। সমাজমাধ্যমে চলতে থাকা এই আলোচনা এখন বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মতামত সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Queen 2 lawsuit, Kangana Ranaut Queen 2 | মুক্তির আগেই বিপাকে ‘কুইন ২’, ২৫০ কোটির মামলা ঘিরে তুমুল বিতর্ক




