সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পুরনো এক চিঠিকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নেতার কথার লড়াইয়ে উঠে এল সারদা কাণ্ডের স্মৃতি, সঙ্গে যুক্ত হল দুর্নীতির অভিযোগ ও পাল্টা কটাক্ষ। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) সম্প্রতি এক বিস্ফোরক দাবি সামনে এনে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, জেলে থাকাকালীন কুণাল একটি ৯১ পাতার চিঠি লিখেছিলেন, যেখানে দল এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল। ঋতব্রতের দাবি অনুযায়ী, ওই চিঠি পাঠানো হয়েছিল দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) ও ইডি (ED) -এর কাছে। তিনি বলেন, ‘চিঠির প্রতিটি অংশে এমন সব তথ্য রয়েছে, যা তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ দেয়।’ তাঁর অভিযোগ, ওই চিঠিতে চিটফান্ডের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছিল এবং শাসক দলের ভূমিকা নিয়েও বিস্তৃতভাবে লেখা ছিল।
এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত সরাসরি কুণাল ঘোষকে নিশানা করে বলেন, ‘যিনি এখন আমাকে বেইমান বলছেন, তিনি নিজেই তখন দলের বিরুদ্ধে কী লিখেছিলেন, সেটা সকলের জানা উচিত।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘চিঠিতে এমনও উল্লেখ রয়েছে, কোথায় কত টাকা যাচ্ছে, কীভাবে তা ব্যবহার হচ্ছে, সবই লেখা ছিল।’ তাঁর বক্তব্য, এই তথ্য সামনে এলে রাজনৈতিক চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে। ঋতব্রত এখানেই থামেননি। তিনি ঘোষণা করেন, ওই চিঠি জনসমক্ষে আনা হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তাঁর মন্তব্য, ‘আপনি চাইলে বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কাছ থেকে চিঠিটি সংগ্রহ করতে পারেন। না হলে নির্দিষ্ট সময় পরে আমি নিজেই আপনার কাছে পৌঁছে দেব।’ পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে এই বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
এই আক্রমণের জবাব দিতে দেরি করেননি কুণাল ঘোষ। তীব্র ভাষায় ঋতব্রতকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘যে চিঠির কথা বলা হচ্ছে, তা নতুন কিছু নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা আজ বড় বড় কথা বলছে, তারা তখন কোথায় ছিল?’ কুণালের দাবি, জেলে থাকার সময় তিনি একাই লড়াই করেছিলেন এবং নিজের অবস্থান থেকে সরেননি। নিজের ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে কুণাল বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই সত্য সামনে আনার চেষ্টা করেছি। সেই সময় অনেকেই দূরে ছিল।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাকে নানা দিক থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি অবস্থান বদলাইনি।’ তাঁর কথায়, অতীতের কিছু ঘটনাকে সামনে এনে বর্তমান রাজনীতিতে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঋতব্রতের অতীত নিয়েও কুণাল কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজনীতি করতে হলে ধারাবাহিকতা থাকতে হয়। শুধু অভিযোগ তুলে কোনও লাভ নেই।’ তিনি বলেন, ‘যারা নিজেদের অবস্থান বদলাতে থাকে, তারা অন্যদের নিয়ে প্রশ্ন তুললে তা মানুষ গ্রহণ করবে না।’ এই বাকযুদ্ধের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সারদা কাণ্ড বহু বছর আগের ঘটনা হলেও, তার প্রতিধ্বনি এখনও রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসে। বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে মতবিরোধ সামনে আসে, তখন সেই পুরনো প্রসঙ্গ আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ রাজনীতির অন্দরে চাপানউতোর বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ও অতীতের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসে। তবে এই চিঠি সত্যিই প্রকাশ্যে এলে তার প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে, পুরনো নথি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এখন রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যখন তা প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, তখন সেই ইস্যু আরও গুরুত্ব পায়। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, চিঠিটি কি সত্যিই সামনে আসবে? আর যদি আসে, তবে তার প্রভাব কতটা গভীর হবে? উত্তর সময়ই দেবে। তবে আপাতত কুণাল ঘোষ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সংঘাতই রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : OBC bill Bengal, Ritabrata Banerjee controversy | ওবিসি বিল ঘিরে বিধানসভায় নাটক, ঋতব্রত শিবিরে ফাটলের জল্পনা




