সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ রাঁচি : ঝাড়খণ্ড -এর গ্রামীণ অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে বদলের ছবি ফুটে উঠছে। দীর্ঘদিন অনাবাদি পড়ে থাকা জমি এখন ফলের বাগানে পরিণত হচ্ছে, আর সেই বদলের কেন্দ্রে রয়েছে ‘বিরসা হরিত গ্রাম যোজনা’ (Birsa Harit Gram Yojana)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু জমির ব্যবহারই বদলাচ্ছে না, কৃষকদের আয়ের পথও প্রসারিত হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই একটি টেকসই জীবিকার ভিত্তি তৈরি করতে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল অনাবাদি বা কম ব্যবহৃত জমিকে ফল উৎপাদনের উপযোগী করে তোলা। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কৃষকদের সহায়তা দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে আম, পেয়ারা, লিচু-সহ বিভিন্ন ফলের বাগান। বহু জায়গায় যেখানে আগে চাষ হত না, সেখানে এখন সবুজে ঢেকে যাচ্ছে জমি। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগ গ্রামীণ জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আর্থিক সহায়তা, চারাগাছ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা ধাপে ধাপে ফল চাষে দক্ষ হয়ে উঠছেন। একই সঙ্গে এই বাগানগুলি দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত আয়ের উৎস হয়ে উঠছে। একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, আগে যে জমি পড়ে থাকত, এখন সেই জমি থেকেই আয় হচ্ছে। একজন কৃষক জানান, ‘আগে এই জমিতে কিছুই হত না। এখন ফলের গাছ লাগানোর পর ধীরে ধীরে আয় শুরু হয়েছে।’ অন্য এক কৃষকের কথায়, ‘এই প্রকল্প আমাদের জন্য অনেকটা ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে আরও আয় বাড়বে বলে আশা করছি।’ এই ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রকল্পটির বাস্তব প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলায় এই ফলের বাগানগুলি শুধু কৃষকদের আয়ের উৎস নয়, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তৈরি করছে। গাছের পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্থানীয় মানুষজন কাজ পাচ্ছেন। ফলে গ্রামাঞ্চলে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বাড়ছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘বিরসা হরিত গ্রাম যোজনা’ প্রকল্পটি রাজ্যের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাতেও ভূমিকা রাখছে। অনাবাদি জমিতে গাছ লাগানোর ফলে সবুজায়ন বাড়ছে, মাটির গুণগত মান উন্নত হচ্ছে এবং জলধারণ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে কৃষিকাজের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এটি দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলের গাছ বড় হতে সময় লাগে, কিন্তু একবার উৎপাদন শুরু হলে বহু বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। এর ফলে কৃষকদের নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি হয়। অনেক কৃষক এখন ঐতিহ্যগত চাষের পাশাপাশি ফলের বাগানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সরকারি সূত্রে খবর, রাজ্যের বহু ব্লকে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার একর জমিতে ফলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। আগামী দিনে এই প্রকল্প আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যুব সমাজকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে গ্রামেই কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। গ্রামীণ উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে এই প্রকল্প একটি আলাদা দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে এই উদ্যোগ।
ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে ‘বিরসা হরিত গ্রাম যোজনা’ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কৃষকদের অভিজ্ঞতা বলছে, এই প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলের বাগানকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মধ্যে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ জীবনে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করছে। অনাবাদি জমিকে উৎপাদনশীল করে তোলার এই প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ব্যবস্থার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India T20 World Cup 2026 Champions | বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের রাজত্ব! নিউজিল্যান্ডকে ৯৭ রানে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চাম্পিয়ন ভারত



