সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে আবারও নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ -এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতভাবে জালালাবাদ (Jalalabad)-এর নাম বদলে ‘পরশুরামপুরী’ (Parshurampuri) করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফেও এই সিদ্ধান্তে সায় মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত শিলমোহর দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, এই নাম পরিবর্তন শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নামকরণ হওয়া উচিত। জালালাবাদ একটি নির্দিষ্ট সময়ের ছাপ বহন করছিল, পরশুরামপুরী নামটি আমাদের প্রাচীন ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সনাতনী ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ, যা এই সিদ্ধান্তের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
‘পরশুরামপুরী’ নামটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে হিন্দু পুরাণের অন্যতম চরিত্র ঋষি পরশুরাম (Parashurama) -এর স্মৃতি। স্থানীয় স্তরে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি উঠছিল, এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বকে সামনে রেখে নাম পরিবর্তন করা হোক। প্রশাসনের একাংশের মতে, বহু প্রাচীন কাহিনি ও লোকবিশ্বাসে এই অঞ্চলকে পরশুরামের তপস্যার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সরকারি সূত্রে খবর, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) কাছে পাঠানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় অনুমোদন মেলার পর রাজ্য মন্ত্রিসভা সেটিকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাইনবোর্ড, সরকারি নথি, মানচিত্রসহ সমস্ত ক্ষেত্রেই নতুন নাম প্রয়োগ করা হবে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। ধাপে ধাপে সমস্ত নথিপত্র আপডেট করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির মধ্যে উৎসাহ দেখা গিয়েছে। এক সংগঠনের এক নেতা বলেন, ‘এটা কেবল নাম বদল নয়, নিজেদের পরিচয়কে সামনে আনার প্রচেষ্টা।’ তাঁদের মতে, জালালাবাদ নামটি মুঘল যুগের প্রভাব বহন করত, নতুন নাম সেই ইতিহাসের বাইরে গিয়ে ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরবে। অন্য দিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে ইতিহাসের একটি অংশকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু নেতার বক্তব্য, ‘নাম বদল করে উন্নয়ন সম্ভব নয়, মানুষের বাস্তব সমস্যার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।’ সমাজের একাংশের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কিন্তু, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। বরং প্রাচীন ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আগে যে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, তার ধারাবাহিকতাতেই এই সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, যোগী আদিত্যনাথের আমলে উত্তরপ্রদেশে একাধিক শহর ও স্থানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এলাহাবাদ (Allahabad) -এর নাম বদলে প্রয়াগরাজ (Prayagraj), ফৈজাবাদ (Faizabad) -এর পরিবর্তে অযোধ্যা (Ayodhya) নামকরণ, এই সব পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। জালালাবাদ থেকে পরশুরামপুরী নামকরণ সেই ধারারই আর একটি অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাম পরিবর্তনের এই প্রবণতা শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ। এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এই ধরনের সিদ্ধান্ত কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার উপর। বর্তমানে জালালাবাদ থেকে পরশুরামপুরী নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে আলোচনা তুঙ্গে। একাংশের সমর্থন যেমন রয়েছে, তেমনই অন্য অংশে প্রশ্নও উঠছে। আগামী দিনে এই পরিবর্তন কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Yogi Adityanath mafia statement | ‘মাফিয়াদের শেষ করাই পছন্দ’ : যোগী আদিত্যনাথ -এর মন্তব্যে নতুন বিতর্ক, উত্তরপ্রদেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জোর আলোচনা




