সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Dr. Syama Prasad Mookerjee)-এর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে কলকাতায় এক দিনের সফরে এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সোমবারের এই সফর ঘিরে সকাল থেকেই শহরে রাজনৈতিক তৎপরতা চোখে পড়ে। বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) ও দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।
দুপুরের আগেই অমিত শাহ দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর (Bhawanipur)-এ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাসভবনে পৌঁছন। সেখানে তিনি প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন এবং পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। ওই সময় তিনি বলেন, ‘ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শুধু বাংলার নয়, সমগ্র দেশের গর্ব। তাঁর চিন্তাধারা আজও জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক।’ এই মন্তব্য ঘিরে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সাড়া পড়ে। এরপর বিকেলের দিকে নিউ টাউন (New Town)-এর ইকো পার্ক (Eco Park)-এ পৌঁছন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে ১২৫ ফুট উচ্চতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভূমিপূজন সম্পন্ন হয়। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে তা শহরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘এই মূর্তি কেবল স্থাপত্য নয়, একটি আদর্শের প্রতীক হিসেবে দাঁড়াবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখান থেকে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার পাঠ নেবে।’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবধারাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই উদ্যোগ বাংলার ঐতিহাসিক স্মৃতিকে নতুন করে সামনে আনবে। সন্ধ্যায় বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণ (Biswa Bangla Mela Prangan)-এ আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন অমিত শাহ। সংস্কৃতি মন্ত্রক (Ministry of Culture) এবং রাজ্য সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুল মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দেশ গঠনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। অমিত শাহ তাঁর ভাষণে বলেন, ‘দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের কাছে চিরস্মরণীয়।’ পাশাপাশি তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে তাঁর আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ, আইনজ্ঞ ও রাজনীতিক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Calcutta) উপাচার্য হিসেবে তাঁর কাজ আজও আলোচিত। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন, যা পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)-র ভিত্তি তৈরি করে। কাশ্মীর ইস্যুতে তাঁর অবস্থান ও আন্দোলন তাঁকে জাতীয় স্তরে বিশেষ পরিচিতি দেয়। তাঁর মৃত্যু আজও বহু প্রশ্নের জন্ম দেয় এবং রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসে বারবার।
কলকাতায় অমিত শাহের এই সফরকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তৎপরতা দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই সফর দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যম তৈরি করবে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বহু মানুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করতে এসে অংশ নেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। তাঁদের একাংশের মতে, ‘এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে।’ দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচী শেষ করে সন্ধ্যার পরই দিল্লির (New Delhi) উদ্দেশ্যে রওনা দেন অমিত শাহ। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দুই ক্ষেত্রেই আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal anti social activities bill 2026, Suvendu Adhikari new law details | ‘গুন্ডাদমনে’ কড়া পথে বাংলা! এক বছর আটক, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত : নতুন আইনে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের



