সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বারুইপুর : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর (Baruipur) এলাকায় নাবালিকা খুনের ঘটনায় উঠে এল ভয়াবহ তথ্য। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের অনুমান, কিশোরীকে খুন করার পর নয়, বরং জীবিত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসতেই গোটা ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত নাবালিকার ফুসফুসে কাদা মিশ্রিত জল পাওয়া গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর পরে দেহ জলে ফেলা হলে সাধারণত ফুসফুসে জল ঢোকে না। কিন্তু ডুবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ফুসফুসে জল থাকার ঘটনা দেখা যায়। সেই কারণেই তদন্তকারীদের ধারণা, কিশোরীকে যখন পুকুরে ফেলা হয়, তখনও সে বেঁচে ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আরও উল্লেখ রয়েছে, নাবালিকার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথাতেও গভীর ক্ষত রয়েছে, যা কোনও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা অথবা শক্ত কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লাগার ফল হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ওই আঘাতের ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অতিরিক্ত রক্তপাত এবং জলে ডুবে শ্বাসরোধ, এই দুই বিষয় সামনে এসেছে। চিকিৎসকদের অনুমান, শনিবার গভীর রাতেই নাবালিকার মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে সিসিটিভি ফুটেজ। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিকেল ৪টে ৪১ মিনিট নাগাদ সূর্যপুর বাজার (Suryapur Bazaar) -এর মূল রাস্তা দিয়ে ওই নাবালিকাকে একা হেঁটে যেতে দেখা যায়। তার কয়েক কদম পিছনে লাল টি-শার্ট ও নীল টুপি পরা এক যুবককে দেখা যায়। প্রায় তিন মিনিট পরে ওই একই যুবকের সঙ্গে নাবালিকাকে ফিরে আসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের মতে, ওই যুবক প্রভাস মণ্ডল (Prabhas Mondal)। এই সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে রবিবার সকালে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয় বলে উল্লেখ। প্রভাসকে সঙ্গে নিয়েই পুলিশ ওই জায়গায় পৌঁছয়। প্রভাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে, যাদের এই ঘটনায় যুক্ত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, প্রভাস মণ্ডল এলাকায় মাদকাসক্ত ও বেকার যুবক হিসেবে পরিচিত। তবে জেরায় তিনি একাধিকবার বয়ান বদলেছেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। পরে জানান, চারজন ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে নাবালিকাকে নিয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে আনন্দ সর্দার (Ananda Sardar) -এর নাম উল্লেখ করেন তিনি। প্রভাসের দাবি, আনন্দ নাবালিকাকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিলেন।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রভাসের বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে। কারণ, যদি তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকেন, তবে কীভাবে খুনের ধরন বা দেহ ফেলার স্থান সম্পর্কে তিনি জানলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে সিসিটিভিতে দেখা যায়, নাবালিকা নিজেই তাঁর সঙ্গে ফিরছে। সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে সে আবার অন্যদের হাতে যায়, তা এখনও পরিষ্কার নয়। শুধু প্রভাস নয়, অন্য ধৃতদের বক্তব্যেও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকতে পারেন। এই তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারীরা দু’টি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। প্রথমত, নির্যাতিতা এবং অভিযুক্তরা একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায়, নাবালিকা তাঁদের চিনে ফেলেছিল। সেই কারণে প্রমাণ নষ্ট করতে তাকে হত্যা করা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, শনিবার রাত থেকেই নাবালিকার খোঁজ শুরু হয়ে যায়। সেই খবর অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছয়। ধরা পড়ার ভয়েই তার মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে তাকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশের ধারণা, মাথায় গুরুতর আঘাতের ফলে নাবালিকা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। সেই অবস্থাতেই তাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, ‘বস্তাটা তার দিয়ে বাঁধা ছিল, তবে ছেঁড়া ছিল। মনে হয়, বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল।’ এই মন্তব্য গোটা ঘটনাকে আরও শিউরে ওঠার মতো করে তুলেছে।
ঘটনার পুনর্গঠন করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ধৃতদের জেরা থেকে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। উল্লেখ্য, বারুইপুরের এই ঘটনা আবারও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে সকলের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Japan defense agreement | জাপানের অস্ত্র পেতে চলেছে ভারত, ক্ষুব্ধ চিন -এর সতর্কবার্তা ঘিরে ইন্দো-প্যাসিফিকে নতুন কূটনৈতিক উত্তাপ




