সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কোচ বিহার : অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা না-পাওয়া নিয়ে রাজ্যের একাধিক জেলায় ক্ষোভ তীব্র আকার নিচ্ছে। বহু মহিলা আবেদন জমা দেওয়ার পরেও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ ঢোকেনি বলে অভিযোগ করছেন। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। কোচবিহার (Cooch Behar) জেলার মেখলিগঞ্জ (Mekliganj) পুরভবনে গিয়ে ক্ষুব্ধ মহিলারা পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে ডিম নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানান, যা প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী মালতি রাভা রায় (Malati Rava Roy) রবিবার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি জানান, যেসব মহিলার আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো হবে। আবেদন কেন বাতিল হয়েছে, কোন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এত বড় পরিসরে স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবুও কোথাও যদি ত্রুটি থেকে থাকে, তা খুঁজে বের করা হবে।’
রাজ্যের মন্ত্রী আরও বলেন, ইতিমধ্যেই এসিডিও (SDO), বিডিও (BDO) ও গ্রাম পঞ্চায়েত (GP) স্তরে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘কেন আবেদন রিজেক্ট হল, সেই কারণগুলো বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যসচিবের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে বৈঠক হয়েছে। আমরা চাই প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে তাঁদের প্রাপ্য টাকা পান,’ বলেন মালতি রাভা রায়। অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পটি মূলত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে সহায়তা করার লক্ষ্যেই চালু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বহু আবেদনকারী টাকা না-পাওয়ায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করছেন, আবেদন করতে অর্থ খরচ করেও কোনও লাভ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘কারা কোথায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, সেটাও আমরা নজরে রাখছি। তবে যাঁরা প্রকৃত যোগ্য, তাঁরাই এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও ধরনের পক্ষপাত বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। শনিবার বাঁকুড়া (Bankura) জেলার শালতোড়া (Saltora) বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি (Chandana Bauri) গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, নির্দিষ্টভাবে শাসক দলের ঘনিষ্ঠ পরিবারের মহিলাদেরই এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিডিও অফিসের ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের মাধ্যমে এই বাছাই প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে। চন্দনা বাউড়ি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) -এর কাছে তুলে ধরবেন ও প্রয়োজন হলে উচ্চস্তরে তদন্তের দাবি জানাবেন। তাঁর কথায়, ‘সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন, আর নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন, এটা চলতে পারে না।’
রাজ্য প্রশাসনের তরফে অবশ্য এই অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে পৃথক তদন্তের ব্যবস্থা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, অন্নপূর্ণা যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রকল্পে এই ধরনের অভিযোগ ও অসন্তোষ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে এই প্রকল্পের উপর বহু পরিবারের নির্ভরতা রয়েছে। ফলে, আবেদন বাতিল হওয়ার প্রকৃত কারণ জানা এবং যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা এখন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান কাজ হয়ে উঠেছে। সরকারি সূত্রে খবর, খুব শিগগিরই ব্লক এবং পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ শিবির আয়োজন করা হতে পারে, যেখানে আবেদনকারীদের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল ডেটা যাচাই প্রক্রিয়াও আরও কড়া করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যা কমে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নজর এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আবেদন বাতিলের প্রকৃত কারণ সামনে আসবে কি না ও যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁরা কবে প্রাপ্য অর্থ পাবেন, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Annapurna Bhandar Scheme West Bengal | সুন্দরবনে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সূচনা, হিঙ্গলগঞ্জে ৫ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা, নতুন প্রকল্পে জোর রাজ্য সরকারের




