সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু করলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। পুরনো একটি এফআইআর ঘিরে পুলিশের সক্রিয়তার সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে, নিজের দায়ের করা অভিযোগে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্ন তুলে এবং বিরোধী সাংসদ হিসেবে নিরাপদে কাজ করার নিশ্চয়তা চেয়ে জোড়া মামলা দায়ের করেছেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Sougata Bhattacharya)-এর এজলাসে এই মামলাগুলি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আগামী ৮ জুলাই শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। আদালতে দায়ের করা প্রথম মামলায় মহুয়ার অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া একটি এফআইআরকে কেন্দ্র করে পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। সেই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। সেই কারণেই আদালতের কাছে তিনি অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বা রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় তিনি দাবি করেছেন, একজন বিরোধী দলের সাংসদ হিসেবে তাঁর কাজের ক্ষেত্র যাতে বিঘ্নিত না হয় এবং নিজের এলাকায় যাতে নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন, তার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে নদীয়ার কালীগঞ্জ এলাকায়। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মহুয়া। অভিযোগ, সেই সময় কার্যালয়ের বাইরে কিছু লোক জড়ো হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। সাংসদের দাবি, এই ব্যক্তিরা বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-র সঙ্গে যুক্ত। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন কালো পতাকা দেখানো হয় এবং কার্যালয়ের দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর মহুয়া স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মহুয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘আমার অভিযোগে পুলিশ তৎপরতা দেখায়নি, কিন্তু আমার বিরুদ্ধে পুরনো মামলায় তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।’ তিনি আরও জানান, এই দ্বৈত আচরণ তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া তাঁর সামনে অন্য কোনও পথ ছিল না। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীগঞ্জের ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ৩৫(৩) ধারায় মহুয়ার কাছে একটি নোটিস পাঠানো হয়। সেই নোটিস ইমেলের মাধ্যমে পৌঁছয় এবং সাংসদ তার জবাবও দেন। তবে আদালতে তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইন অনুযায়ী নোটিসটি যথাযথ পদ্ধতিতে সরাসরি তাঁর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়নি। বরং একটি নির্মীয়মাণ ভবনের দেওয়ালে সেটি সাঁটিয়ে দেওয়া হয়, যা আইনসম্মত নয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৬ জুন করা একটি মন্তব্য ঘিরেও মহুয়ার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অনলাইন মাধ্যমে করা সেই মন্তব্যে তিনি বলেন, আদালতের বাইরে যারা তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে আসে, তাদের বোরখা পরে আসা উচিত যাতে মুখ চেনা না যায়। এই মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়। ২৮ জুন হোগালবেরিয়া থানায় এই অভিযোগ নথিভুক্ত হয় বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মহুয়ার আশঙ্কা, ওই মামলাকে সামনে রেখে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে। সেই কারণেই তিনি আদালতের কাছে সুরক্ষার আবেদন করেছেন। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, ‘আইন মেনে চলতে গিয়ে আমাদের মক্কেল যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, তার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
ঘটনার দিন মহুয়ার ফেসবুক লাইভও রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছিল। লাইভে দেখা যায়, কার্যালয়ের ভিতর থেকে তিনি পরিস্থিতির বর্ণনা দিচ্ছেন এবং বাইরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর দাবি, পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। লাইভ চলাকালীনই কার্যালয়ের জানলার দিকে ডিম ছোড়া হয়, যা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) এবং বিজেপি দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। তবে আইনি লড়াই এখন পৌঁছে গিয়েছে হাই কোর্টের দোরগোড়ায়, যেখানে আগামী শুনানি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচী ও জন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে দিশা দেখাতে পারে। এখন নজর ৮ জুলাইয়ের শুনানির দিকে, যেখানে আদালত কী নির্দেশ দেয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Cristiano Ronaldo Creates History with Goals in 6 World Cups | FIFA World Cup 2026 : ছ’টি বিশ্বকাপে গোল! ইতিহাসে একমাত্র নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো! FIFA World Cup 2026-এ নতুন মাইলফলক




