সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বৈবাহিক সম্পর্ক হোক কিংবা প্রেমের বন্ধন, সম্পর্কের ভিতরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি ভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে উঠে আসছে এমন অভিযোগ, যেখানে পুরুষদের বিরুদ্ধে না, বরং পুরুষরাই নিজেদের নির্যাতিত বলে দাবি করছেন (Male abuse)। শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এই প্রবণতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবুও বহু ক্ষেত্রেই এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে না, থেকে যায় ব্যক্তিগত জীবনের গোপন পরিসরে। আইন ও সমাজ দুই ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একপাক্ষিক ধারণা কাজ করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। অধিকাংশ আইনি কাঠামো মূলত নারীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তৈরি হওয়ায় পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট সহায়তা ব্যবস্থা অনেক সময় সীমিত বলে অভিযোগ উঠছে। ফলে সমস্যায় পড়লেও অনেক পুরুষ আইনের দ্বারস্থ হতে দ্বিধা বোধ করেন। একাধিক ক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্য, ‘অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমেই বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।’
মানসিক নির্যাতন, আর্থিক চাপ, অপমানজনক আচরণ, এই ধরনের অভিযোগই বেশি উঠে আসছে। অনেকেই দাবি করছেন, সম্পর্কের মধ্যে ক্রমাগত হেনস্থা বা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলছে। কিন্তু সামাজিক ধারণা এমন যে, পুরুষদের ‘সহ্যশক্তি’ বেশি, এই ভাবনা থেকেই অনেক সময় তাঁদের কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সমস্যার কথা বললে অনেকেই হাসাহাসি করে, কেউ গুরুত্ব দেয় না।’ সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, সম্পর্কের ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা যেকোনও দিকেই হতে পারে। তবে পুরুষ নির্যাতনের প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে এখনও এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করে। পরিবার বা বন্ধুমহলেও বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা খুব একটা হয় না। ফলে সমস্যার সমাধান তো দূরের কথা, অনেকেই নিজের অভিজ্ঞতাও প্রকাশ করতে পারেন না।
আইনি কাঠামোর ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠছে। গার্হস্থ্য হিংসা আইনসহ বেশ কিছু আইন নারীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি হলেও পুরুষদের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি সহায়তার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই সাধারণ ধারায় মামলা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতেও নানা জটিলতা তৈরি হয়। এক আইনজীবীর কথায়, ‘আইনের প্রয়োগে সমতা থাকা জরুরি, যাতে যে কোনও পক্ষই প্রয়োজন হলে সুরক্ষা পায়।’ মনোবিদদের মতে, নির্যাতনের প্রভাব শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও গভীর হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অপমান বা মানসিক চাপ সহ্য করলে তা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে তা হতাশা, উদ্বেগ বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবুও সামাজিক ধারণার কারণে পুরুষরা সহজে সাহায্য চাইতে চান না।
পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রেও একটি বড় সমস্যা রয়েছে। অধিকাংশ ঘটনাই আনুষ্ঠানিক ভাবে নথিভুক্ত হয় না। ফলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসে না। গবেষণা বা সমীক্ষার ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি নিয়ে তথ্য সীমিত। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলেও তা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
সোশ্যাল মিডিয়া এই প্রসঙ্গে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। বিভিন্ন অনলাইন ফোরাম বা গ্রুপে অনেক পুরুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। সেখানে উঠে আসছে সম্পর্কের জটিলতা, আইনি সমস্যার অভিজ্ঞতা এবং মানসিক চাপের কথা। তবে এই আলোচনাগুলি এখনও মূলধারার আলোচনায় পুরোপুরি জায়গা করে নিতে পারেনি। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু দেশে ইতিমধ্যেই জেন্ডার-নিউট্রাল আইন নিয়ে ভাবনা শুরু হয়েছে, যেখানে নির্যাতনের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর লিঙ্গ নয়, ঘটনাটির প্রকৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতে এই বিষয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। সমাজের একাংশ মনে করছে, সব পক্ষের জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এই প্রসঙ্গে সতর্কতার কথাও বলা হচ্ছে। সম্পর্কের মধ্যে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনও একটি দিককে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য দিক উপেক্ষিত হলে তা নতুন সমস্যার জন্ম দিতে পারে। তাই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান সময়ে সম্পর্কের ধারণা ও সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ধরনের সমস্যাও সামনে আসছে। পুরুষ নির্যাতনের অভিযোগ সেই পরিবর্তনেরই একটি দিক, যা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এখনও অনেকটাই আড়ালে রয়ে গেছে। নীরবতার এই পর্দা সরিয়ে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা শুরু হলে তবেই বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aamir Khan Marriage 2026 | Who is Gauri Spratt Profession and Personal Life : তৃতীয় বিয়ের আগে চর্চায় আমির! গ্ল্যামার দুনিয়ার বাইরে থেকেও আলোচনায় গৌরী স্প্র্যাট, কে এই গৌরী?




