সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ মেক্সিকো সিটি, মঙ্গলবার: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। রাউন্ড অফ ৩২-এ আয়োজক দেশ মেক্সিকো (Mexico) -এর বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগের রাতে ইকুয়েডর (Ecuador) দলের ফুটবলারদের বিশ্রামে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ম্যাচের আগের রাতেই ইকুয়েডর দলের হোটেলের বাইরে জড়ো হয়ে কয়েকশো মেক্সিকো সমর্থক যে ধরনের আচরণ করেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার গভীর রাতে। মেক্সিকো সিটির একটি হোটেলে ছিল ইকুয়েডর দলের থাকার ব্যবস্থা। অভিযোগ, রাত বাড়তেই সেই হোটেলের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেন মেক্সিকোর সমর্থকেরা। প্রথমে স্লোগান, তারপর চিৎকার, এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি অন্য রূপ নেয়। কেউ ড্রাম বাজাতে শুরু করেন, কেউ গাড়ির হর্ন বাজান, আবার কেউ উচ্চস্বরে গান বাজাতে থাকেন সাউন্ড সিস্টেমে। দীর্ঘ সময় ধরে এই শব্দ চলতে থাকে।
ইকুয়েডর শিবিরের দাবি, এর উদ্দেশ্য ছিল একটাই, খেলোয়াড়দের রাতের ঘুম নষ্ট করা। যাতে ম্যাচের আগে যথাযথ বিশ্রাম না পেয়ে মাঠে নামতে হয় তাঁদের। দলের এক সদস্যের কথায়, ‘রাতভর শব্দের মধ্যে থাকা অত্যন্ত কঠিন ছিল। বিশ্রামের প্রয়োজন থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।’ যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে দলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও এই পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলেছে। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হোটেলের বাইরে ভিড় করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সমর্থকেরা। কেউ পতাকা নাড়ছেন, কেউ স্লোগান দিচ্ছেন, আবার কেউ সঙ্গীতের তালে তালে নাচছেন। একাধিক ভিডিওতে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে লাগাতার শব্দের চিত্র ধরা পড়েছে। কিছু ফুটবলারকে হোটেলের জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকাতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি যে তাঁদের অস্বস্তিতে ফেলেছিল, তা বোঝা যায়।
বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় ম্যাচের আগে বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। সেই জায়গাতেই আঘাত করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফুটবল মহলে এই ধরনের আচরণ নতুন নয়, তবে এত বড় মঞ্চে তা ফের সামনে আসায় বিতর্ক তীব্র হয়েছে। মেক্সিকোর সমর্থকদের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আয়োজক দেশের দায়িত্ব কি শুধুই ম্যাচ পরিচালনা, নাকি প্রতিপক্ষ দলের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ? আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় এই ধরনের ঘটনা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মতে, সমর্থকদের আবেগ ও উচ্ছ্বাস স্বাভাবিক হলেও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। প্রতিপক্ষ দলকে মানসিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা খেলাধুলার অংশ হতে পারে, কিন্তু তা যেন নিয়মের সীমা অতিক্রম না করে, এই মত উঠে আসছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে যেখানে প্রতিটি দেশের ভাবমূর্তি জড়িয়ে থাকে, সেখানে এই ধরনের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইকুয়েডর শিবির এই ঘটনার বিরুদ্ধে ফিফা (FIFA)-র কাছে অভিযোগ জানিয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে এই ধরনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি তদন্ত করেছে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে এই ঘটনাতেও নজরদারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মেক্সিকোর সমর্থকদের একাংশ এই ঘটনাকে ‘দলের পাশে দাঁড়ানোর এক রকম উপায়’ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘আমরা আমাদের দলকে সমর্থন করেছি, এতে ভুল কিছু নেই।’ যদিও এই যুক্তি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সহজে থামার নয়। খেলাধুলার মানসিকতা, সমর্থকদের আচরণ এবং আয়োজকদের দায়িত্ব, এসব কিছুই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। আসলে বিশ্বকাপ এক ধরনের বৈশ্বিক উৎসব। সেখানে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সমর্থকদের আচরণও নজরে থাকে। সেই প্রেক্ষিতে মেক্সিকো সিটির এই ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী ব্যবস্থা করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mexico vs Ecuador World Cup, World Cup Mexico win | ইকুয়েডরকে হারিয়ে শেষ ১৬-য় মেক্সিকো, বিশ্বকাপে জয়ের ধারা অব্যাহত




