সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ মেক্সিকো সিটি, বুধবার: বিশ্বকাপের মঞ্চে আয়োজক দেশ হিসেবে দায়িত্বের চাপ থাকে, প্রত্যাশার ভারও থাকে দ্বিগুণ। সেই চাপ সামলে দুরন্ত পারফরম্যান্সে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল মেক্সিকো (Mexico)। মঙ্গলবার রাতে (ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে) অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারা ২-০ গোলে পরাস্ত করল ইকুয়েডরকে (Ecuador)। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই গোল করে কার্যত জয় নিশ্চিত করে দেয় লাতিন আমেরিকার এই শক্তিশালী দল। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে শুরু হয় ম্যাচ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে নামে মেক্সিকো। অন্যদিকে, আগের ম্যাচে জার্মানিকে (Germany) হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ইকুয়েডর এ দিন ছন্দ খুঁজে পায়নি। বরং ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটেই একাধিক সুযোগ নষ্ট করে তারা চাপে পড়ে যায়। মেক্সিকোর তরুণ প্রতিভা গিলবার্তো মোরা (Gilberto Mora) দু’টি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন, আর একবার বাইরে শট মারেন রাউল জিমেনেজ় (Raul Jimenez)। তবুও আক্রমণের ধার দেখে বোঝা যাচ্ছিল গোল আসতে সময় লাগবে না।
২২ মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান। রবার্তো আলভারাদো (Roberto Alvarado)-র পাস পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান জুলিয়ান কিনোনেস (Julian Quinones)। বক্সের সামনে এসে ডান দিকে কাট করে শক্তিশালী শটে বল জালে জড়ান তিনি। গোলকিপারের নাগালের বাইরে থাকা সেই শটে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। গোলের পর সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। প্রথম গোলের মাত্র নয় মিনিট পরেই ব্যবধান বাড়ায় মেক্সিকো। ইকুয়েডরের বক্সের সামনে সুন্দর পাস আদানপ্রদানের পর বল পান রাউল জিমেনেজ়। নিখুঁত শটে তিনি দ্বিতীয় গোলটি করেন। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় আয়োজক দেশ।
ইকুয়েডর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও তাদের খেলায় ধার দেখা যায়নি। আক্রমণভাগে সমন্বয়ের অভাব এবং মাঝমাঠে বল দখলে রাখতে না পারা তাদের সমস্যায় ফেলে। উপরন্তু ম্যাচের এক পর্যায়ে লাল কার্ড পেয়ে আরও বিপাকে পড়ে দলটি। ফিফা (FIFA) -এর নিয়ম অনুযায়ী মাঠে মুখ ঢেকে কথা বললে শাস্তির বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম ভেঙে মেক্সিকোর স্ট্রাইকার সান্তিয়াগো জিমেনেজ় (Santiago Jimenez)-এর সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢাকেন ইকুয়েডরের হিনক্যাপিয়ে (Hincapie)। বিষয়টি নজরে আসতেই রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ (Slavko Vincic) ভার (VAR) -এর সাহায্যে সিদ্ধান্ত নেন এবং তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এরপর ১০ জনে নেমে আরও চাপে পড়ে ইকুয়েডর।
ম্যাচের আগে অন্য একটি বিতর্কও সামনে আসে। অভিযোগ, ইকুয়েডর দলের হোটেলের সামনে রাতভর শব্দ করে তাঁদের বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন কিছু মেক্সিকান সমর্থক। ঢোল, বাজনা ও আতসবাজির আওয়াজে বিরক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলে ইকুয়েডর শিবির। বিষয়টি নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ জানানো হয়। যদিও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রভাব তেমন দেখা যায়নি। মেক্সিকোর এই জয় শুধু নকআউট পর্বে পৌঁছনো নয়, বরং দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানও বটে। ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনও ম্যাচ জিতল তারা। ফলে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। অনেকেই ইতিমধ্যেই ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। যদিও সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড (England) বনাম কঙ্গো (Congo) ম্যাচের বিজয়ী দল। সেই ম্যাচে জয় পেতে হলে আরও ধারালো ফুটবল খেলতে হবে মেক্সিকোকে। আগের ম্যাচগুলির তুলনায় এ দিন তাদের পারফরম্যান্সে উন্নতি দেখা গেলেও নকআউটের লড়াইয়ে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আয়োজক দেশ হিসেবে দর্শকদের সমর্থন মেক্সিকোর বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছে। তবে একইসঙ্গে প্রত্যাশার ভারও বহন করতে হচ্ছে দলকে। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা সেই চাপ সামলাতে পারলে মেক্সিকো আরও দূর যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি ম্যাচই কার্যত ফাইনালের মতো। সেখানে মেক্সিকোর ধারাবাহিকতা কতটা বজায় থাকে, সেটাই এখন দেখার। আপাতত ইকুয়েডরকে হারিয়ে শেষ ১৬-য় জায়গা নিশ্চিত করে আত্মবিশ্বাসী মেক্সিকো শিবির।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Orlando Gill Paraguay, Paraguay vs Germany World Cup | জার্সি-জুতো বিক্রি করে সন্তানের চিকিৎসা, জার্মানির স্বপ্ন ভাঙা নায়ক! অরল্যান্ডো গিলের অবিশ্বাস্য লড়াই বিশ্বকাপে আলোচনায়




