সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee)-এর বক্তব্যকে ঘিরে। দলবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)-এর ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে, এমন অভিযোগ বহুদিনের। কখনও ‘গদ্দার’ তকমা, কখনও ব্যক্তিগত কটাক্ষ, এই আবহের মধ্যেই এবার জনসভা থেকে সরাসরি পাল্টা জবাব দিলেন রচনা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল সংসদের ভাষা, রাজনৈতিক আচরণ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রসঙ্গ। একইসঙ্গে তাঁর নিশানায় এলেন তৃণমূলের আর এক সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সাম্প্রতিক এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমেই মহুয়া মৈত্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হাওয়ার্ড থেকে পড়াশোনা করে আসা একজন সাংসদের মুখের ভাষা যদি এমন হয়, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাঁকে কেন সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, সেটাও মানুষ জানে। নিজেকে একেবারে নির্মল হিসেবে তুলে ধরার জায়গা নেই।’ এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এরপরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে রচনা তাঁর বক্তব্য আরও তীক্ষ্ণ করেন। তাঁর কথায়, ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সিনিয়র সাংসদ। সংসদের মতো মর্যাদাপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে যে ধরনের ভাষা তিনি ব্যবহার করছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ রচনা দাবি করেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে সাধারণ মানুষ ভিন্ন ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করে।
সংসদের ভিতরে ব্যবহৃত কিছু শব্দ নিয়ে সরব হয়ে রচনা বলেন, ‘যে শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়েছে, তা অত্যন্ত অশালীন। এই ধরনের ভাষা উত্তর কলকাতার নির্দিষ্ট এলাকাতেই বেশি শোনা যায়।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সংসদে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তর্ক-বিতর্কও চলবে, কিন্তু তার একটি সীমারেখা থাকা জরুরি। ‘রাজনীতি মানেই ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়’ এই বার্তাই তুলে ধরতে চান তিনি। দলবদলের পর থেকেই রচনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার তাঁকে কটাক্ষ করেছেন বলে অভিযোগ। এর আগে একাধিক সভা ও বক্তব্যে রচনাকে উদ্দেশ করে তীব্র ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও তাঁর দাবি। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেত্রী-সাংসদ।
রচনার এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে শাসকদলের একাংশ এই মন্তব্যকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বাড়ানো’ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবির বলছে, ‘সংসদের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা সময়োপযোগী।’ যদিও এই বিষয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বা মহুয়া মৈত্র দু’জনের কেউই এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ, ব্যক্তিগত আক্রমণ বনাম রাজনৈতিক মতবিরোধ, এই দুইয়ের সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। রচনার বক্তব্য সেই বিতর্ককেই সামনে নিয়ে এসেছে।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ‘সংসদে বিতর্ক হবে, মতের অমিল থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভাষার একটি শালীনতা থাকা উচিত। মানুষ আমাদের দেখে শেখে।’ তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রশ্নও উঠে এসেছে। এদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বিতর্ক নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই রচনার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক মঞ্চে এই ধরনের ব্যক্তিগত মন্তব্য আরও উত্তেজনা বাড়ায়।
রচনার বক্তব্যে একদিকে যেমন প্রতিবাদের সুর, অন্যদিকে রাজনৈতিক আচরণের মান নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, জনপ্রতিনিধিদের ভাষা ও আচরণ সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে। তাই দায়িত্ববোধ আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। রচনার এই মন্তব্যের জবাবে তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট নেতারা কী অবস্থান নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পাশাপাশি সংসদের ভাষা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা আগামী দিনে আরও বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rachana Banerjee : হুগলিতে লকেট চট্টোপাধ্যায় পরাজিত, জিতলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়




