Jan Aushadhi Kendra | ১২ বছরে ফার্মা খাতে বড় উত্থান, ১৯ হাজার জন ঔষধি কেন্দ্র দিয়ে সস্তায় ওষুধ পৌঁছচ্ছে দেশে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: গত এক যুগে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের। সুলভ চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া একাধিক নীতিগত পদক্ষেপের ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে সরকারি মহলের বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’র নেতৃত্বে এই সময়কালে ভারত ‘ফার্মেসি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ (Pharmacy of the World) হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বলেও জানানো হয়েছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান দিক হল ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প’ (Pradhan Mantri Bhartiya Janaushadhi Pariyojana)। ২০১৪ সালে যেখানে গোটা দেশে কার্যকর জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৪, সেখানে ২০২৬ সালে তা বেড়ে ১৯,২০০-রও বেশি হয়েছে। ফলে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত কম দামে গুণমানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নাগরিকরা চিকিৎসা খাতে মোট ৪০,০০০ কোটিরও বেশি টাকা সাশ্রয় করেছেন।

আরও পড়ুন : North East India films MIFF 2026 | উত্তর-পূর্ব ভারতের বহুস্বর এক মঞ্চে, MIFF 2026-এ বিশেষ বিভাগে ঐতিহ্য, ইতিহাস ও প্রকৃতির অনন্য চিত্র তুলে ধরছে একগুচ্ছ ছবি

উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো ভৌগোলিকভাবে দূরবর্তী অঞ্চলগুলিতেও এই প্রকল্পের প্রসার উল্লেখযোগ্য। ২০১৪ সালে যেখানে মাত্র একটি জন ঔষধি কেন্দ্র ছিল, সেখানে বর্তমানে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৭। বিভিন্ন রাজ্যেও এই প্রকল্পের সম্প্রসারণ লক্ষণীয়। উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) ৪,০৪২টি কেন্দ্র নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। এর পরে রয়েছে কেরল (Kerala), কর্নাটক (Karnataka), তামিলনাড়ু (Tamil Nadu), বিহার (Bihar) ও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। পশ্চিমবঙ্গেই বর্তমানে ৯৩৭টি জন ঔষধি কেন্দ্র চালু রয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে। রাজধানী নতুন দিল্লিতেও (New Delhi) এই প্রকল্পের দ্রুত বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে মাত্র চারটি কেন্দ্র ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ৬৪৫ হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu & Kashmir), পাঞ্জাব (Punjab), হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh) এবং ত্রিপুরা (Tripura)-তেও একই ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।

দেশীয় উৎপাদন জোরদার করতে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে কেন্দ্র ২০২০-২১ সালে ‘প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ (Production Linked Incentive বা PLI) প্রকল্প চালু করে। ফার্মাসিউটিক্যাল ক্ষেত্রে এই প্রকল্পে মোট ৪২,৬৯৪ কোটিরও বেশি বিনিয়োগ এসেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩.৪৩ লক্ষ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছে এবং এক লক্ষেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, ‘উচ্চমূল্যের জটিল জেনেরিক ও বায়োফার্মা ওষুধ উৎপাদনে এই প্রকল্প নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।’ মেডিক্যাল ডিভাইস ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খাতে চালু হওয়া পিএলআই প্রকল্পে ১,১৩৬ কোটির বেশি বিনিয়োগ এসেছে এবং প্রায় ২৯,৪০০ কোটির বিক্রি হয়েছে। কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের। এই পদক্ষেপ দেশের মেড-টেক (MedTech) শিল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাল্ক ড্রাগ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা বাড়াতে ‘বাল্ক ড্রাগ পার্ক’ (Bulk Drug Parks) তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh), গুজরাত (Gujarat) এবং হিমাচল প্রদেশে এই পার্কগুলি গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বমানের অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও মজবুত হচ্ছে।

পাশাপাশি মেডিক্যাল ডিভাইস পার্ক (Medical Device Parks) তৈরির প্রকল্পও বাস্তবায়িত হচ্ছে তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh)। উৎপাদন খরচ কমানো এবং যৌথ পরিকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এই খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নীতিগত সহায়তা এবং শিল্প-সরকার সমন্বয় বাড়াতে ‘ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইস প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্কিম’ (PMPDS) -এর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একাধিক শিল্প সংক্রান্ত বৈঠক ও গবেষণা উদ্যোগের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও তথ্যভিত্তিক করার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ সালের বাজেটে ঘোষিত ‘বায়োফার্মা শক্তি’ (Biopharma SHAKTI) প্রকল্পও এই খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাঁচ বছরে ১০,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের লক্ষ্য বায়োলজিক্যাল ওষুধ এবং বায়োসিমিলার উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো।

সরকারি মহলের দাবি, এই সব উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও সুলভ ও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান তৈরি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে ভারতকে বৈশ্বিক ফার্মাসিউটিক্যাল হাবে পরিণত করার লক্ষ্যেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mountain Radar India IAF, MoD BEL Contract | আত্মনির্ভর ভারতের বড় পদক্ষেপ: ১,৯৫০ কোটি টাকার ‘মাউন্টেন রাডার’ চুক্তিতে ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি আরও বৃদ্ধি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন