Mahua Moitra Controversy, TMC Rebel MPs | মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যে বিতর্ক, মানহানির মামলার পথে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্য রাজনীতি ফের উত্তাল। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে দলত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ার পর এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেন বিদ্রোহী সাংসদরা। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) -এর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন তৃণমূল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্‌স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (Nationalist Citizens Party of India বা NCPI)-তে যোগ দেওয়া একাধিক সাংসদ। সূত্রের খবর, সদ্য দলবদল করা সাংসদদের মধ্যে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বশিরহাটের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) দাবি করেছেন, ওই বৈঠকে প্রায় ২০ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন এবং সকলেই বিষয়টি নিয়ে মতামত দেন। আলোচনায় উঠে আসে, এই মন্তব্যগুলি তাঁদের ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক মর্যাদাকে আঘাত করেছে কি না, এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কি না।

মহুয়া মৈত্র। ছবি: সংগৃহীত

আরও পড়ুন : Mahua Moitra leaving TMC, Jagadish Basunia statement TMC | মহুয়া কি মমতার পাশ থেকে সরছেন! বিস্ফোরক মন্তব্যে জল্পনা উসকে দিলেন জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) -এর নেতৃত্বে ভাঙনের সূচনা হওয়ার পর লোকসভাতেও তার প্রভাব পড়ে। একাধিক সাংসদ দিল্লিতে গিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। পরে জানা যায়, ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ত্যাগ করে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন, যা বর্তমানে বিজেপি (BJP) -নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটের শরিক হিসেবে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের মধ্যে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মহুয়া মৈত্র। তিনি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর পাশে রয়েছেন। দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন ধরে তিনি একাধিকবার তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত একটি সমাজমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে মহুয়া দাবি করেন, দলত্যাগী সাংসদরা বিপুল টাকার বিনিময়ে দল ছেড়েছেন। তিনি লেখেন, ‘মাত্র ১৫ কোটি? এত কমে কেন যাচ্ছেন? আমার বিশ্বাস, আমাদের সাংসদেরা ৪ কোটি টাকা করে অগ্রিম নিয়েছেন, আর বাকি ৩৬ মাসে প্রতি মাসে ১ কোটি করে নিচ্ছেন।’ এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এই পোস্টের প্রেক্ষিতে দলত্যাগী সাংসদদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের সম্মানহানি হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy) বলেন, ‘আমরা মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য নিয়ে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভাবছি। এখনই বিস্তারিত কিছু বলব না, তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।’ তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। দলত্যাগী সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay), দেব (Dev), সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee), জুন মালিয়া (June Malia), ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan), বাপি হালদার (Bapi Halder), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Banerjee), মালা রায় (Mala Roy), শর্মিলা সরকার (Sharmila Sarkar), জগদীশ বর্মা বসুনিয়া (Jagdish Barma Basunia), অসিত মাল (Asit Mal), কালীপদ সোরেন (Kalipada Soren), আবু তাহের খান (Abu Taher Khan), খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman), পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik)-সহ আরও অনেকে।

অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি, দলত্যাগীরা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এই পথ বেছে নিয়েছেন। মহুয়ার বক্তব্য সেই প্রেক্ষিতেই এসেছে বলে দলের একাংশ মনে করছে। যদিও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে খুব বেশি মন্তব্য করা হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। একদিকে দলত্যাগীদের নতুন শিবিরে অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা, অন্যদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখার প্রয়াস এই দুইয়ের সংঘাতে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এই বিতর্কে আরও একটি দিক সামনে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রভাব। একটি পোস্ট থেকেই কীভাবে বড় রাজনৈতিক এবং আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে, তার উদাহরণ হিসেবে এই ঘটনাকে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, সত্যিই কি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়, নাকি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে এই সংঘাত। সামনে নির্বাচন না থাকলেও, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতের সমীকরণে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য এবং তার জেরে তৈরি হওয়া প্রতিক্রিয়া রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের দরজা খুলে দিল।

ছবি : সংগৃহীত 
আরও পড়ুন : Bhabanipur election case, Mamata Banerjee High Court | ভবানীপুর ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মমতা, শুভেন্দুর জয়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন