সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার রূপ বদলে দিচ্ছে বায়োফার্মাসিউটিক্যালস (Biopharmaceutical)। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে জায়গা করে নিতে প্রস্তুত ভারত, এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় রসায়ন ও সার প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল (Anupriya Patel)। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত ২য় ফার্মা সামিট অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ তিনি জানান, ‘বায়োফার্মা ক্ষেত্র আগামী দিনের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে, আর ভারত এই খাতে বিশ্বমঞ্চে বড় ভূমিকা নিতে পারে।’
এই সম্মেলনের আয়োজন করে অ্যাসোচেম (ASSOCHAM)। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী ‘বায়োফার্মা শক্তি’ (Biopharma SHAKTI) উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, ‘এই প্রকল্পের লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০টি বায়োলজিক্স বাজারে আনা, যা বিকশিত ভারত এবং সুস্থ ভারতের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।’ এই ঘোষণার পরই ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ওষুধ শিল্পের পুরো মূল্যশৃঙ্খলে শক্তিশালী নীতি ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। গবেষণা, উৎপাদন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন ঘটানোর জন্য কাজ চলছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ‘ভারত শুধু জেনেরিক ওষুধেই নয়, নতুন প্রজন্মের বায়োলজিক্স ও বায়োসিমিলার ক্ষেত্রেও নিজের সক্ষমতা বাড়াতে চলেছে।’ প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বায়োলজিক্সের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩১ সালের মধ্যে প্রেসক্রিপশন ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশই হবে বায়োলজিক্স। এই প্রেক্ষাপটে ভারতকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে বলে উল্লেখ করেন অনুপ্রিয়া প্যাটেল। তাঁর মতে, ‘আগামী দিনের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এগিয়ে থাকতে হলে উন্নত প্রযুক্তি এবং গবেষণার উপর জোর দিতেই হবে।’
তিনি আরও বলেন, উন্নত থেরাপি বা অ্যাডভান্সড থেরাপির ক্ষেত্রেও ভারত দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। পিআরআইপি (PRIP Scheme) এবং ন্যাশনাল বায়োফার্মা মিশন (National Biopharma Mission)-এর মতো উদ্যোগগুলি ইতিমধ্যেই গবেষণা ও উৎপাদনের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করেছে। পাশাপাশি বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্স কাউন্সিল (BIRAC)-এর বিভিন্ন প্রকল্প যেমন বায়োটেক ইগনিশন গ্রান্ট (Biotech Ignition Grant), এসবিআইআরআই (SBIRI) এবং বিপ (BIPP)—নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহ দিচ্ছে। অনুপ্রিয়া প্যাটেল শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু সরকার নয়, শিল্পক্ষেত্রকেও এগিয়ে আসতে হবে। একসঙ্গে কাজ করলেই ভারতকে বিশ্বমানচিত্রে বায়োলজিক্সের ক্ষেত্রে আরও শক্ত জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’ একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ তৈরিতে ভারতের যে সুনাম রয়েছে, তা ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিতেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফার্মাসিউটিক্যালস দফতরের সচিব মনোজ যোশী (Manoj Joshi)। তিনি বলেন, ‘ওষুধ আবিষ্কারের গতি বাড়ানো, উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করা এখন সময়ের দাবি।’ তাঁর মতে, বায়োফার্মা শক্তি উদ্যোগ ভারতের ফার্মা শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। মনোজ যোশী আরও উল্লেখ করেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষণা পরিকাঠামো উন্নত হবে, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’ তাঁর কথায়, এই উদ্যোগ ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে উচ্চমূল্যের বায়োলজিক্স এবং বায়োসিমিলার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সাহায্য করবে।
ফার্মা সামিটে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিকে ‘ফার্মা এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদান করেন অনুপ্রিয়া প্যাটেল। এই সম্মান দেওয়া হয় ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান ও সাফল্যের জন্য। শিল্পক্ষেত্রে উদ্ভাবন এবং গবেষণার ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম বড় জেনেরিক ওষুধ উৎপাদক দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতে দ্রুত উন্নতি ঘটলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন আরও উন্নত হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের প্রভাব বাড়বে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য সাশ্রয়ী ও কার্যকর চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে ভারতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, সরকারি উদ্যোগ, শিল্পক্ষেত্রের অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এই তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে ভারত বায়োফার্মা ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। ২০৪৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু হয়েছে, যা আগামী দিনের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : RISA Timeless Tribal India, TRIFED tribal brand launch | আদিবাসী বস্ত্র ও হস্তশিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে কেন্দ্রের নতুন উদ্যোগ



